জাবিতে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জাবিতে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই

এসএম জাকির হোসাইন ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

print
জাবিতে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই

আন্দোলন এখন মজায় পরিণত হয়েছে। আন্দোলন কেন করেন? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে গেলে বেশির ভাগ মানুষ লজ্জায় উত্তর দেবে না। কিন্তু ভাব দেখলেই বোঝা যায় স্রেফ মজা। স্লোগান দেওয়া যায়, রক্ত গরম থাকে, বিপ্লবী বিপ্লবী একটা ভাব আসে। নানা বিষয়াদি। সব বিষয় উপভোগ্য।

তারা শুধু শুনেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি হয়েছে। ব্যস, এটুকুই। দুর্নীতি কে কে করেছে, কীভাবে করেছে, আদৌও সম্ভব কি-না এসবের বিচার বিশ্লেষণ লাগবে না। অনেকটা বাঘ না থাকলে ঝুপ নড়ল কেন এরকম!

যে কোনো প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে কিছু নিয়মনীতি থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ও একটা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকেই সাধারণত একজনকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় যাবতীয় সিদ্ধান্ত তিনি স্বাধীনভাবে নিতে পারেন। যিনি উপাচার্য হোন তিনি মূলত, প্রধানত, সবদিক বিবেচনায় একজন শিক্ষক। উপাচার্য নামে মাত্র তার অতিরিক্ত একটি দায়িত্ব। কেউ একজন উসকে দিয়ে বলল উপাচার্য দুর্নীতি করেছেন আর অমনি লাফ দিয়ে পড়লে হবে না। সুষ্ঠু মাথায় বিচার বিশ্লেষণ করতে হবে।

যে যে পদ্ধতি আছে সব মেনে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা বের করতে হবে তারপর আসবে সিদ্ধান্ত তারপর না হলে আন্দোলন হবে। এখন সব টপকে একজনের বিরুদ্ধে শুধু আন্দোলন জোরদার করলে হবে না। এটা ন্যায় সঙ্গত নয়। কারণ তিনিও তো একজন শিক্ষক। দুর্নীতি করার মতো অভাব তার ঘরে আছে বলে মনে হয় না।

এখন তথ্য প্রমাণ ছাড়া যদি বলেন এই উপাচার্য শিক্ষক দুর্নীতিগ্রস্ত তাহলে অনেকেই বলবে আন্দোলন পরিচালনাকারী শিক্ষকও দুর্নীতিগ্রস্ত। শিক্ষক যদি শিক্ষকদের ওপর থেকে বিশ্বাস উঠিয়ে নেয়। এই ধাক্কাটা সবার গায়েই লাগবে।

আন্দোলন হবে, করার সময়ও পাবেন এর আগে চট করে বের করে ফেলেন দুর্নীতিটা কোথায় হয়েছে, কারা করেছে। তথ্য প্রমাণ ছাড়া শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে পদ থেকে জোর করে নামানো এটা অন্যায়। আপনারা সংখ্যায় যত জনই হোন না কেন!

বঙ্গবন্ধু একটা কথা বলে গেছেন, ‘কেউ যদি ন্যায্য কথা বলেন আর তিনি যদি সংখ্যায় একজনও হয় তাহলে আমরা মেনে নেব।’ আন্দোলনকারীরা সংখ্যায় বেশি হলেও ন্যায্য কথার অভাব আছে।

এসএম জাকির হোসাইন
রাজনীতিবিদ