খুঁজে খুঁজে অযোগ্যদের ভিসি বানানো হয়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

খুঁজে খুঁজে অযোগ্যদের ভিসি বানানো হয়

কামরুল হাসান মামুন ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৫, ২০১৯

print
খুঁজে খুঁজে অযোগ্যদের ভিসি বানানো হয়

বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের ন্যায্য বিচার করতে গিয়ে আমাদের সমাজে অন্যায্য একটি ডক্ট্রিন তৈরি করে ফেলেছে। এখন কাউকে পছন্দ হয় না, তাহলে জামায়াত-শিবির লেবেল সেঁটে দিয়ে জয় বাংলা বলে ঘায়েল কর। এটার যে দেশের দীর্ঘমেয়াদি কী ক্ষতি হচ্ছে, সেই হিসাব কেউ করছে না। আবরার হত্যার সময় এই ডক্ট্রিনের সবচেয়ে নির্মম দিকটি বের হয়ে আসে। এর সবচেয়ে খারাপ দিকটা হলো ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কের ক্ষতি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া একটি ভিডিও ফুটেজ দেখলাম। সেখানে কিছু ছাত্র এবং শিক্ষক অত্যন্ত যৌক্তিক কারণে তাদের ভিসির পদত্যাগ দাবি করছেন। এই ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।

ছাত্রলীগ নেতাদের মাঝে ক্যাম্পাস উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত কাজের একটি অংশ উৎকোচ হিসেবে বণ্টন করে দেওয়া। সেই অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বরখাস্ত করা হয়েছে। যা ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করে।

এইরকম একটি ন্যক্কারজনক ঘটনার পর একজন শিক্ষক কী করে আর ভিসি পদে থাকেন? উনার তো উচিত স্ব-প্রণোদিত হয়ে পদত্যাগ করা। একটি মানুষের ন্যূনতম আত্মমর্যাদাবোধ থাকলে এই পদ আর আঁকড়ে ধরে থাকার কথা না।

সরকারই বা কেন এবং কোন যুক্তিতে উনাকে ধরে রেখেছেন! ভিসি পদটি অন্য পাঁচটা প্রশাসনিক পদ নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো সেইরকম একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল পুস্তক পড়েই ক্ষান্ত নয়। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নীতিনৈতিকতা শিক্ষাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ভিডিওতে দেখলাম একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ভিসির পদত্যাগ দাবি করছেন। শুধুই কি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই দাবি করছেন। আমি মনে করি দেশের একটি বিশাল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এই ভিসির অপসারণ চাইবে। এইরকম একজন শিক্ষককে ভিসি হিসেবে রেখে সরকার অজনপ্রিয় হওয়ার রিস্ক নিচ্ছে কেন?

এই ভিসিকে দেখলেই মনে হয় উনার মধ্যে আত্ম-অহমবোধের মারাত্মক অভাব। একজন মানুষের মধ্যে যখন সত্যিকারের জ্ঞান থাকে আর মানুষটি আলোকিত হয়, সেটা এমন জিনিস যে, সেই মানুষটির শুধু এর দাঁড়াই একধরনের সৌন্দর্যের দ্যুতি বের হবে। জ্ঞানের আলো এমনি জিনিস। এইরকম একটি বড় পদে এজন্যই একজন আলোকিত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষকে দিতে হয়। যাকে দেখলেই মানুষ শ্রদ্ধায় নুইয়ে যাবে।

আমাদের সরকারগুলো কেন আমলা আর গোয়েন্দাদের পরামর্শ নিয়ে ভিসি নিয়োগ দেয়, এর রহস্য আজও বের করতে পারলাম না। আমাদের সরকাররা কি চায় না বিশ্ববিদ্যালয় ভালো চলুক, ভালো শিক্ষক নিয়োগ পাক, ছাত্র-ছাত্রীরা উন্নতমানের শিক্ষা নিয়ে কর্মজীবনে ঢুকুক? কেন তারা খুঁজে খুঁজে অযোগ্যদের ভিসি নিয়োগ দেয়?

কামরুল হাসান মামুন
অধ্যাপক, ঢাবি