সড়ক পরিবহন আইনে অসঙ্গতি

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সড়ক পরিবহন আইনে অসঙ্গতি

সাইফুদ্দিন আহমেদ ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০১, ২০১৯

print
সড়ক পরিবহন আইনে অসঙ্গতি

এই আইন এবং শাস্তি সুচিন্ততভাবে করা হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, উল্টোপথে গাড়ি চালানোর মতো বিপজ্জনক অপরাধের জন্য শাস্তি যা যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের জন্যও শাস্তিও, দশ হাজার টাকা জরিমানা।

অতিরিক্ত গতির একটা মাপকাঠি নির্ধারিত আছে, উল্টোপথে গাড়ি চালানোটাও সহজে বোঝা যায়। কিন্তু ‘যত্রতত্র’ নির্ধারণ করবেন কি দিয়ে, কোন মানদণ্ডে? ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস, জেব্রাক্রসিং ব্যবহার না করে রাস্তা পারাপারকেই কী যত্রতত্র রাস্তা পারাপার ধরবেন? এখন বলুন ঢাকা শহরে কি পর্যাপ্ত আণ্ডারপাস, ফুটওভারব্রিজ, জেব্রাক্রসিং আছে?

তর্কের খাতিরে না হয় মানলাম আছে। কিন্তু আঞ্চলিক সড়ক, মহাসড়কের মানুষ কি করবে? সেখানে তো মাইলের পর মাইল কোন জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভারব্রিজ, আণ্ডারপাস নেই। তাহলে মহাসড়কের দু’পাশের মানুষ কি রাস্তার এপার থেকে ওপার যাওয়ার জন্য ২০/২৫ মাইল হাঁটবেন! এও কি সম্ভব?

আইনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পড়ার সুযোগ হয়নি। তাই বলতে পারছি না এই ‘যত্রতত্র’ টা কী কেবল রাজধানীসহ বড় বড় শহরের জন্য নাকি সারা দেশের সব সড়ক মহাসড়কের জন্য প্রযোজ্য।

রাস্তায় পায়ে হেঁটে যারা চলেন তাদের সবার পক্ষে কি ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া সম্ভব! একজন কোটিপতি গাড়িওয়ালা অতিরিক্ত গতিতে কিংবা উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে আইন ভেঙে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেবে, অন্যদিকে দোকানি, কেরানী, ছাত্র, হকার, ফেরিওয়ালা, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, বেকার মানুষ ‘যত্রতত্র’ আইন অমান্যের অপরাধে সেই একই পরিমাণ, অর্থাৎ দশ হাজার টাকা জরিমানা দেবে।

এটা হয় কখনো! ‘যত্রতত্র’র আভিধানিক অর্থ মেনে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হলে রাজধানী কেন, সারা দেশেই থমকে যাবে।

সাইফুদ্দিন আহমেদ
অ্যাক্টিভিস্ট