র‌্যাগ ডের এ কেমন উদযাপন!

ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২০ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

র‌্যাগ ডের এ কেমন উদযাপন!

ফায়জুল্লাহ ফয়েজ ৯:৪২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

print
র‌্যাগ ডের এ কেমন উদযাপন!

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা যারা করেন তারা সবাই জানেন, পড়াশোনার শেষ পর্যায়ে বিদায় বেলা একটা অনুষ্ঠান হয়, এটাকে তারা জধম উধু বলেন।

এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আমি যা দেখেছি এখনো যা দেখতে পাচ্ছি তা হলো গান বাজনা করা, রং মাখানো এবং নাচানাচি করা, আজকে দেখলাম রাজু ভাস্কর্যের সামনে একদল ছাত্রছাত্রী নাচানাচি করছেন, শরীরের অদ্ভুত রং মাখানো, পথচারী, রিকশাওয়ালারা খুব মজা নিয়ে দেখছেন, সবার নজর মেয়েদের দিকেই বেশি, নাচানাচি করতে গিয়ে অনেকেরই কাপড় পুরোপুরি ঠিক না থাকলে বিষয়টিতে তারা অদ্ভুত মজা পাচ্ছেন।

কিন্তু একবারও কি ভেবেছি এই অনুষ্ঠানটি আদৌ শোভনীয় হচ্ছে কি না, নাচানাচি করতে চাইলে সেটা ইনডোরে করা কি বেশি শোভনীয় ও সম্মানজনক না? এই দিনটিকে আপনি অন্যকোনোভাবে স্মরণীয় করতে পারেন না? শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু নিয়ে শোভাযাত্রা করতে পারেন না?

আমরা মাদ্রাসায় বা স্কুলে যারা পড়েছি তারা বিদায় নেওয়ার সময় মিলাদের আয়োজন করেছি, মিষ্টি বিতরণ করেছি, সবশেষে একটি শোকাবহ দিনে রূপান্তরিত হয়েছে দিনটি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিনটিকে আপনারা রঙের ছড়াছড়ি দিয়ে অদ্ভুত বাদ্য বাজিয়ে সবাইকে ডিস্টার্ব করে, নিজের লজ্জা বিসর্জন দিয়ে যেভাবে উদযাপন করেন তাতে কী বোঝা যায়? এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আপনার কোনো আবেগ নেই? এখানে কিছু শিখেননি? এখানে এমন বন্ধু হয়নি যাকে ছেড়ে যেতে আপনার কষ্ট হচ্ছে?

অনুষ্ঠান করা আপনার অধিকার তবে দৃষ্টিকটু লাগলে বলাও আমার অধিকার, কারও ভালো লাগলে মানুন না লাগলে না মানুন, তবে আমার কাছে বিষয়টি ভালো লাগে না তাই বললাম।

ফায়জুল্লাহ ফয়েজ
আইনজীবী