অসম সম্পর্ক প্রকাশিত হলো

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

অসম সম্পর্ক প্রকাশিত হলো

খোলা কাগজ ডেস্ক ১০:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৬, ২০১৯

print
অসম সম্পর্ক প্রকাশিত হলো

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে সব চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে সেগুলো সবার মনোযোগ দাবি করে। এগুলো নিয়ে আলোচনা যদিও একার্থে নিরর্থক, কেননা এগুলো ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এগুলো বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার এখন অঙ্গীকারবদ্ধ। এসব বিষয়ে আগে জানা গেলেও যে খুব বেশি কিছু করা যেত, তা মনে করার কারণ নেই। জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক এবং নৈতিক ব্যবস্থা এখন অনুপস্থিত।

ভারত-বাংলাদেশ অসম রাজনৈতিক সম্পর্ক এগুলোর বিষয় নির্ধারণ করেছে। এই চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এক ধরনের কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা বলেই আমাদের বিবেচনা করতে হবে। এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের মধ্যে অনেক বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের বোঝা দরকার। এগুলোকে কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার বা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় বলে মনে করাকে আমি যথেষ্ট মনে করি না।

এগুলোর অনেক দিকই বাংলাদেশের পরিবেশের ওপরে প্রভাব ফেলবে এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি তার রাজনীতির বাইরে থাকে না, এমনকি সরাসরি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রতিফলন না ঘটালেও এদের মধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান।

এর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই। প্রথমত, বাংলাদেশের বহু প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তি হয়নি, অন্য ছয়টি নদীর পানি বণ্টন বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি; বরঞ্চ ১১ বছর আগের স্বাক্ষরিত ফ্রেমওয়ার্ক নিয়েই আবারও কথা হয়েছে। সহজ ভাষায় এই ধরনের চুক্তির আশু সম্ভাবনা নেই- এটাই বোঝা যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ফেনী নদী থেকে ভারত ত্রিপুরার সাবরুম শহরের জন্য ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করবে বলে চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশ পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা পায়নি, ভারত পেয়েছে। তৃতীয়ত, দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে।

কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে যারা আগে ‘বাংলাদেশকে খাঁচায় আটকানোর’ কথা বলছিলেন তারা নিশ্চয় বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। চতুর্থত, রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আলোচনা। ‘মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত লোকদের প্রয়োজন মোতাবেক সহায়তায়’র বেশি ভারতের কাছ থেকে শোনা যায়নি। নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি অনুপস্থিত। কিন্তু শব্দের বিষয় নয়, এই নিয়ে ভারতের অবস্থানের সামান্যতম হেরফেরের ইঙ্গিত নেই।

পঞ্চমত, ‘বঙ্গোপসাগর এলাকায় কোস্টাল সারভিয়ালেন্স রাডার সিস্টেম’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় নজরদারিতে সহযোগিতা বিনিময় বলে বলা হচ্ছে। এর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে সেই বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে কী আছে তার বিস্তারিত কোনো সংবাদপত্রে দেখিনি।

ষষ্ঠ বিষয় হচ্ছে বাণিজ্যিক। বাণিজ্যের বিবেচনায় বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ ছিল- বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয় পাটসহ এমন পণ্যের ওপরে ভারত কর্তৃক আরোপিত এন্টি-ডাম্পিং এবং এন্টি সারকামভেনশন ডিউটির বিষয়টি আলোচনা করা। কিন্তু কার্যত সেই আলোচনা নাকচ করে দিয়ে ভারত বলেছে, ‘প্রচলিত আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে এই নিয়ে তদন্ত করা হয়।’ তার মানে এই নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। এর বাইরের অনেক বিষয় আছে- যেমন বন্দর ব্যবহার ইত্যাদি। সেসব বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে আলোচনার বাইরে রাখলাম।

আলী রীয়াজ
অধ্যাপক