প্রধানমন্ত্রীর ‘জিওপলিটিক্যাল’ বার্তা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

প্রধানমন্ত্রীর ‘জিওপলিটিক্যাল’ বার্তা

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৪, ২০১৯

print
প্রধানমন্ত্রীর ‘জিওপলিটিক্যাল’ বার্তা

দক্ষিণ এশিয়ার উত্তেজিত পরিবেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনইউজুয়াল ভারত সফরের শুরুতেই অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটের পর আনন্দবাজার তাদের রিপোর্টে লিখেছে, ‘চীনের খোঁচা দিয়ে রাখলেন শেখ হাসিনা’। রিপোর্টের প্রথম দুটি প্যারা, ‘বাংলাদেশ শুধু ১৬ কোটি মানুষের লোভনীয় বাজার নয়, মজবুত অর্থনীতির জোরে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্যও। যার গা ঘেঁষে রয়েছে চীনের মতো বিশাল আর্থিক শক্তি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের ৪৮ ঘণ্টা আগে বক্তৃতায় কার্যত এই বার্তা দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিট’-এ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ শুধু তার নিজস্ব ১৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের বাজার নয়, তার ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, এই দেশ হয়ে উঠতে পারে ৩০০ কোটি মানুষের বিপুল বাজারের সংযোগস্থল। আর এই ভূ-কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়েই চীনের অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এহেন বক্তব্য যত না বিজনেস সামিটের স্পিচ বরং তার চেয়ে বেশি জিওপলিটিকাল ডিক্লারেশন মনে হচ্ছে।

পররাষ্ট্রনীতির ভাষায় এটিকে বলা যায় ‘নন এলাইনমেন্ট’ ডিক্লারেশন। বলা যায়, এই স্পিচের মাধ্যমে গতকাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতির মঞ্চ নিয়ন্ত্রণ, ভারত-চীন বা ভারত-পাকিস্তান ইত্যাদি রিজিওনাল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ গতকাল পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ নেয়নি। আমি খেয়াল করেছি, জাতীয় রাজনীতিতে যতই অমিল থাকুক না কেন, ৭১’র পর থেকেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সব সরকারই দলমত নির্বিশেষে নন এলাইনমেন্ট/ধরি মাছ না ছুঁই পানি/সামরিক পার্টনারশিপ বিরোধী, নন ইন্টারফেয়ারিং, এক শব্দে বললে ‘শান্তিকামী’ পররাষ্ট্রনীতি ফলো করে চলছে।

সরকারে যেই থাকুক, ফরেন পলিসি মেকিংয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিফলিত হয়েছে বিধায় এখন পর্যন্ত বহির্বিশ্বে যে কোনো লেভেলে, যে কোনো মাত্রার অফিসিয়াল ফ্রেন্ডশিপ বা অফিসিয়াল কনফ্লিক্ট সফলতার সঙ্গে এভয়েড করে চলছে বাংলাদেশ। ৯/১১ পরবর্তী ইরাক আক্রমণের সময় বিএনপি যেমন আমেরিকার সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তেমনই দক্ষিণ এশিয়ার আপকামিং ভূরাজনৈতিক ক্রাইসিসের সময় আওয়ামী লীগও পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত থেকে বিদেশের সঙ্গে ডিল করার ক্ষেত্রে জাতীয় ঐকমত্য বজায় রেখেছে।

৭১’র আগে আমাদের নিজস্ব কোনো ফরেন পলিসি ছিল না। জাতীয় অর্থনীতি ও বিশ্ব রাজনীতির এই পর্যায়ে এখন সময় সুযোগ হয়েছে। ভারত বা অন্য কারও পক্ষে অবস্থান না নিয়ে আমাদের দুই নেত্রী বাংলাদেশের জন্য একটি ট্র্যাডিশনাল ‘শান্তিকামী’ ফরেন পলিসির এস্টাবলিশমেন্টে বেসিক ভূমিকা রাখল এবং আমাদের দেশের চলমান বাস্তবতায়, একটি ন্যাশনাল ফরেন পলিসি গঠনে জাতীয় ঐকমত্যের ধারাবাহিকতা দেখে আমাদের সচেতনভাবে শংকামুক্ত ও সুখী হওয়া উচিত, কারণ আন্তর্জাতিক আইন এবং নৈতিক বিচারে একটি রাষ্ট্রের ফরেন পলিসি হিসেবে বাংলাদেশ অনুসৃত নীতিই আদর্শ নীতি।

অসিউর রহমান
গবেষক