হায় মোর অভাগা দেশ!

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

হায় মোর অভাগা দেশ!

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০২, ২০১৯

print
হায় মোর অভাগা দেশ!

সামিট গ্রুপের ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা এক হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। যদিও গত অর্থবছর বেশিরভাগ কেন্দ্রের সক্ষমতার অর্ধেকও ব্যবহার করা হয়নি তথাপি ১১টি কেন্দ্রের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকার প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিয়েছে। ওই অর্থবছরে কেবল সামিট গ্রুপের ১১টি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনা হয় প্রায় পাঁচ হাজার ৮১ কোটি টাকার যার মধ্যে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকাই ফাও। তাদের তৈরি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ না কিনে বসিয়ে রাখলেও বিপুল অংকের টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ হিসাবে দিতে হয়। এটা মানতেই হবে বেসরকারি খাতে এসব কুইক রেন্টাল আর রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য দেশে লোডশেডিং কমেছে আর প্রোডাক্টিভিটি বেড়েছে। কিন্তু এর জন্য আমাদের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।

দুই হাজার কোটি টাকা সামিট গ্রুপের কাছে গচ্চা। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের সমান টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকরা নানারকম অর্থ সংকটে ভুগছে অথচ এই দিকে কারো নজর নেই। কাউকে দাবি জানাতেও দেখি না। এইরকম নানাভাবে টাকার অপচয় হয় আর রফতানি হয়। অথচ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা বললে বলা হয় ‘টাকা নাই’!

এইরকম আরো অনেকেই এইসব ফাও টাকা দিয়ে রাঘব বোয়াল হয়েছে। বাকি ধনীদের কেউ ব্যাংক লুট করে হয়েছে অথবা ক্যাসিনো কিংবা ইয়াবা ব্যবসা করে হয়েছে। আরো অনেক তরিকা আছে। বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেমন সামিট কিংবা সরকারের কাছের আর দু’একটি গ্রুপ সুযোগ পেয়েছে তেমনি টেন্ডারবাজিতেও সরকারের কাছের অল্প কিছু মানুষ কাজ না করিয়ে অথবা কিছু করে টাকা তুলে নিয়েছে।

খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত ১০ বছরে যত কাজ হয়েছে তার প্রায় সবগুলো পেয়েছে তমা কনস্ট্রাকশন। তাদের কোনো প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। ফলে কাজের মানও ভালো হয়নি। শিব বাড়ির কাছে একটি বহুতল ভবন বানাচ্ছে। এই ভবন বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে পারমিশন দিল? এত বড় ভবন তৈরি করতে হলে ভবনের সামনে বিশাল জায়গা খালি রাখতে হয়। এই ক্ষেত্রে একদম রাস্তার উপরে। তাও আবার মোড়ের উপর বিশাল কর্নার বের করে রেখেছে যা দেখতে সাংঘাতিক দৃষ্টিকটু। একই কথা খাটে ব্রিটিশ কাউন্সিলের উল্টো দিকে আরেক বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে। যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখভাল করার কেউ নেই। এইভাবে তারা দেশের দুদিক থেকে ক্ষতি করছে ১. কাজের মান ভালো হচ্ছে না, ২. টাকা বিদেশ পাচার হয়ে যাচ্ছে। হায় মোর অভাগা দেশ!

কামরুল হাসান
অধ্যাপক, ঢাবি