ধর্মে পিয়াজের অবস্থান

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

ধর্মে পিয়াজের অবস্থান

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০১, ২০১৯

print
ধর্মে পিয়াজের অবস্থান

পিয়াজ নিয়ে এত হাহাকার দেখে একটা ব্যাপার মনে পড়ল। পিয়াজ নিয়ে আমাদের প্রধান ধর্মগুলোর অবস্থান ইন্টারেস্টিং। সেমিটিক অসেমিটিক প্রায় সব ধর্মেই পিয়াজ খাওয়ার ব্যাপারে টেক্সট দিয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তাও মানুষ এই জিনিস ছাড়তে পারেনি।

ইসলাম ধর্মের টেক্সট অনুযায়ী, নবী (সা.) বলছেন, পিয়াজ আর রসুন পারতপক্ষে না খাইতে। খাইলে ওই লোক যাতে মসজিদের নিকটবর্তী না হয় ওই সময়। এক দুইটা না। বেশ কিছু মেজর হাদিস আছে, সাহাবিদের ফার্স্ট হ্যান্ড বর্ণনায়। যতদূর জানি, হিন্দু ধর্মের অসুরদের খাবারের উচ্ছিষ্ট হয়েছিল, এজন্য কৃষ্ণ-অমৃত এর ডায়েটে পিয়াজ রাখা হয় না। সেই সঙ্গে হিন্দুদের বড় একটা অংশ তো বটেই, জৈন এবং শিখরাও পিয়াজ এভয়েড করে রিলিজিয়াসলি।

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ঘটনা হচ্ছে, ‘মান্না সালওয়া’র ঘটনা। সেমিটিক সব ধর্ম- খ্রিস্টানদের বাইবেল, ইহুদিদের ওল্ড টেস্টামেন্ট এবং আমাদের কোরআন; সর্বত্রই এই ‘মান্না সালওয়া’র কাহিনী আছে। পুরা কাহিনীটা হচ্ছে- বনি ইসরাইল তথা মূসা নবীর অনুসারীদের খোদা বেহেশত থেকে খাবার পাঠাতেন। কেননা তাদের জীবনে অখাদ্য দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি লেগেই ছিল।

তাই বনি ইসরাইলের লোকদের আশীর্বাদের নিদর্শন হিসেবে বেহেশত থেকে সরাসরি খাবার কুরিয়ার করতেন ফেরেশতারা। খোদার নির্দেশে এই খাবার ৪০ বছর চলল। এরপর বনি ইসরাইল তথা ইহুদিরা এই বেহেশতি খাবারের বাজে রিভিউ দেওয়া শুরু করল।

তাদের এসব স্বর্গীয় খাবার মুখে রোচে না। কারণ এগুলোতে মসলা বিশেষত পিয়াজ রসুন নেই। তাই তারা নীলনদের অববাহিকায় পিয়াজ আর মসলা উৎপাদন করে তা দিয়ে বেহেশতি খাবার খাইতে চাইল।

খোদা বিরক্ত হয়ে তাদের বেহেশতি খাবার পাঠানো বন্ধ করে দিলেন। এরপর থেকে ওদের বিভিন্ন টেক্সটে এই পিয়াজ-রসুনকে বাড়াবাড়ি রকমের খাদ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসনাত কালাম
অনুবাদক : উইকিপিডিয়া