চাইলে আমরাও পিয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারি

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

চাইলে আমরাও পিয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারি

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

print
চাইলে আমরাও পিয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারি

পিয়াজের রপ্তানি বন্ধে ভারতের এই সিদ্ধান্তকে আমরা দেখছি শত্রুচোখে। এটা কি তেমন কিছু? ভারত বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোতে পিয়াজ রপ্তানি করলে বৈদেশিক মুদ্রা পেত। এই রপ্তানি বন্ধ তাদের আয় কমিয়ে দেবে। তারা এটা করেছে মূলত তাদের ‘অভ্যন্তরীণ চাহিদায় প্রভাব না পড়ার জন্য’।

বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত- এটা প্রচার করে ভারতবিদ্বেষ দেখানো অপ্রয়োজনীয়, তেমনি তাদের চাহিদার জোগান নিশ্চিত করতে রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের কথাটা জানানোও ভারতপ্রেমের নজির নয়। যার যা আছে সেটা নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে এটাই তো বাজারনীতি। এখন এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া দরকার। আমরা কি সারাজীবন আমদানিনির্ভর হয়ে থাকব?

এখন তো ভারতের পিয়াজের দাম বেশি বা ভারতীয় পিয়াজ আমদানি বন্ধ; কিন্তু দেশের পিয়াজের মৌসুমে আমাদের ঘরে দেশি পিয়াজ ঢুকেই বা কতটুকু? খেয়াল করলে দেখা যায়, আমার ঘরেও সারা বছর চলে বিদেশি পিয়াজ। দেশি পিয়াজ সাইজে ছোট ও ঝাঁঝ বেশি হওয়ায় আমরা বিদেশি পিয়াজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। এবার এখান থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি।

গরু আমদানিতে ভারত কড়াকড়ি আরোপের পর গত ক’বছরে বাংলাদেশ এই খাতে ব্যাপক উন্নতি করেছে। এখন দেশি গরুর চাহিদা-জোগান প্রায় কাছাকাছি। গরু পালনকে আমাদের খামারিরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন এবং সেখানে সফল হয়েছেন অনেকটাই।

এবার পিয়াজের দিকে দৃষ্টি দিতে পারেন আমাদের কৃষকরা এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতা দিতে পারে সরকার। এমন হলে কয়েক বছরের মধ্যে আমরা পিয়াজেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারব। ঠেকায় পড়লে মানুষ শেখে, আমরা ঠেকায় পড়ে গেছি; এবার না হয় শেখার পালা, এবার না হয় দেখিয়ে দেওয়ার পালা! এই দেখিয়ে দেওয়া হয়ে গেলে দেশের টাকা আমাদের দেশেই থাকবে।

 

কবির য়াহমদ

সাংবাদিক