ক্যাসিনো অনেস্টি

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

ক্যাসিনো অনেস্টি

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

print
ক্যাসিনো অনেস্টি

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সৈনিকরা সহমতাচার্যদের কাছ থেকে উন্নয়ন প্রকল্পের ৪-৬ শতাংশ কর দাবি করে। এক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহমতাচার্য ছাত্র সৈনিকদের কর আদায়ের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে ৩৪ জন ছাত্রত্ব হারিয়ে ফেলা ছাত্র সৈনিকের ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে বিনা লিখিত পরীক্ষায় তাদের ‘মাস্টার্স অব ট্যাক্স’ প্রোগ্রামে ভর্তির চিরকুট দেন।

সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা এই ভর্তি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হলে; ডিনাচার্য অবাক হন। বিড় বিড় করে বলেন, এই প্রতিভাবান ছাত্র সৈনিকদের কর আদায়ের যে দক্ষতা; তাতে এদের কর বিভাগের পরিদর্শক পদে বিনা পরীক্ষায় নিয়োগ দেয়া উচিত। সেখানে সামান্য মাস্টার্স অব ট্যাক্স প্রোগ্রামে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে এতো কথা কেন বাবারা!

আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহমতাচার্য এই ছাত্র সৈনিকদের দাবি করা ৪-৬ শতাংশ প্রকল্প কর না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন সততা ভবনে। সাধারণ মানুষ ছাত্র সৈনিকদের প্রকল্পের টাকা-ভাগাভাগির প্রতিদিনের আলোচনায় বিরক্ত হয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখছি জুয়ার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এমন সময় সততা মহলের নির্দেশে এলিটফোর্সের মহানায়কেরা শহরের কয়েকটি ক্যাসিনো বা জুয়ার আখড়ায় হানা দেয়।

ক্ষমতাসীন দলের যুব সৈনিকরা ধরা পড়ে যায়। সাধারণ মানুষ খুব ঘন ঘন বিস্মিত হবার এক অপার গুণ নিয়ে জন্মেছে। সুতরাং তারা মুখ চাওয়া চাওয়ি করে। সাধারণ মানুষের জ্ঞান জিজ্ঞাসার উত্তর দিতে সক্রিয় হয় সরকারি সেবক জনতা বা সসেজ। ক্যাসিনো হইতেছে জুয়ার আখড়া। তবে এইখানে কথা থাইকা যায়; আমাদের সততা পার্টির লোকেরা কখনো এইসব জুয়া-টুয়ার নামই শুনে নাই। জুয়া শব্দটা আসছে জিয়া থিকা। সুতরাং যারা জুয়ার আড্ডা বসাইছে; তারা কেউ পোকিত সরকারি সৈনিক নয়।

এরা জিয়ার দল থিকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। একটি ক্যাসিনোর গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান একজন বামপন্থী। তিনি সততা জোটে যোগ দিয়ে হজ করেছেন। ইদানীং ছিটকে গেছেন ক্ষমতার অক্ষরেখা থেকে। সরকারি সেবক জনতা (সসেজ) তাকে নিয়ে আলোচনা করে জনগণকে বোঝাতে চেষ্টা করে, সততার সৈনিকেরা নিষ্কলুষ; তাদের ভুলাইয়া-ভালাইয়া নষ্ট করছে এই ভ্রষ্ট বামেরা।

এদিকে ক্যাসিনোতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আবেগপ্রবণ হয়ে আশাবাদী জনতা বুক থাবড়ে উল্লাস করে, এইবার এইবার খুকু চোখ খুললো। চারদিকে সততার আলোর খৈ। ওরে কেউ আমারে ধর। এতো সততা রাখি কই! চক্ষু ফাইটা আনন্দের পানির জোয়ার নামছে গো।
(সংক্ষেপিত)

মাসকাওয়াথ আহসান
প্রবাসী সাংবাদিক