আমার কৈফিয়ত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

আমার কৈফিয়ত

খোলা কাগজ ডেস্ক ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

print
আমার কৈফিয়ত

‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা’ গ্রন্থে নবম-দশম শ্রেণির বোর্ডের বই থেকে একটি উদ্ধৃতি তুলতে গিয়ে মারাত্মক ভুল পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বোর্ডের বইয়ে আছে : তিনি অন্ধকে ঘৃণা করিয়াছেন, কাঙাল বলিয়া তাহাকে হেলা করিয়াছেন, এই কথা কাহারও মনে আসে নাই। ‘সাহিত্য জিজ্ঞাসা’ গ্রন্থে এই বাক্যটি উদ্ধৃতি হিসেবে তুলতে গিয়ে এর শুধু প্রথম অংশ (তিনি অন্ধকে ঘৃণা করিয়াছেন) মুদ্রিত হয়েছে এবং তাতে মারাত্মক ভুল অর্থ প্রকাশ পেয়েছে।

এই অনিচ্ছাকৃত ভ্রান্তির জন্য লেখক হিসেবে আমি দারুণভাবে মর্মাহত। আমার শত শত ছাত্রছাত্রী, হাজার হাজার পাঠক-পাঠিকা, অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীর কাছে এ ব্যাপারে তাই কৈফিয়ত প্রদান করা জরুরি বলে মনে করি।

কারণ আমি সবসময় সত্য ধারণ করে শিক্ষকতার পেশায় ছিলাম ও আছি। আমার প্রায় তিন দশকের শিক্ষকতা জীবনে লেখা কোনো বইয়ে এমন মারাত্মক ভুল আর ঘটেনি। তাই গত কয়েক দিন ধরে মনস্তাপেও ভুগছি।

কম্পিউটারে প্রুফ দেখার সময় এমন মারাত্মক ভুল ঘটেছে বলে অনুমিত হয়। এটি অসাবধানতার ফল, অন্য কোনো উদ্দেশ্য এতে নেই। ৬৮০ পৃষ্ঠার একটি বইয়ে তিন লাখের মতো শব্দের প্রতিটিই সমান মনোযোগ দিয়ে প্রুফ দেখা দরকার অবশ্যই।

তারপর আছে বিন্যাস ও অর্থগত দিক। সেটিও দেখতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে চরম ব্যত্যয় ঘটে গেছে। উদ্ধৃতিটি যথাযথভাবে তোলার ভুলের কারণে এর অর্থবিপর্যয় ঘটায় যারা মনঃকষ্ট পেয়েছেন আমি তাদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

সবাইকে আমি এও জানাচ্ছি যে, ইতোমধ্যে পূর্বমুদ্রিত বইগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেগুলো সার্বিকভাবে শুদ্ধ না করে বাজারে ছাড়া হবে না। আশাকরি, আমার প্রিয় ছাত্রছাত্রী, বইয়ের পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাব। সবার মঙ্গল হোক।

সৌমিত্র শেখর
অধ্যাপক