পণ্ডিতের চেতনা দর্শন

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

পণ্ডিতের চেতনা দর্শন

খোলা কাগজ ডেস্ক ১০:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
পণ্ডিতের চেতনা দর্শন

কয়েকদিন আগে এক পণ্ডিতের কলাম পড়ছিলাম। তিনি লিখেছেন আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৪৮ ভাগ ভোট পেয়েছিল, বিএনপি ৩৩ ভাগ। এর মানে এই ৪৮ ভাগ মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমর্থক আর ৩৩ ভাগ বিরোধী কিনা এ নিয়ে তিনি খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

পণ্ডিতের ভোটের অঙ্কের পদ্ধতি ছিল ভুল। অঙ্কে ভুল হতে পারে কিন্তু ভাবনায় এত ভুল হয় কীভাবে? উনি এ তথ্য কোথায় পেলেন যে বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেওয়ার সময় কে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, কে না শুধু এটা বিবেচনায় রেখে ভোট দেয়? বা বাংলাদেশের সব মানুষ আওয়ামী লীগকে চেতনাময় আর বিএনপিকে চেতনাহীন ভাবে? তাহলে তার এই দুশ্চিন্তা কেন হবে যে বিএনপির ভোটররা সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী?

বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান আর গণপরিষদ বিতর্ক অনুসারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে প্রকৃত গণতন্ত্র, সম্পদের সুষম বণ্টন, কৃষক-শ্রমিকের মুক্তি, অসাম্প্রদায়িকতা আর জাতীয়তাবোধ। কাজেই পণ্ডিতের মতো মানুষদের এটা বোঝা উচিত যে, পুরোপুরি ভুয়া নির্বাচন, ভয়াবহ দুর্নীতি, কৃষককে ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করা, সংখ্যালঘুদের জমি দখল আর ভারতের কাছে স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার প্রতিটি কাজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এখন সুষ্ঠু একটা নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ যদি হেরে যায় তাহলে এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরাজয় হবে না, হবে বিজয়। চোর, খারাপ ও অত্যাচারী শাসক (সেটা বিএনপি হোক, আওয়ামী লীগ হোক) যখনই হারে তখনই তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জয়।

পণ্ডিতকে নিয়ে এত কিছু লিখতাম না। লিখলাম কারণ তার মতো লোকের এসব ভ্রান্ত বয়ান কিছু মানুষকে হলেও প্রভাবিত করে, শাসকগোষ্ঠীর অনাচারের বৈধতা প্রদান করে এবং একচোখা মানুষকে কুতর্ক করার মালমসলা প্রদান করে।

তিনি নিজে একসময় তীব্র আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতি করতেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধও করেছেন। এখন যদি তার মতো মানুষ মনে করেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানে হচ্ছে অন্ধভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া তাহলে তা খুব হতাশাজনক।

আসিফ নজরুল
অধ্যাপক, ঢাবি