খাওয়া যেতে পারে পশুর চামড়া

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

খাওয়া যেতে পারে পশুর চামড়া

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৯

print
খাওয়া যেতে পারে পশুর চামড়া

পশুচামড়া খাদ্য হিসেবে ব্যবহার একটি পুরনো রীতি। যেখানে খাদ্যের প্রতিটি কণা গুরুত্বপূর্ণ সেখানে চামড়াকেও বাদ রাখা হয় না। বিশেষ করে মধ্য এশিয়া, মরুভূমির দেশগুলো কিংবা আফ্রিকার কোনো দেশে এখনো চামড়া দিয়ে সুস্বাদু খাদ্যবস্তু তৈরি করা হয়।

আমাদের দেশেও চামড়া খাদ্য হিসেবে ব্যবহার বিরল নয়। পশুর মাথা ও পায়ের চামড়া, হাড্ডি ও মাংসের সঙ্গে এখনো অনেকে শখ করে খেয়ে থাকেন। মাত্র চার দশক আগে এদেশের প্রায় কোনো অঞ্চলের পশুর নাড়ি-ভূড়ি ও পাখির চামড়া খেতে দেখা যেত না। বরং যারা প্রথমের দিকে খাওয়া শুরু করেছিল, তাদের একটু ছোটজাত হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

এখন কিন্তু এটি দিব্বি মধ্যবিত্ত বড়লোকদের খাবার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বাড়ির বাচ্চারা মাংস না খেলেও পশুর ভূড়ির প্রতি তাদের রয়েছে যথেষ্ট আগ্রহ। এখন শুনছি মুরগির নাড়ি-ভূড়ি দিয়েও সসেজ তৈরি হচ্ছে।

চামড়া দিয়ে খাবার প্রস্তুত করা একটু কষ্টকর। কিন্তু একটি চামড়া থেকে যে পরিমাণ ক্যালোরি ও রসনা বিলাস ঘটে তার মূল্য কম নয়। যদিও নতুন নতুন খাদ্য প্রবর্তনের পেছনে চাহিদা কিংবা খাদ্যের অভাব প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে থাকে। এ কথা সত্য দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই, অভাবের জন্য চামড়া খাওয়ার পরামর্শ নিঃসন্দেহে অন্যায় অত্যুক্তি। তবু চামড়ার মতো একটি মূল্যবান বস্তু নষ্ট করার চেয়ে কাজে লাগানো জরুরি।

আমার ধারণা ইন্ডাস্ট্রিতে মৃতপশুর চামড়ার দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর্টিফিসিয়াল চামড়া জায়গা করে নিচ্ছে। আর তার জন্য গরিবরাই বেশি বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে এই আইটেমটি ফুডস্টাফে পরিণত করলে আখেরে মন্দ হবে না। তাতে জাতীয় অর্থনীতিরই সাশ্রয় হবে। শুনি পশুর পরিত্যক্ত চামড়া পা ও মাথার খুলি বাইরেও রফতানি করা হয়।

যেহেতু ম্যাগাসিন্ডিকেট সম্বন্ধে আমাদের ধারণা নেই, সেহেতু নিজেদের সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিজেদেরই করতে হবে। আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার পশুচামড়া দিয়ে তৈরি পোনমো বেশ জনপ্রিয় খাবার।

আশির দশকে গরুর ভূড়ি ও মুরগির চামড়ার কথা শুনলেও অনেকের গা-গুলাতো। তাছাড়া চামড়া বস্তুটি খাদ্য হিসেবে নিষিদ্ধ নয়। এটি খাওয়া শুরু করলে দাম নিয়ে আর ভাবতে হবে না। আর সিন্ডিকেট থাকলে নিজেই ভেঙে যাবে।

মজিদ মাহমুদ
কবি