বিজেপির পতন অনিবার্য

ঢাকা, রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬

বিজেপির পতন অনিবার্য

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০১৯

print
বিজেপির পতন অনিবার্য

কাশ্মীর বিষয়ে মোদির অবস্থানকে আমি সমর্থন করি। কেননা, কালচারাল মোকাবেলা যতটা কঠিন রাজনীতি মোকাবেলা তত কঠিন না। ফলে, ভারতে বিজেপির পতন অনিবার্য হয়ে উঠল আগামীতে। ওয়াল্টার বেঞ্জামিনের বিখ্যাত উক্তি ‘প্রতিটা ব্যর্থ বিপ্লব এক একটা ফ্যাসিস্ট জন্ম দেয়।’ পরের কথাটা আমি একটু ইলংগেশন করতে চাই-ব্যর্থ বিপ্লব থেকে উঠে আসা ফ্যাসিস্টদের জন্ম হয় নিজেদের সিস্টেমের মধ্যে বসে নিজেদের পতন দেখার জন্য।

ভারতে চলছে হিন্দু জাতীয়তাবাদের ব্যর্থ বিপ্লব। মোদির এত দিনের খেলা ছিল আধা কালচারাল, আধা পলিটিক্যাল। এখন খেলাটা শুধু পলিটিক্যাল। ফলে, আগামী ভারতে শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়বে মোদিজি। মোদি মূলত নিজেই বিজেপির কবর খুঁড়লেন। এতটা প্রকাশিত না হলে, ভারত জাতীয়তাবাদের অর্থহীনতা বোঝা যেত না। এই অর্থহীনতা আরও বেশি প্রকাশিত হবে। সেই অর্থহীন জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত প্রকাশ হলো আজকের কাশ্মীর। ফলে তার প্রতি সমর্থন দানের ভেতর দিয়ে তার আরও বেশি প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকলাম।

গো হত্যা, গো মাংস নিয়ে যে মব লিঞ্চিং বা ‘জয় রাম’ নাম বলানোর যে প্রতিহিংসা তার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক হলেও, অ্যাক্টিভিটি সাংস্কৃতিক। এখন কাজটা রাজনৈতিকভাবে করতে হবে। কাশ্মীর ঘটনার ভেতর দিয়ে মোদি আসলে তার প্রকৃত রাজনৈতিক ইচ্ছাটার ওপর থেকে পর্দা সরিয়ে দিলেন। তাই খেলাটা এখন রাজনৈতিক।
লক্ষ্য করে দেখবেন, কারচারাল হত্যা সহজ; পলিটিক্যাল হত্যা সহজ না। ধর্ম বিরোধিতার জন্য কাউকে মারা যতটা সহজ, বিরোধী দলের কাউকে হত্যা করা ততটা সহজ না। সমাজের নানা কোণ থেকে প্রশ্ন ওঠে। আমার হিসাবে আগামীতে ভারতে মোদির জনপ্রিয়তা কমবে। ফলে, তাকে টিকে থাকতে হলে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ভারতকে গণতন্ত্র বিসর্জন দিতে হবে।

কাশ্মীরের ভেতর দিয়ে যারা ভারত ভাঙনের আশা করছেন তাদের মতো হৃদয়হীন মানুষ আর নেই। ৪৭ এর দেশ ভাগের কথা ভুলে গেছেন? কত কত সাধারণ জনগণের মৃত্যুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। সেই আমজনতার মৃত্যু এখনো থামেনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ভারতের আধিপত্যবাদী রাজনীতির বিরোধিতা করলেও ভারতের সাধারণ মানুষের রক্ত আমাকে আতঙ্কিত করে তোলে। ভারত ভাঙলে যে রক্ত বয়ে যাবে তাতে ভারত মহাসাগরের রং লাল হয়ে যাবে। সেই রক্ত নদীর স্রোতে আপনারাও ভেসে যাবেন।

মৃদুল মাহবুব
লেখক