বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলমান

ঢাকা, রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬

বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলমান

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০১৯

print
বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলমান

দেশের অধিকাংশ মুসলমান বাংলাদেশকে নিজের দেশ হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। থাকতে হচ্ছে তাই থাকে। ইরাক ইরান তুরস্ক হয়ে সিরিয়া অবধি বিস্তৃত তাদের মনোভূমি। জাতীয় কবি-ইকবাল, রুমী, ফররুখ আহমদ। ভাষা-পশতু, উর্দু, ফার্সী, আরবী। পতাকা-ছুরিবেষ্টিত চন্দ্রভূক কলেমাঙ্কিত সবুজ জমিন। খেলার সঙ্গে রাজনীতিকে মেশাবেন না-এই বলে ক্রিকেটে তারা পাকিস্তানের পক্ষ নেয়

জয়ে উল্লাস করে রাস্তায়। পাক ভারত উত্তেজনায়, পাকিস্তানের এটম বোমের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে। দেশে দেশে নিপীড়িত মুসলিমদের সাহায্যার্থে, তুরস্কের সেনাবাহিনীকে ডেকে পাঠায়। তাদের রাজনৈতিক দল-বিএনপি-জামায়াত, অভিভাবক সৌদি। যত অত্যাচারী হোক, ‘মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই।’

বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তা হবে ভারতের কলোনি, মূলত এই ধারণা থেকেই একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল তারা। মা বোনদের পৌঁছে দিয়েছিল খান সেনাদের ডেরায়, নিয়ে গিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি বাড়ি। সন্দেহ নেই, মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুরাই ক্ষতির শিকার হয়েছিল বেশি। আর তার জন্য দায়ী ছিল মুসলমানরাই।

অন্যদিকে, দীর্ঘকাল ধরে তালুক হারানোর কষ্ট নিয়ে এদেশে বসবাস করছে হিন্দুরা। দখলদার, লুটেরা মুসলমানদের তারা বুকে টানতে পারেনি কোনো দিনও। জমিদারি ঠাট বজায় রেখে, ম্লেচ্ছ ভেবে দূরে দূরে রেখেছে। সুযোগ পেলেই বিদেশি প্রভুদের কাছে নালিশ করেছে দেশের বিরুদ্ধে। সংখ্যালঘুতার অজুহাত টেনে আদায় করেছে সুবিধা। তাদের আশ্রয়কেন্দ্র আওয়ামী লীগ, মাতৃভাষা হিন্দি আর ভারতমাতা দেশ।

এই লেখা যখন লিখছি, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রস্তুতি সারছে বাংলাদেশ। তখন প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, কোন বাংলাদেশের কথা আমরা বলছি? তার জনগণ কারা? তাদের পরিচয় কী? বায়ান্নতে জীবন দিয়ে ভাষার মান রক্ষা আমরা করতে পারিনি। লাখো শহীদের বিনিময়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতার সম্মান কি পারছি রাখতে?

সাদী শাশ্বত

কবি