তারা জনগণের ‘লর্ড’ নন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

তারা জনগণের ‘লর্ড’ নন

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০১৯

print
তারা জনগণের ‘লর্ড’ নন

বাংলাদেশের মানুষের সরকারি চাকরি নির্ভরতা ও ‘লর্ড’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার বাসনা নিয়ে নিজের একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। ১৯৯৯ সালে স্ত্রীকে নিয়ে রংপুর গিয়েছি আব্বা-আম্মাকে দেখার জন্য। এক আত্মীয়ের বাসায় যেতে হলো দাওয়াত পেয়ে।

তিনি একটি সরকারি ব্যাংকের ম্যানেজার। তার ছোটভাই তখন কারমাইকেল কলেজে অনার্স পড়েন। আমার অনেক ছোট। দেখা হওয়ার পরেই প্রশ্ন করে বসলেন, আপনি কি করেন? বললাম, অমুক দৈনিক পত্রিকায় এই পদে কাজ করি। কি? আপনি না ক্যাডেট কলেজের ছাত্র! আপনি তো আর্মি অফিসার হবেন, না হয় বিসিএস হবেন, এসব সাংবাদিকতা কি কোন ভদ্রলোক করে?

আমি তো হতভম্ব! সারাজীবন ভালো রেজাল্ট করে এসেছি। এমনকি মিলিটারি একাডেমিতে মানবিক বিভাগ থেকে প্রথম হয়ে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেছি। কোর্সে প্রথম দশজনের মধ্যেও ছিলাম। লোকটি বলে কী? আমার বাজে অভ্যাসের একটা হলো হঠাৎ মেজাজ চড়ে যায়। তাই হলো। আমার স্ত্রী ও অন্যরা এসে আমাকে ঠাণ্ডা করলেন।

ওই যুবকটিকে বললাম, তুমি কি হবে সেটা কি জান? আর হালাল উপায়ে কত টাকা উপার্জন করতে পারবে? আসলে তুমিও জনগণের ‘লর্ড’ হওয়া ছাড়া কিছু ভাবতে পার না! সেসময় আমি পত্রিকার ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী যে বেতন পেতাম তা জয়েন্ট সেক্রেটারির বেতনের চেয়েও বেশি ছিল। যা হোক, ওই ঘটনার পর আমি আর কখনো রংপুর গেলে কোনো আত্মীয় পরিজনের সঙ্গে দেখা করতাম না।

ওদের প্রায় ৯৯ ভাগের কাছে সরকারি একটি পিয়নের চাকরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসরের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই মানসিকতা নিয়ে আসলে আপনি একটি ভদ্র ও নিয়মতান্ত্রিক সমাজ কি চাইতে পারেন? আগে ওই বিসিএস নির্ভরতা কাটিয়ে উঠুন। যারা যাবেন ওই পেশায় তারাও মনটা আধুনিক করুন। তাহলে আর ওই একজন কর্মকর্তার জন্য ফেরি দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না... (সংক্ষেপিত)

আবু রুশদ
সাংবাদিক