‘নগর পিতা’ বনাম ‘নগর শ্যালক’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘নগর পিতা’ বনাম ‘নগর শ্যালক’

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০১৯

print
‘নগর পিতা’ বনাম ‘নগর শ্যালক’

হাসপাতালে ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই অবস্থা। ডাক্তাররা হিমশিম খাচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সামলাতে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা চলছে মশারি টাঙিয়ে। পেসেন্ট মারা যাচ্ছেন। বাচ্চাগুলো মরে যাচ্ছে। মারা যাচ্ছেন চিকিৎসকও। প্রাইভেট টিভি চ্যানেলগুলোয় প্রচারিত হচ্ছে সচিত্র প্রতিবেদন একাধিক, প্রতিদিন। কিন্তু দুই গবেট মেয়র স্বীকার করতেই রাজি নন যে, ডেঙ্গু মহামারিতে আক্রান্ত রাজধানী। খোকন গবেটটা আঙ্গুল উঁচিয়ে শাসিয়ে দিল, ছেলেধরার মতো ডেঙ্গুর গুজব যারা ছড়াবে তাদের কঠিন শাস্তি দেবে সে! কী ভয়াবহ পরিস্থিতি! মানুষকে এই বদমাশগুলো চাকর-বাকর মনে করে।

লোক ঠকানোর প্রতিযোগিতায় একে অন্যকে ছাড়িয়ে যায় প্রতিনিয়ত। অথচ একটা এসেছে আনিসুল হকের সৌরভ আর অন্যটা মোহাম্মদ হানিফের গৌরবের ওপর ভর করে। নগরবাসী চরম হতাশা আর বেদনার সঙ্গে আবিষ্কার করলেন, তাদের কাঁধে সিন্দাবাদের ভূতের মতো চেপে বসা দুই মেয়রের একটা ফ্রড তো অন্যটা গবেট। একটা ঝুনো পাকা বাচাল তো অন্যটা অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক।

গার্মেন্ট শ্রমিকের রক্ত আর ঘামের সঙ্গে বেইমানি করা বিজিএমইএ নেতা আতিকুল রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর, অজস্র মানুষের করুণ মৃত্যুর পর বাণী দিয়েছিল, ‘এই মৃত্যুর জন্য মালিক দায়ী নয়। তাদের মৃত্যু এভাবেই লেখা ছিল!’

পুরান ঢাকার মেয়র খোকন গার্বেজবিন বা ডাস্টবিনের গায়েও লিখে রাখে নিজের নাম! প্রীতিভাজন সাংবাদিক শহিদুল আজমের একটা পোস্টে দেখলাম, খিলগাঁওয়ে নর্দমা নির্মাণের উদ্বোধক খোকনের নামসংবলিত স্টোনফলকটি যথাস্থানে অর্থাৎ কী না নর্দমায় পতনোন্মুখ!

এই দুই রামপাঁঠার পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতিশয় বুদ্ধিমান ঢাকার মশককুল। মশার অষুধ ছিটিয়ে তাদের বিনাশ করা যায় না। কারণ উত্তরে অষুধ ছিটালে ওরা দক্ষিণে পালিয়ে যায় এবং দক্ষিণে ছিটালে পালিয়ে যায় উত্তরে। নগরবাসীকে কতটা নির্বোধ ঠাওরালে এরকম বিবৃতি দেওয়া সম্ভব ভাবা যায়! দাওয়াই উত্তরে দিলে মশারা যদি দক্ষিণে যায় দক্ষিণে দিলে যদি উত্তরেই যায় তো তোমরা আর কি করবা? বুড়িগঙ্গা আর তুরাগে ঝাঁপ দ্যাও বোকাচো! কেউ একজন জিজ্ঞেসও করেন না, উত্তর আর দক্ষিণে একযোগে ছিটাস না কেন রে তস্করের দল!

মশার অষুধের নামে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার (জনকণ্ঠ বলছে ৫০ কোটি) শ্রাদ্ধ করে যে ভুয়া তরল কেনা হয়, তার সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যে বিপুল পরিমাণে আয় হয় তোমাদের, তা কি আমরা বুঝি না! যে কারণে ওদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে যেতেই পার না তোমরা। মশার ওই অষুধগুলো তোমাদেরই খাইয়ে দেওয়া উচিত।

নগর উন্নয়নের বিশাল অঙ্কের বাজেট সিন্ডিকেট বানিয়ে নিজেরাই লোপাট করা ছাড়া দৃশ্যত কোনো কাজই নেই ওদের। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার থাপ্পড় খাওয়ার আগ পর্যন্ত স্বীকারই করেনি যে, রাজধানীতে ডেঙ্গু বলে কিছু একটা ঘটেছে বা ঘটছে!

‘নগর পিতা’ শব্দটা সাঈদ খোকন এবং আতিকুলের সঙ্গে যায় না। খুব বেশি হলে ‘নগর শ্যালক’ হতে পারে ওরা।

লুৎফর রহমান রিটন
ছড়াকার