আমরা সবাই তারকা!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯ | ৫ চৈত্র ১৪২৫

আমরা সবাই তারকা!

খোলা কাগজ ডেস্ক ৬:১৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮

print
আমরা সবাই তারকা!

এখন সবাই তারকা। একুশ শতকের নানা মাধ্যমের তারকা। মাধ্যম অসংখ্য। তাই কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি। এ কথা যেখানে প্রকাশ হবে; সেই ফেসবুকও একটি মাধ্যম। আপনার থাকবে অসংখ্য ফলোয়ার। কেউ কোথাও ডাকছে না? চিন্তা কি? এখানেও আছে লাইভ। চলে আসুন।

এসব কথা বলছি গুগলের বাংলাদেশ সার্চের ফল দেখে। এতে ‘পিপল’ শাখায় প্রথম হয়েছেন, মডেল ও অভিনেত্রী সাবিলা নূর, দ্বিতীয় লেবানিজ পর্নোস্টার মিয়া খলিফা, তৃতীয় ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ, চতুর্থ চিত্রনায়ক শাকিব খান, পঞ্চম অভিনেতা মোশাররফ করিম, ষষ্ঠ মডেল জান্নাতুল নাঈম, সপ্তম ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা, অষ্টম বাংলাদেশি ইউটিউবার তাওহীদ আফ্রিদি, নবম চলচ্চিত্রাভিনেত্রী শবনম বুবলি এবং দশম হয়েছেন পাকিস্তানি কণ্ঠশিল্পী আতিফ আসলাম।

এদের প্রথম ও অষ্টম অধিকারীকে চিনি না। এ আমার অক্ষমতা। তারপরও কিছু কথা থাকে। বর্তমানে অনেকটা সময় ওয়েভে থেকেও তাদের না চেনার কারণ কি? অষ্টমজন ইউটিবার। তাকে না চেনা যুক্তিযুক্ত। কারণ ইউটিউভার আমার সঙ্গে যায় না। কিন্তু প্রথমজন; যাকে সারা বাংলা গুগলে খুঁজছে, তাকে কেন চিনব না? একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবেও তাকে চেনার কথা। যেমনটা হয়েছে ষষ্ঠ ও নবম স্থান অধিকারীর বেলায়। কিছুদিন আগে তাদের চিনেছি সংবাদকর্ম করতে গিয়ে।

আগের কথায় ফিরে আসি। এখন খুব সহজেই কি আমরা তারকা বনে বা পেয়ে যাচ্ছি না! গুণ বা এমন বিশেষ কিছুর কি প্রয়োজন আছে? তারকা কথাটিও কি ফিঁকে হয়ে যাচ্ছে বা গেছে না?

এক সময় তারকা ভাবতাম আইনস্টাইন, টলষ্টয়, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও এমনতরদের। চিরন্তন হিসাবে এ গ্রাফ উপরে ওঠার প্রবণতা বা ফল থাকার কথা। তা না হয়ে এ গ্রাফ নিচে বইছে। এক সময় পাড়ার বুয়া বলবেন- আমি এ বছর দেশের শ্রেষ্ঠ বুয়া; আর তা নির্ধারণ করেছেন বিশিষ্ট জুরিরা। তাতে স্পন্সর ছিল অমুক মন্ত্রণালয়, অমুক গণমাধ্যম ও অমুক টেলিপ্রতিষ্ঠান। আমার সঙ্গে সাবধানী হয়ে কথা বলেন। ভাষাটাও ওই সময় শিখতে হয়েছে। না হয় প্রথম হতে পারতাম না। অনেক কষ্টে শিখেছি। তবে আগের ভাষাতেই ‘কমফোর্ট ফিল’ করি। মামা আইজ কিতা রান্ধাম। আর ফিয়াইজদি আনছুইন না। দাম কমত নাত। ফহডে কিতা টেহা নাই?

আমরা এগুচ্ছি না পিছাচ্ছি?

রায়হান উল্লাহ’র ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া।