ধর্ষণ রোধে সৌদির মতো প্রকাশ্য শাস্তি চান কঙ্গনা

ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১ | ৭ মাঘ ১৪২৭

ধর্ষণ রোধে সৌদির মতো প্রকাশ্য শাস্তি চান কঙ্গনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২১

print
ধর্ষণ রোধে সৌদির মতো প্রকাশ্য শাস্তি চান কঙ্গনা

ধর্ষণ, উপমহাদেশের নারীদের এক ভয়াল দুঃস্বপ্নের নাম। উপমহাদেশের বৃহত্তম দেশ ভারতেও সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে গেছে একের পর ন্যক্কারজনক ধর্ষণের ঘটনা। নারীদের ওপর এই বীভৎস নিপীড়ন বন্ধে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে বলে মনে করেন আলোচিত বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধর্ষকদের উপযুক্ত সাজা হল ফাঁসি।’ এর এক্ষেত্রে তিনি উদাহরণ টানেন সৌদি আরবের। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে অপরাধীদের প্রকাশ্যে শিরোশ্ছেদের শাস্তি প্রচলিত। ওই দেশের মতোই ভারতেও ধর্ষকদের চৌরাস্তায় এনে ফাঁসি কার্যকরের আহ্বান জানান তিনি।

 

‘ধক্কড়’ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য বর্তমানে ভোপালে আছেন কঙ্গনা। সেখানে অবস্থানকালে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। পরেই ধর্ষণ প্রসঙ্গে এমন প্রস্তাব করেন এই অভিনেত্রী।

কঙ্গনা আরও বলেন, ‘অনেক নারী নিজেদের কথা বলতে দ্বিধাবোধ করেন। এ কারণে অনেক যৌন হেনস্থার ঘটনা আমরা জানতেও পারি না।’

এ ছাড়া নির্যাতিত নারীদের চুপ থাকার একটা বড় কারণ হিসেবে দেশের আইন ব্যবস্থার প্রতিও আঙ্গুল তোলেন তিনি। সেই সাথে কঙ্গনা প্রশ্নবিদ্ধ করেন সমাজব্যবস্থাকেও।

তার মতে, ‘ধর্ষকরা জানে যে তারা ঠিক আইনের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যেতে পারবে। বছরের পর বছর নির্যাতিত নারীদের কেবল প্রশ্নের উত্তর নয়, পুলিশ ও আইনের হাতেও হেনস্থার শিকার হতে হয়।’

আরো বলেন, ‘বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা একটা বড় কারণ। আমাদের দেশের আইনের ফাঁক গলে অপরাধীরা বেরিয়ে যায়। বছরের পর বছর এভাবে নারীরা পুলিশ আর অপরাধীদের কাছে হেনস্তার শিকার হয়ে আসছে।’

কঙ্গনার ভাষ্য, “একজন নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সমাজ দ্বারা আবারো বার বার নির্যাতিত হয়। কারণ সমাজের নানা স্তরে তাকে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। মামলা করতে গেলে পুলিশের হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। যেভাবে পুলিশ একজন নির্যাতিতার কাছে প্রশ্ন করে সেটা খুবই অপমানজনক—‘কোথায় হাত দিয়েছিল? বুকে, নাকি হাতে, নাকি ঊরুতে?‘ এভাবে বছরের পর বছর তাদের প্রমাণ করতে হয় যে আদতে তাদের হেনস্থা করা হয়েছে।”

পাঁচ-ছয়টি ধর্ষণের কঠোর শাস্তি প্রকাশ্যে দেয়া গেলে ধর্ষণের হার কমে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।