জয়ার মন-ভালোর জানালা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭ আশ্বিন ১৪২৭

জয়ার মন-ভালোর জানালা

বিনোদন ডেস্ক ১:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৫, ২০২০

print
জয়ার মন-ভালোর জানালা

লকডাউনে আটকে অনেক দিন প্রিয় শহর কলকাতায় যান না অভিনেত্রী জয়া আহসান। কলকাতা তাঁর আরেক প্রাণের শহর। সেখানে এখন তাঁর অনেক স্বজন, অনেক বন্ধু, বাড়ির কাছে চেনা হয়ে গেছে গাছ আর পাখিদের। ছবি মুক্তির সময় শহরটা হয়ে যায় যেন জয়া আহসানের। নেতাজি সুভাষ বসু বিমানবন্দর থেকে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত যেতে যত বড় বড় বিলবোর্ড, সবটাই কেবল তাঁকেই দেখা যায়। যত উড়ালসড়কের ধারক, ছেয়ে থাকে তাঁর নতুন সিনেমার পোস্টারে। সেসব স্মৃতির তাড়নায় ফেসবুকে অভিনেত্রী লিখেছেন এক দীর্ঘ পোস্ট।

‘কবে আবার যোধপুর পার্কের বাড়ির এই জানালাটার পাশে গিয়ে বসব? চোখে লেগে থাকবে অস্পষ্ট ঘুমের রেখা। হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ। বহুদূর পর্যন্ত আবছা হয়ে যাওয়া কলকাতার নগররেখা। ঝেপে ঝেপে বৃষ্টি এসে কখনো পর্দা টেনে দেবে প্রকৃতির।

‘জানালা তো যেকোনো বাড়ির চোখ। কলকাতার বাড়ির এই দিঘল চোখের জানালাটাই ছিল আমার মুক্তির দরজা। এর ভেতর দিয়ে বয়ে আসা হাওয়ার ঝাপটা কোথায় উড়িয়ে নিয়ে যেত আমার ক্লান্তি, আমার অবসন্নতা। আহা, আমার মন-ভালোর জানালা! ‘এই জানালাগুলোর বুক অবধি উঠে আসা গাছগুলো ছিল আমার প্রাণ।

ওগুলোর জন্যই আমি লোভে পড়ে গিয়েছিলাম বাড়িটি নেওয়ার জন্য। গাছগুলোর চারপাশ ভরে থাকা পাখিগুলোই আমার নিত্য প্রতিবেশী। জানালার পাশে ওদের আপ্যায়নের জন্য খাওয়া রেখে দিতাম বলে ওদের সঙ্গে সখ্যও হয়েছিল গাঢ়। কাকও আসে প্রচুর। নুডলস ওদের কী যে প্রিয় ছিল!

‘জানালার ওপারের দেবদারু গাছটার কথা মনে পড়ছে বারবার। একটা বড় বাজপাখি এসে বসত গাছটার ওপর। রোজ, একদম একা একা। অন্য কোনো পাখির সঙ্গে ওকে কখনো দেখিনি। আমার জন্যই ও আসে, এটা ভাবতেই আমার ভালো লাগত। আমার টোটেম হয়ে উঠেছিল যেন পাখিটা। দেবদারুর শিখরে বাজপাখি, এই প্রখর সৌন্দর্যের কোনো তুলনা হয়?

‘আরেক দিকের জানালায় দীর্ঘ কৃষ্ণচূড়াগাছ। ওতে মৌমাছিরা চাক বেঁধেছে। সেই মৌচাক দেখতাম শোয়ার ঘরের জানালা দিয়ে। বাঁধভাঙা সূর্যের আলোয় কৃষ্ণচূড়ার টকটকে লালে ডুবে যেত প্রতিদিনের মলিনতা। আম্পানের তা-বে ডালপালা নাকি ভেঙে গেছে গাছটার। খর্ব হয়ে পড়েছে। মৌচাকটাও তো আর থাকার কথা নয়। বুকটা ভেঙে গেছে শুনে। কবে গিয়ে আবার দেখতে পাব আহত ওই কৃষ্ণচূড়া গাছটা।

জয়া বললেন, কলকাতার বাড়ির এই দিঘল চোখের জানালাটাই ছিল আমার মুক্তির দরজা। ‘জানালাটা ছিল আমার ছন্নছাড়া স্বপ্নেরও এক অসম্ভব মুক্তি। দূরে বিরাট বিরাট পানির ট্যাংকি। পানির ট্যাংকি আমার ছোটবেলা থেকে প্রিয়। ওর মধ্যে কেমন যেন অজানার হাতছানি। সব সময় মনে হয়, ‘সিটি অব অ্যাঞ্জেল’-এর দেবদূতগুলোর মতো মরে যাওয়ার পর আমিও ওই পানির ট্যাংকের ওপর পা ঝুলিয়ে বসে থাকব। কল্পনার কোন দিগন্তে যে নিয়ে যেত আমার জানালা!