ক্রিসমাস ট্রির নিচে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এন্ড্রু কিশোর

ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

ক্রিসমাস ট্রির নিচে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এন্ড্রু কিশোর

রাজশাহী প্রতিনিধি ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

print
ক্রিসমাস ট্রির নিচে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এন্ড্রু কিশোর

রাজশাহী মহানগরীর কাজিহাটায় থাকা বাংলাদেশ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সিমেট্রিতে (কবরস্থানে) বুধবার (১৫ জুলাই) চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। শিল্পীর শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী নিজের দেখানো পছন্দের জায়গাতেই সমাহিত করা হবে তাকে। এরই মধ্যে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিমেট্রিতে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে সেখানে ত্রিপল টানানো হয়েছে। বাংলাদেশ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সিমেট্রিতে ঢুকেই হাতের বাম পাশে যেখানে একটি ঘর রয়েছে তার পাশেই সমাধিস্থল তৈরী করা হচ্ছে। সেখানে একটি ছোট্ট ক্রিসমাস ট্রি রয়েছে। এর নিচেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন শিল্পী।

পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৯টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর থেকে এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ কফিনে করে বের করা হবে।

এরপর নেওয়া হবে রাজশাহী শহরের কাজীহাটায় থাকা রাজশাহী সিটি চার্চে। সেখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে। কিছু সময় চার্চেই রাখা হবে শিল্পীর কফিন। স্বল্প পরিসরে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে খ্রিস্ট্রান সম্প্রদায়ের সমাধিস্থলে। বুধবার দুপুরের মধ্যেই তার মরদেহ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সমাহিত করা হবে।

এর আগে চার্চে দু’ঘণ্টার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এবং রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকায় এবং করোনা পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে শিল্পীর মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান বাতিল করেছে পরিবার। সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের অন্যান্য সিদ্ধান্ত আগের মতই আছে।

এদিকে, বাবা এন্ড্রু কিশোরকে শেষবারের মতো দেখতে অস্ট্রেলিয়া থেকে রাজশাহী পৌঁছেছেন তার বড় মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহর থেকে সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ঢাকা হয়ে রাজশাহী ফিরেছেন তিনি। মঙ্গলবার তার রাজশাহী ফেরার কথা থাকলেও একদিন আগেই পৌঁছে গেছেন। তবে আগে এলেও বুধবারই এই কিংবদন্তির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ছেলে জয় এন্ড্রু সপ্তক দেশে ফিরেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বড় মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা টিকিট না পাওয়ায় ফিরতে দেরি হয়। 

এন্ড্রু কিশোরকে যে সিমেট্রিতে (কবরস্থান) সমাহিত করা হবে, সেখানে তার বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এবং মা মিনু বাড়ৈকেও সমাহিত করা হয়েছিল। তবে কিশোরের সমাধি হচ্ছে তার দেখিয়ে দেওয়া জায়গায়। যেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের সমাধি সামান্য একটু দূরে।

শিল্পীর বড় বোনের স্বামী ডা. পাট্রিক বিপুল বিশ্বাস বলেন, ‘প্রতি বছর ১ নভেম্বর খ্রিস্টানরা সমাধিস্থলে যান এবং প্রয়াত  স্বজনদের আত্মার মুক্তির জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন। ২০১৭ সালের এমন এক দিনে এন্ড্রু কিশোর আমাকে নিয়ে সিমেট্রিতে গিয়েছিল। প্রার্থনা শেষে সিমেট্রিটা ঘুরে দেখেছিল।

পরে একটা মনোরম স্থান পছন্দ করে আমাকে বলেছিল যে তিনি যখন মারা যাবেন, তখন যেন তাকে সেখানেই সমাহিত করা হয়। শেষ ইচ্ছের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার দেখিয়ে দেওয়া জায়গাতেই সমাধির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তার আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় একসঙ্গে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হবে।’

রাজশাহীতে জন্ম নেওয়া এন্ড্রু কিশোর প্রায় ১৫ হাজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই শিল্পী ক্যানসারে ভুগছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরেই ছিলেন। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি চিকিৎসার পরও দ্বিতীয় দফায় তার দেহে ক্যানসার বাসা বাঁধে।

ফলে চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দেন। তাই শিল্পীর ইচ্ছায় তাকে দেশে আনা হয় গত ১১ জুন। এরপর ২০ জুন রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় থাকা বড় বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন তিনি। ওই বাড়িটির একটি অংশেই রয়েছে ক্লিনিক। সেখানেই জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত চিকিৎসা চলছিল এন্ড্রু কিশোরের।

আর গত ৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে বোনের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশের প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর। এরপর তার মরদেহ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। ছেলে-মেয়ের অপেক্ষায় ১৫ জুলাই এন্ড্রু কিশোরের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের দিন নির্ধারণ করে পরিবার।