একেন বাবু জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

একেন বাবু জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ

তৌফিকুল ইসলাম ২:৩২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

print
একেন বাবু জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ

অভিনেতা জিয়াউল হাসান কিসলু এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন তৌফিকুল ইসলামের সঙ্গে

শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন বললেন, কিসের শুটিং ছিল?

একটি ল্যান্ড ডেভেলপার কোম্পানির বিজ্ঞাপন ছিল, বিজ্ঞাপনে বলা হয় এ জমির মান খুব ভালো, পরিবেশটা সুন্দর এ ধরনের একটা রিয়েল এস্টেটের বিজ্ঞাপন এটা। সেখানে একটি পরিবারকে দেখানো হবে, যেখানে আমি পরিবারের প্রধান থাকি। আমি সেখানে গিয়েছি ও জমি কিনেছি এবং সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছি জমি কিনতে সেটাই বিজ্ঞাপনে দেখানো হবে। আমার ছেলে, বৌমা ও নাতনিকে সঙ্গে করে আমি জমিটা দেখাতে নিয়ে আসি ও এর মধ্য দিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছি। সাভারের একটা জমির বিজ্ঞাপন এটা।

বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন...
মতিয়া বানু শুকুর রচনা ও পরিচালনায় বিজয় দিবসের একটা নাটকের শুটিং আছে আজ (রোববার)। স্বাধীনতা যুদ্ধের ওপর নাটকটি নির্মিত হচ্ছে। নাটকে আমার সঙ্গে হাসান ইমাম ভাইও আছেন।

নাটকটিতে আপনাকে কী ভূমিকায় দেখা যাবে?
আমি ছেলের বাবা থাকব, আর হাসান ইমাম ভাই আমার বাবা থাকবেন মানে ছেলের দাদা চরিত্রে অভিনয় করবেন।

ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ‘হইচই’-এ ‘একেন বাবু ও ঢাকা রহস্য’ এর প্রচার তো শুরু হয়ে গেছে, তাই না?
হ্যাঁ, প্রচার শুরু হয়েছে।

ওয়েব সিরিজটি সম্পর্কে...
একেন বাবু জনপ্রিয় একটি ওয়েব সিরিজ। এটা অনেক দিন ধরেই চলছে, এর মধ্যে কয়েকটা পর্বে ‘একেন বাবু ও ঢাকা রহস্য’ প্রচার হবে। ঢাকার একটি ঘটনা নিয়ে এর পর্বগুলো সাজানো হয়েছে। এটি একটা গোয়েন্দা সিরিজ। ঢাকায় একটি হত্যাকা- ঘটে, আমি নিজেই হত্যা হই। আমি একটি বিশাল ইন্ডাস্ট্রির মালিক থাকি। ষড়যন্ত্র করে বন্ধুরা আমাকে খুন করে। এটা নিয়েই ‘একেন বাবু ও ঢাকা রহস্য’ এর পর্বগুলো সাজানো। ‘ঢাকা রহস্য’ এর আগে থেকেই তো একেন বাবু প্রচার হয়ে আসছে। এটার জনপ্রিয়তা আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে আগে থেকেই ছিল। আর ‘ঢাকা রহস্য’ পর্বটি যেহেতু আমাদের ঢাকাকে নিয়ে, তাই ঢাকার দর্শকদের এর প্রতি আগ্রহ থাকবে এটিই স্বাভাবিক। আর আমিও এ কারণে ঢাকা রহস্য ওয়েব সিরিজটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছি, ঢাকা নিয়ে যেহেতু ঘটনা। তাই এখানে জড়িত হতে পারাটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভেবে আমি চরিত্রটি করতে রাজি হয়েছি।

আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, ১৯৭১-এর উত্তাল সময়ের স্মৃতি...
১৯৭১ সালে আমি যখন স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি আমি তখন দশম শ্রেণির ছাত্র, আমার বয়স তখন ১৬ বছর ছিল। ওই সময় আন্দোলন চলছিল, তখনও যুদ্ধ শুরু হয়নি। মার্চ মাসে আমি গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদীতে যাই, ১২ মার্চ চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল গেলাম; তারপর ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করলেন, সে সময় আমি অনেকগুলো মাস অবজারভেশনে ছিলাম; গ্রাম থেকে আমি আর শহরে ফিরে যাইনি। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আমি কিন্তু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিনি। আমার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কাজ করলেও আমি এত ছোট ছিলাম দেখে কেউ আমাকে নিতে চায়নি যুদ্ধে।

যুদ্ধে অংশগ্রহণ...
১১ জনের একটি দল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে লুকিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে যায়। আমার বাবা-মা কিছুই জানতেন না, তখন আমি তাদের সঙ্গে পালিয়ে যাই।

যে উদ্দেশ্য নিয়ে দেশকে স্বাধীন করতে অগ্রণী হলেন...
আমার ভেতরে তখন যে জিনিসটা কাজ করেছে সেটা আমি এখনো স্বপ্ন দেখি। এ দেশটা অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ একটা দেশ হবে।
আমরা সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করব। এ দেশে ধর্মে ধর্মে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। সকল ধর্মের মানুষ আমরা শান্তিতে মিলেমিশে বসবাস করব। নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন কোনোদিনই আর এদেশে হবে না। আমরা পাকিস্তান আমলে এ ধরনের নির্যাতন হতে দেখেছি। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি পাকিস্তানি আর্মিরা আমাদের নারীদের কী পরিমাণ ধর্ষণ করেছে। এমন দেশ তো আমরা চাইনি, মুক্ত হতেই হবে; স্বাধীন হতেই হবে।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বা বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ গড়তে স্বাধীনতাকে হাতের মুঠোয় ছিনিয়ে আনতে আমরা দেখলাম যুদ্ধের আর কোনো বিকল্প নেই। কারণ পিঠটা দেয়ালে ঠেকে গেছে।

যুদ্ধকালীন সময়ে...
বেশিরভাগ সময় আমি কমান্ডারের সঙ্গে বিচরণ করেছি, আমাকে ওরা সম্মুখ যুদ্ধে পাঠাতে চাইত না। আমাকে রেকি করতে পাঠাত, তাদের সন্ধান দেওয়া বা সামান্য এক্সপ্লোসিভ বা এ ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য বহন করার কাজগুলো করাত। আমি রাইফেল, এসএলআর, এলএমজি-এর ট্রেনিং নিয়েছি। বিহারে অক্টোবরে আমাদের ট্রেনিংটা হয়। সে সময় শিখ পাঞ্জাবিরা আমাদের ট্রেনিং দেয়, আমি ট্রেনিংটা পুরোপুরিই নিয়েছি। আমি ছিলাম নয় নম্বর সেক্টরে মেজর জলিলের তত্ত্বাবধানে, আর আমার কমান্ডার ছিলেন নিজামুদ্দিন, তাকে আবার যুদ্ধের পর সর্বহারারা মেরে ফেলে; যদিও এটি অন্য প্রসঙ্গ।

যে দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন...
আমার স্বপ্ন যেটা ছিল একটা শোষণহীন সমাজ। বর্তমান সরকার ও জনগণের কাছে আমার একটাই চাওয়া- আমরা ১৯৭১ সালে যে ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও নির্যাতনবিরোধী একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছি, সেটি পূরণে তারা যেন কাজ করেন।

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।