কাজটা কঠিন ছিল

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কাজটা কঠিন ছিল

তৌফিকুল ইসলাম ৩:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

print
কাজটা কঠিন ছিল

তাপস কুমার দত্তের পরিচালনায় দর্শন, পরাবাস্তবতা ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মিশেলে দেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘অনুপ্রবেশ’। এ ছবিতে অভিনয় ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে আনোয়ার সায়েম কথা বলেছেন তৌফিকুল ইসলামের সঙ্গে

 

অনুপ্রবেশ ছবির শুটিং কোথায় কোথায় হয়েছিল?
ছবিটির শুটিং হয়েছিল ফরিদপুর, সাভার, ঢাকা ও কলকাতায়।

এ ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে...
আমি থিয়েটারে কাজ করতাম, তাপস দার সঙ্গে আমার পরিচয় অনেক আগে থেকে, আমরা একই এলাকার। সে হিসেবে সিনেমার প্রতি আমার ফ্যাসিনেশন ও তাপস দার সিনেমা করা, এদিক থেকে আমরা একটা জায়গায় মিলে গেলাম। সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকেই অভিনয় করা। সিনেমার প্রতি ফ্যাসিনেশন আগে থেকেই ছিল, এটার সঙ্গে তাপস দার অনুপ্রেরণায় সিনেমাটা করা।

ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা...
কাজটা কঠিন ছিল, তাপস দা আমাকে সাহস দিয়েছেন। তিনি সাহস দেওয়ার ফলে আমি চরিত্রটি করার সাহস করেছি।

ছবিটির কাহিনী তো বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল...
কাহিনী তো ডেফিনিয়েটলি ভিন্ন ধারার, আমাদের বাংলাদেশের জন্য একদমই নতুন। আমি এটাও ভেবেছি এ ধরনের কাজ করা আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।

ছবিটির দর্শক কেমন ছিল?
ফরিদপুরে ভালো দর্শক ছিল। ঢাকার সিনেপ্লেক্সেও ভালো দর্শক এসেছিল। চারটি শোতেই ভালো দর্শক হয়েছিল ট্রিপিক্যালি যে ধরনের দর্শক থাকে। ব্লকবাস্টারে দর্শক একটু কম ছিল, তবে আমার মনে হয় ব্লকবাস্টারে বাংলা সিনেমার দর্শক একটু কম হয়, হলটাও এক্সপেন্সিভ।

কর্মজীবনে কোনো পেশায় কী জড়িত আছেন?
ব্যক্তিগতভাবে আমি একজন ব্যবসায়ী।

ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চান?
ভবিষ্যতে আমার ডেফিনিয়েটলি কাজ করার ইচ্ছে আছে ভালো গল্প পেলে। আমার অনুপ্রবেশের গল্প একটা মাত্রায় নিয়ে গেছে। এরকম ভালো গল্প পেলে অবশ্যই আমি কাজ করব।

থিয়েটার করছেন এখন?
থিয়েটারে কাজ করা হয় না অনেক দিন ধরেই। আবার কাজ শুরু করছি।

ছবিটি সাতটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে ছবিটি সবার কাছে পৌঁছেনি, এটা কি খারাপ লেগেছে?
সিনেমার প্রচারটা দরকার, আমার মনে হয় সিনেমা তৈরি করা কঠিন, কিন্তু তার চেয়ে বেশি কঠিন সিনেমাটাকে পরিবেশন করা। এক্ষেত্রে অনেকেই প্রফেশনালি আছেন। সিনেমা নয়, যে কোনো ক্ষেত্রেই প্রচারণাটা বেশি দরকার। প্রচারণা না থাকলে আপনার কাছে একটা জিনিস কীভাবে পৌঁছাবে। হলে মানুষ আসবে না, জানবেও না। না জানলে তো আর সিনেমা হলে আসবে না। সিনেমা হলের পরিবেশের উন্নয়ন দরকার, যেন আরামদায়কভাবে সপরিবারে সিনেমা দেখা যায়।

যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই প্রশংসা ও সমালোচনা দুটোই আসে। এক্ষেত্রে ছবিটি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা কি পেয়েছেন?
সমালোচনা আমরা ডেফিনিয়েটলি পেয়েছি। সব ধরনের দর্শকদের জন্য এ সিনেমাটা না। সিনেমাটা কঠিন ছিল, বোরিং ছিল (হাসি), যারা একটু মোটাদাগের বিনোদনটা পছন্দ করেন, তাদের জন্য।
তাদের কাছ থেকে আমরা মোটাদাগে অনেক সমালোচনা পেয়েছি। কিন্তু প্রশংসাটা পেয়েছি যারা সিনেমার থিমটা ধরতে পেরেছে বা আমাদের প্রচেষ্টা যেটা ছিল সেটা বুঝতে পেরেছে। তাদের কাছ থেকে তো আমরা প্রশংসা পেয়েছি।

পরিচালক তাপস কুমার দত্ত সম্পর্কে বলুন...
তাপস দা সম্পর্কে বলতে গেলে আমি এক কথায় বলে শেষ করতে পারব না।
তিনি প্রচণ্ড মেধাবী একজন মানুষ। সিনেমাটা তার ধ্যান-জ্ঞান সবকিছু। তার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। সিনেমার জন্য তিনি অনেক কিছুই ত্যাগ করেছেন। আমাদের দেশের একটা টপ ইউনিভার্সিটির টপ সাব্জেক্ট তিনি ছেড়েছেন সিনেমার জন্য। তার হয়তো সেরকম একটা ক্যারেক্টার থাকত সেখানে, কিন্তু সিনেমার পোকা তাকে সেটার দিকে ধাবিত করেনি। তিনি চমৎকার গল্প-উপন্যাস লেখেন, বিশেষভাবে আমি তার ছোটগল্পের ভক্ত।

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।