আমি একটা দর্শনে বিশ্বাস করি

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ক থা সা মা ন্য

আমি একটা দর্শনে বিশ্বাস করি

তৌফিকুল ইসলাম ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

print
আমি একটা দর্শনে বিশ্বাস করি

নানজীবা খান বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন তৌফিকুল ইসলামের সঙ্গে

দি আনওয়ান্টেড টুইন-এর শুটিং কি শেষ হয়েছে?

হ্যাঁ, আমরা এখন এডিট করছি। অ্যানিমেশন, স্টক ফুটেজ, কালার গ্রেডিং, গ্রাফিক্সসহ অন্যান্য কাজগুলো চলছে। ডকুমেন্টারি ফিল্ম এডিট করতে অনেক সময় লাগে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে আশা করছি।

ছবিটা কবে মুক্তি পাবে?
ছবিটা এডিটিংয়ের পর প্রথমত আমরা সেন্সরে দেব, তারপর প্রিমিয়ার ও অনএয়ার। সে প্ল্যান নিয়েই এগোচ্ছি।

দি আনওয়ান্টেড টুইন নিয়ে বলুন...
এটা হচ্ছে মেইনলি পরিচয়হীন শিশু ও বয়ঃসন্ধিকালীন নারীর উন্নয়ন নিয়ে। আমাদের মোট ৩৮ জন আর্টিস্ট, এর মধ্যে আমরা ১৮ জনই প্রমিনেন্ট আর্টিস্টকে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এটা একটা ডকুমেন্টারি, কনটেন্ট সাপোর্ট হিসেবে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আমাদের একটা সাপোর্ট দিচ্ছে। এটার রচনা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা কনসেপ্ট সবকিছুই আমার। আমি এক বছর গবেষণা করেছি, তারপর ৬ মাস প্রি-প্রোডাকশন করেছি। তারপর এ কাজটাতে হাত দিয়েছি।

এটার বিশেষত্ব কী? আপনি কেন এ ধরনের ডকু-ফিল্ম করার উদ্যোগ নিলেন?
আমি আগে থেকেই শর্টফিল্ম ও ডকুফিল্মই বানাতাম। কিন্তু পূর্ণদৈর্ঘ্য আগে কখনো বানাইনি, এটা আমার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্য চলচ্চিত্র। আমার কাছে মনে হয়, এ সাবজেক্টটা এমন না যে, মানুষ দেখতে পারে বা মানুষের দেখা উচিত। এ সাবজেক্টটা মানুষকে দেখতেই হবে, কারণ এটা আমাদের সময়ের সমস্যা এবং এ সমস্যা দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে। আমরা যদি সমাধান না করি একটা সময় সব উজাড় হয়ে যাবে এবং সেটা রিকভার করাটা খুব টাফ হয়ে যাবে।

দি আনওয়ান্টেড টুইনে সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পীদের মধ্যে সমন্বয় করেছেন...
আমি একটা দর্শনে বিশ্বাস করি যে, খুব অভিজ্ঞ নির্মাতারা নতুনদের নিয়ে কাজ করবেন, তাহলে নতুনরা একটা প্লট পাবে কিংবা কিছু করতে পারবে। আর যারা নতুন নির্মাতা তাদের উচিত সিনিয়র নির্মাতাদের নিয়ে কাজ করা, তাহলে তারা শিখতে পারবে। যেটা আমাদের দেশে একদম উল্টো হয়, নির্দিষ্ট কয়েকজন ডিরেক্টর নির্দিষ্ট আর্টিস্টকে নিয়ে কাজ করেন, আর নতুনরা হা-হুতাশ করে। সিনিয়রদের ক্ষেত্রে একটা জিনিস আমি পজিটিভ বলব, সিনিয়ররা আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন, যেহেতু আমার কনটেন্টটা অন্যরকম তাদের অ্যাকটিং ও বোঝার জায়গা থেকে সাপোর্ট দিয়েছেন।

এত কম বয়সে নির্মাতা হয়ে গেলেন, অনেকেই তো সাহস পান না।
সাহস নেই সেটা কিন্তু না, সাহস আছে। কিন্তু একটা জিনিস চিন্তা করে মানুষ কী বলবে, সবাই শুধু সমাজ সমাজ করে দৌড়ায়, আমি সমাজবিরোধী না; কিন্তু প্রতিবন্ধকতাগুলোর পক্ষে না। আমি আরেকটা কথা বলে রাখি আমার ক্যারেক্টারটা নারীকেন্দ্রিক, আমি কেন নারীকেন্দ্রিক গল্প বানানোর চিন্তা করলাম। ছোটবেলা থেকে একটা জিনিস আমাকে কষ্ট দিত, কমার্শিয়াল ফিল্ম বলেন বা ম্যাক্সিমাম ফিল্মে নায়কের ছবি একটা বিশাল পোস্টার জুড়ে দিত আর নায়িকার ছবি কোনো একটা কোনায় জুড়ে দিয়েছে। আমার কাছে মনে হতো এটা খুব নগণ্য হিসেবে নারীকে উপস্থাপন করা হয়। আমার কাছে মনে হয় এটা হওয়া উচিত না। কারণ কমার্শিয়াল ছবি যদি চলে, মানুষ বলে নায়িকার জন্য চলেছে। যদি ফ্লপ খায়, তাহলে নায়িকার দোষ, এটা আমাকে খুব কষ্ট দেয় এ ধারাটা। ওই জিনিসটা থেকে বের হওয়ার জন্য আমি নারীকেন্দ্রিক গল্প বানিয়েছি। ভবিষ্যতেও আমি নারীকেন্দ্রিক গল্প বানাতে চাই।

আপনার অন্যান্য পরিচয় থাকার পরও ডিরেকশনে আসা...
সবসময়ই আশপাশে থেকে খালি শুনি যে তোমার বয়স কম, তুমি মেয়ে মানুষ, তোমার চেহারা সুন্দর না, এই না সেই না এসব আমাকে খুব ডিমোটিভেটেড করে। আবার অনেক সময় দেখি যে মানুষজন বলে যে মিডিয়া গ্ল্যামারের পূজারি না। আমি যখন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাই, তারপর যখন বাংলাদেশে ব্যাক করি, তখন সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করে আপনার কোনো গ্ল্যামারাস ছবি নেই। মিডিয়ায় মেধা ও গ্ল্যামার দুটো নিয়েই কাজ করে। কিন্তু গ্ল্যামারের পূজারি না, এটা আমি বিশ্বাস করি না। তবে যে যে সেক্টরেই কাজ করুক না কেন, সবসময় কেন যেন ওই দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

ডিরেকশনে আসার পেছনে কী তাড়না কাজ করেছিল?
আমি সাংবাদিকতা ও ডিরেকশন একসঙ্গেই করেছি। ২০১৩ সালেই জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। ইউনিসেফেরও কয়েকটি প্রজেক্টে কাজ করা হয়েছে। ওভারঅল এভাবে করেই চলছে, একটা জিনিস আমার সবসময় মনে হতো ক্যামেরার পেছনেই বোধহয় আমার জায়গা।

মিডিয়াতে কাজ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা...
আমি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে চাই।

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।