মেয়ের নাম দুর্গা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

মেয়ের নাম দুর্গা

তৌফিকুল ইসলাম ২:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৮, ২০১৯

print
মেয়ের নাম দুর্গা

সীমান্ত সজল পরিচালিত ‘দুর্গা ও বনজ্যোৎস্নার গল্প’ নাটকটি আজ রাত ৯টা ৫ মিনিটে এনটিভিতে প্রচারিত হবে। এ নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে শর্মিলী আহমেদ কথা বলেছেন তৌফিকুল ইসলামের সঙ্গে

দুর্গা ও বনজ্যোৎস্নার গল্প নাটকটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বলুন...
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করেই নাটকটির শুটিং হয়েছিল। নাটকে গ্রামের একটা ফ্যামিলি থাকে, মেয়ের নাম থাকে দুর্গা। আমরা হাজব্যান্ড-ওয়াইফ ও মেয়েকে নিয়েই এ তিনজন সদস্যের সংসার থাকে। মেয়ের নাম দুর্গা, শহর থেকে একজন কবিটাইপ শিক্ষিত ভদ্রলোক গ্রামে যান। ডাক বাংলোতে ওঠার পর একটা মেয়েকে ভালো লেগে যায়। সে মেয়ের সঙ্গে ঘুরে-ফিরে বেড়ায়, শেষমেশ সে বিয়ের প্রপোজাল দেয়; কিন্তু মেয়েটির মা বোঝায় তাদের অবস্থার সঙ্গে আমাদের যে পার্থক্য তাতে বোঝা যায় তাদের সঙ্গে আমাদের মিল হবে না। ‘ভালোবাসতে পারো, তবে তাই বলে বিয়ে করতে হবে এরকম কোনো কথা নেই।’ এ কথাগুলো বোঝায়, এরকম টাইপের আর কি। আর হিন্দু পরিবারের পূজার বিষয়টি থাকে।

কাহিনী সম্পর্কে...
লেখক স্বাগতম নতুন লেখার খোঁজে শহর থেকে খানিক দূরে নির্জন বনাঞ্চল সুন্দরপুর ডাক বাংলোয় এসে উঠে। বয়োবৃদ্ধ কেয়ারটেকার হরিপদ স্বাগতম বাবুর দেখাশোনা ও যত্নআত্তির জন্য তার মেয়ে দুর্গাকে দায়িত্ব দেয়। দুর্গা নিয়ম করে স্বাগতম বাবুর রান্নাবান্না করে দেয়, মাঝে মধ্যে চা করে দেয়। স্বাগতম লিখতে বসে মনের ভেতর নতুন লেখা হাতড়ে বেড়ায়। কিন্তু ভাবতে গিয়ে ভালো কোনো কিছু খুঁজে পায় না। কাগজ ছিঁড়ে ঘরের মেঝে জড়ো করে তবুও লেখার কূল-কিনারা পায় না। দুর্গাকে স্বাগতম জিজ্ঞেস করে, এ বনে কী কী পাওয়া যায়? সবুজের গন্ধ পাওয়া যায়, অদৃশ্য আনন্দ পাওয়া যায়, পাওয়া যায় জীবনের ছন্দ। দুর্গা আরও বলে, বাবু তোমাকে পদ্ম পুকুরে বনজ্যোৎস্না দেখাতে নিয়ে যাব। অন্য একদিন দুর্গা শহরের বাবুর জন্য বনে স্থাপিত পূঁজামণ্ডপে মা দুর্গার চরণতলে মিনতি করে মুক্তি প্রার্থনা করে। তখন স্বাগতম মনে মনে বলে, এ কী, মানুষ নাকি প্রতিমা? নিজের মুক্তি কামনা না করে অন্যের মুক্তি প্রার্থনা করে। এতো সাক্ষাৎ মা দুর্গা। গল্পের পরিশেষে স্বাগতম বাবু বুঝতে পারে জ্যোৎস্না আসলে বনে নয়, জ্যোৎস্না থাকে মানুষের মনে। মনের সেই জ্যোৎস্নাকে জাগিয়ে তোলে মানবের তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। তবেই সার্থক হবে এ মানব জনম।

নির্মাতা সীমান্ত সজল অপেক্ষাকৃতভাবে নতুন হলেও ভালো কাজ করছেন, আপনার কাছে কী মনে হয়?
আমি সীমান্ত সজলের আরও একটা কাজ করেছি সেটা শহরের পটভূমিতে। ভালো একজন নির্মাতা, নতুন ছেলে হলেও ভালো কাজ করার প্রচণ্ড আগ্রহ। প্রচণ্ড চেষ্টা করে ভালো কাজ করতে। তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মনে হলো যে একদিন সে সত্যি অনেক ভালো নাটক বানাবে। এখনই সে হাবিজাবি নাটকের মধ্যে নেই। ও মোটামুটি গল্পটা দেখে, শিল্পী দেখে, পরিশ্রম করতে পারে ও আর্টিস্টদের দিয়ে করিয়েও নেয়। আমার মনে হয়েছে ও ভালো করবে। আমার যে দুটো নাটক করা হলো, বেশ ভালোই অভিজ্ঞতা হয়েছে। একটা হলো ওয়াটার ও এ নাটকটা করলাম।

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।