প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাই

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাই

তৌফিকুল ইসলাম ৩:২১ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯

print
প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাই

ক্যান্সারে আক্রান্ত সংগীতশিল্পী পলি সায়ন্তনী তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন তৌফিকুল ইসলামের সঙ্গে।

কেমন আছেন এখন?
এখন শরীরটা বেশি ভালো না। মাঝখানে আমার অপারেশন হলো, সে সময় একটু ভালো ছিলাম। কিন্তু ইদানীং শরীরের যেখানে অপারেশন হয়েছিল সেখানে পেইন, আর শরীরটাও খুব দুর্বল লাগে। সবকিছু মিলিয়ে আমি মোটামুটি আছি, বেশি ভালো নেই।

আপনার কী বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন?
আমি সেটাই চাচ্ছি। কারণ এত দিন তো বাংলাদেশে ট্রিটমেন্ট করলাম। সবকিছুই করলাম, অপারেশন হলো, কেমোথেরাপি নিলাম, রেডিওথেরাপি নিলাম। তারপর তো দেখা যাচ্ছে, আবারও পেইন হচ্ছে। শরীরটা কেমন দুর্বল লাগে। এখন আরও ভালো ট্রিটমেন্টের জন্য দেশের বাইরে যাওয়া দরকার। আমার নিজের ও ফ্যামিলির পক্ষ থেকে চিকিৎসার খরচ বহন করছি। তাই আমি সবার সহযোগিতা চাচ্ছি। দেখি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার ইচ্ছে আছে, ট্রাই করছি, দেখি কী হয়? আমি তো দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করছি। ক্যান্সার তো একটা লংটাইম চিকিৎসার বিষয়।
দেখা যায়, অপারেশন করলাম, সবকিছু নিলাম, ভালো হয়ে গেলাম তা কিন্তু না। এটার জন্য ৪-৫ মাস পর পর ফলোআপে থাকতে হয়, চেকআপ করতে হয়। ক্যান্সার যে কী টাইপের রোগ, সেটা তো সবাই জানে। আমি এই পজিশনে প্রোগ্রাম করতে পারছি না। তারপরও দেখা যায় যে আসলে করতে হয়, কারণ আমাকে তো লংটাইম ট্রিটমেন্ট করতে হবে। এখন এটার জন্য ট্রাই করছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার জন্য। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এত ভালো মানুষ, সে সাধারণ মানুষদেরও হেল্প করে। আমাদের আর্টিস্টদেরও তো অধিকার আছে তার সাহায্য পাওয়ার। জানি না, কতটুকু কী হবে। চেষ্টা তো করছি।

ডাক্তাররা আসলে কী বলছেন সমাধানের ক্ষেত্রে...
ডাক্তাররা বলেছেন আপনি ফলোআপে থাকবেন। তিন মাস পর পর চেকআপ করতে হবে। মেডিসিন তো আমার খেতেই হবে। মেডিসিনের বেশিরভাগই বাইরের মেডিসিন, বাংলাদেশের মেডিসিন আসলে একটা দুইটা। মেডিসিনগুলো খাচ্ছি, তারপরও দেখা যাচ্ছে অপারেশনের ক্ষেত্রে আমার তো ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়েছে। সে কারণে পেইন করে। কেন পেইন করে এটাই আমি বুঝতে পারছি না।
সবাই বলছে, তুমি বাইরে যাও, বাইরে গিয়ে চেন্নাই, কলকাতা বা কোথাও একটা জায়গায় যাও; সেখানে গিয়ে ট্রিটমেন্ট করো। এখন সবার সহযোগিতা পেলে, প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা যদি পেতাম; তাহলে হয়তো বাইরে যাওয়ার একটা উদ্যোগ নিতাম।

এর মাঝখানে সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর, মিলা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল...
হ্যাঁ, ওরা বাসায় এসেছিল। বাসায় এসে আমাকে দেখে গেছে। আর ওদিক থেকে দিনাত জাহান মুন্নী ভাবী মগবাজারে পারভেজের রেস্টুরেন্টে সবাইকে ডেকেছিলেন। তখন অনেক শিল্পীই সরাসরি নিজে এসে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। অনেকে কারও মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
আমার বোন ডলি ও দুলাভাই, সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর দা, রফিকুল আলম, ফরিদ আহমেদ, কুমার বিশ্বজিৎ দা, নাশিদ কামাল, এস আই টুটুল, বাপ্পা মজুমদার, বিনু আহমেদ, আসিফ ভাই, বাদশা বুলবুল, ধ্রুব দা, শামসুদ্দিন ভাই, বিগ বস, শফিক তুহিন, কণা, কিশোর, পুতুল, পারভেজ, অপু, দিনাত জাহান মুন্নী, কবির বকুল, দিঠি আনোয়ার, নওরীন, স্বীকৃতি, লাবণি, শাহনাজ বাবু, ঝর্ণা, নোমান, মম, রওশন আরা মনি, সাব্বির, হৈমন্তী, হুমায়রা বশিরসহ আরও অনেক শিল্পীই আমাকে সহযোগিতা করেছেন।
আমি তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার ফ্যামিলির পাশাপাশি এরা সবাই আমার পাশে ছিল। এখন আমি চাচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর হেল্পটা যদি পেতাম, তাহলে ভালো হতো।

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আমার জন্য দোয়া করবেন।