নাজমা-সুমির পর হুসনা

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৬ চৈত্র ১৪২৬

নাজমা-সুমির পর হুসনা

সৌদিতে নির্যাতিত নারীকর্মীদের আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৯

print
নাজমা-সুমির পর হুসনা

সৌদি আরবে কাজের জন্য গিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার নারী শ্রমিকদের বেঁচে ফেরার আকুতি যেন থামছে না। নিরুপায় হয়ে একমাত্র ভরসা ভিডিওবার্তায় এবার প্রাণ নিয়ে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন হবিগঞ্জের হুসনা আক্তার।

এর আগে একইভাবে গত মাসে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েও প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরতে পারেননি মানিকগঞ্জের নাজমা বেগম। সৌদিতে নির্যাতনে নিহত নাজমার লাশ ৫৩ দিন পর দেশে এসে পৌঁছায় গত ২৫ অক্টোবরে। গত ২ সেপ্টেম্বর সৌদিতে মৃত্যু হয় তার। অমানুষিক নির্যাতনে নাজমার মৃত্যু হয়েছে জানিয়েছেন স্বজনরা। মৃত্যুর আগে নাজমা টেলিফোনে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে স্বজনদের কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের গৃহবধূ নাজমা ১১ মাস আগে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। হাসপাতালে ক্লিনারের চাকরি দেওয়ার কথা বলে পাঠানো হলেও কাজ দেওয়া হয় বাসাবাড়িতে। সেখানে যৌন নির্যাতনসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হতো তাকে।

এরপর ভিডিওবার্তায় জীবন বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে আলোচিত সুমি আক্তার গত ১৫ নভেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। সুমির বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বৈরাতি সেনপাড়া গ্রামে।

সর্বশেষ ভিডিও বার্তা আসে হুসনা আক্তারের (২৪)। সৌদি আরবে নির্যাতনের আরেক শিকার নারীকর্মী হুসনা ভিডিওবার্তায় জানিয়েছেন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হুসনার ভিডিওবার্তার আকুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাসছে। ভিডিওবার্তায় হুসনা বলেন, ‘আমার দালালে ভালা কথা কইয়া পাঠাইছে সৌদি। নাজরান এলাকায় আমি কাজ করি। আইসা দেখি ভালা না। ওরা আমার উপর অত্যাচার করে। আমি ১০/১২ দিন হইছে আছি। এখন এরার অত্যাচার সহ্য করতে পারি না দেইক্কা কইছি আমি যাইমু গা। এই কথা বলায় ওরা আরও বেশি অত্যাচার করে। এজেন্সির অফিসে ফোন দিছি। অফিসের এরা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আর পারতাছি না। তোমরা যেভাবে পারো আমারে বাঁচাও। এরা আমারে বাংলাদেশ পাঠাইতো চায় না। এরা আমারে ইতা করতাছে।’

এভাবেই ভিডিওবার্তায় আকুতি জানান হুসনা। হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের হুসনা আর্থিক সচ্ছলতার জন্য গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে ১৭ দিন আগে ‘আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউশন’ নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান। সেখানে গৃহকর্তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রথমে স্বামী শফিউল্লাহকে ভিডিওবার্তা পাঠান। তার স্বামী সংশ্লিষ্ট এজেন্সিতে যোগাযোগ করলে তারা আরও টাকা দাবি করেন এবং হুসনা সম্বন্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বাধ্য হয়ে তার এক ভাইয়ের মাধ্যমে ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করান।

শফিউল্লাহ বলেন, ‘আমার স্ত্রী সৌদি যাওয়ার এক সপ্তাহ পরই আমাকে কল দিয়ে নির্যাতনের কথা জানায়। আমি তাকে ফিরে আসার জন্য বলি। কিন্তু এজেন্সির লোকজন তাকে আসতে দিচ্ছে না। এজেন্সিতে কল দিয়ে নির্যাতনের কথা জানিয়ে দেশে ফেরার কথা বললে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। মারাত্মক নির্যাতন করে।’

জানতে চাইলে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান খোলা কাগজকে বলেন, নির্যাতনের শিকার নারীর নাম ঠিকানা ও সৌদিতে কোন জায়গায় আছেন সেটা আমাকে জানাতে হবে। তখন আমি মন্ত্রণালয়ে কথা বলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।