ব্রেক্সিট চুক্তিকে ‘ক্ষতিকর’ বলছেন টিউলিপ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কঠিন চ্যালেঞ্জে বরিস জনসন

ব্রেক্সিট চুক্তিকে ‘ক্ষতিকর’ বলছেন টিউলিপ

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:১২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

print
ব্রেক্সিট চুক্তিকে ‘ক্ষতিকর’ বলছেন টিউলিপ

নিজের ব্রেক্সিট চুক্তিতে পার্লামেন্টের অনুমোদন পেতে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। দীর্ঘ টানাপড়েন আর অনিশ্চয়তার পর ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছলেও তা অনুমোদন নিতে হবে সংসদে। এ জন্য আজ শনিবার বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করেছেন বরিস। কিন্তু সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সংসদ সদস্যদের প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়তে পারেন। বিরোধীদের সঙ্গে আপস সম্ভব না হলে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হলে পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে ভোট আয়োজনের সুযোগ একবারই পাবেন জনসন। যদি শনিবার এমপিরা তার চুক্তি প্রত্যাহার করে তবে নতুন আইন অনুযায়ী তাকে অবশ্যই ইইউর কাছে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানোর অনুরোধ করতে হবে। অথচ জনসন বারবার বলেছেন, তিনি সময় বাড়ানোর আবেদন করবেন না। ফলে সব মিলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছেন বরিস জনসন।

গত বৃহস্পতিবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুটি সাফল্যের স্বাদ পান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। প্রথমে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ব্রেক্সিট নিয়ে বোঝাপড়া চূড়ান্ত হলো। পরে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা একযোগে সেই চুক্তির প্রতি সমর্থন জানালেন। দুই পক্ষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রও অনুমোদন করেন তারা। জনসন সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে অংশ না নিয়ে দেশে ফিরে সংসদে তার ‘নতুন’ ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে সমর্থন আদায় করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে সে কাজ যে মোটেই সহজ হবে না, বৃহস্পতিবারই তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।

জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, শুক্র ও শনিবার বরিস জনসনকে নিজের টোরি দল, জোটসঙ্গী উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডিইউপি দল এবং সংসদে বিরোধী পক্ষের কাছ থেকে এই চুক্তির প্রতি সমর্থনের চেষ্টা চালাতে হবে। তিনি এখনো ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে শনিবারই সংসদে এই চুক্তি অনুমোদন করাতে চান তিনি। কিন্তু সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা এবং দলের মধ্যে আবার বিদ্রোহের আশঙ্কার ফলে তাকে বিরোধী ও বিদ্রোহী পক্ষের সমর্থনের প্রয়োজন হবে। এখনো পর্যন্ত জোটসঙ্গী ডিইউপি, বিরোধী লেবার পার্টি ও উদারপন্থি দল এই চুক্তির বিরোধিতা করছে। বরিস জনসন সংসদে যথেষ্ট সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হলে আবার নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে। সংসদের বিতর্কে আগাম নির্বাচন বা গণভোটের দাবি যুক্ত হলে ব্রেক্সিটে বিলম্ব বা ব্রেক্সট বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ব্রেক্সিট চুক্তিকে ‘ক্ষতিকর’ বলছেন টিউলিপ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনের মধ্যকার নতুন ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি মনে করছেন, এই খসড়া নিয়ে সংসদে বিতর্কের জন্য অনেক কম সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।

ডয়চে ভেলে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর বৃহস্পতিবার ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ সংক্রান্ত নতুন এক চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছে। শনিবার ব্রিটিশ সংসদে এই চুক্তি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। তবে অনুমোদনের ভোটাভুটির আগে মাত্র নব্বই মিনিট এ বিষয়ে বিতর্কের সুযোগ পাবেন সংসদ সদস্যরা, যা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ বৃহস্পতিবার টুইটারে লিখেছেন, ‘এটা অত্যন্ত অমর্যাদাকর ব্যাপার যে, এই চুক্তি নিয়ে শনিবার ভোটাভুটির আগে আমাদের মাত্র ৯০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। এটা হচ্ছে বর্তমান সরকারের তৈরি ক্ষতিকর ব্রেক্সিট চুক্তির ব্যাপারে বিতর্কে সুযোগ না দেওয়ার সর্বশেষ উদাহরণ। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ সংকটাপন্ন।’

এদিকে, ব্রিটেনে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি কর্বিন জানিয়েছেন, তার দল সংসদে নতুন ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে ভোট দেবে না। তিনি বলেন, এই বিশ্বাসঘাতকতামূলক চুক্তি আমাদের দেশকে ঐকবদ্ধ করবে না, এবং এটি প্রত্যাখ্যান করা উচিত। ব্রেক্সিট সংকট সমাধানের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে জনগণের চূড়ান্ত মতামত জানতে গণভোটের আয়োজন করা।