বিয়ের আংটি পরানো হলো না ফিরোজের

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২৭ কার্তিক ১৪২৬

বিয়ের আংটি পরানো হলো না ফিরোজের

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ছাত্র হত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

print
বিয়ের আংটি পরানো হলো না ফিরোজের

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সাইবার সিকিউরিটির ওপর পিএইচডি করছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. ফিরোজ-উল আমিন (২৯)। কথা ছিল সামনের ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিয়ে করবেন। গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে তার মা বিয়ের আয়োজনও সারতে ছিলেন। বিয়ের খরচ জোগাতে একটি গ্যাস স্টেশনে কাজও নিয়েছিলেন তিনি। কনেকে দেওয়ার জন্য গত সপ্তাহে বিদেশে বসে পছন্দের আংটিও কিনেছিলেন ফিরোজ। তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

লুইজিয়ানার একটি গ্যাস স্টেশনে ডাকাতির সময় গুলি করে হত্যা করা হয় ফিরোজকে। স্থানীয় সময় গত শনিবার ভোররাতে ইস্ট ব্যাটন রুজে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মালিকানাধীন লাকি’স ভ্যালারো গ্যাস স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত মো. ফিরোজ-উল আমিন লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সাইবার সিকিউরিটির ওপর পিএইচডি করার পাশাপাশি ওই গ্যাস স্টেশনে খ-কালীন ক্লার্কের কাজ করতেন। ইস্ট ব্যাটন রুজের এই গ্যাস স্টেশনেই হত্যা করা হয় ফিরোজকে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক বন্দুকধারী ওই গ্যাস স্টেশনের অফিস ভবনে ঢোকে একং ফিরোজকে গুলি করে ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে চলে যায়। গুলিবিদ্ধ ফিরোজ ঘটনাস্থলেই মারা যায় বলে ইস্ট ব্যাটন রুজ শেরিফ অফিসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

ফিরোজদের বাড়ি গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ সংলগ্ন এলাকায়। গত বছর সেপ্টেম্বরে তার বাবা মারা যান। দুই ভাইবোনের মধ্যে ফিরোজ ছিল বড়। তার মৃত্যু সংবাদে ছোট বোন ও মা ভেঙে পড়েছেন বলে ফিরোজের বন্ধুরা জানিয়েছেন।

লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করা আরেক বাংলাদেশি রিয়াজ আহমেদ জানান, সামনের ডিসেম্বরে দেশে যাওয়ার কথা ছিল ফিরোজের। তখন তার বিয়ের আয়োজন করছিলেন তার মা। বিয়ের জন্য টাকা জমাতে গত কয়েক মাস ধরে ওই গ্যাস স্টেশনে কাজ করছিল ফিরোজ। গত সপ্তাহে বিয়ের আংটিও কিনেছিল। পরিকল্পনা করছিল, বিয়ের পর ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যাবে হানিমুনে। এখন তো সব শেষ হয়ে গেল।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করা ফিরেজ এক সময় টাইগার আইটিতেও কাজ করেছেন। লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তিনি অধ্যাপক গোল্ডেন জি রিচার্ডের অধীনে পিএইচডি করছিলেন। অধ্যাপক রিচার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে গবেষণা করছিল ফিরোজ। সে ছিল অত্যন্ত মেধাবী। ২০২৩ সালে তার কোর্স শেষ হওয়ার কথা ছিল।

নিউ অর্লিয়েন্সের রিজিওনাল ট্রানজিট কমিশনারের দায়িত্বে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি মোস্তফা সারওয়ার জানান, ময়নাতদন্ত শেষে আজ সোমবার ফিরোজের লাশ হস্তান্তর করা হতে পারে। এরপর দেশে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

পাঁচদিন আগে নিউইয়র্ক সিটির রিচমন্ড হিল এলাকায় মো. শাহেদ উদ্দিন (২৭) নামে আরেক প্রবাসী বাংলাদেশি দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন। তার বাবা বাবরউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি। শনিবার সন্ধ্যায় তাদের বাসায় শাহেদের কুলখানি হয়।