আমিরাতে ভিসা বন্ধের ৭ বছর ও বর্তমান হালচাল

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

আমিরাতে ভিসা বন্ধের ৭ বছর ও বর্তমান হালচাল

আব্দুল্লাহ আল শাহীন, ইউএই ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০১৯

print
আমিরাতে ভিসা বন্ধের ৭ বছর ও বর্তমান হালচাল

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ধের ৭ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১২ আগস্ট। ২০১২ সালের আগস্ট মাসের ১২ তারিখ বাংলাদেশিদের জন্য আমিরাতের শ্রমবাজার বন্ধ হয়। দ্বিতীয় শ্রমবাজারে ভিসা বন্ধ থাকায় দেশের প্রবাস গমনেচ্ছু যুবকরা হতাশ। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই মধ্যপ্রাচ্যে আসেন। এসব যুবক মধ্যপ্রাচ্যে এসে পরিবারের হাল ধরেন। ভিসা বন্ধ থাকায় আমিরাতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট দেখা দেয়। জনবলের অভাবে শুরুতে বেশ কিছু ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

দেশের শ্রম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভিসা চালুর জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমিরাতের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে দেশের একাধিক মন্ত্রী ব্রিফিং করেছেন। ২০১৭ সালের মে মাসে একজন মন্ত্রী দুবাই সফর করে ভিসা চালু হওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে (আইডিইএক্স-২০১৯) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমিরাত সফর করেন। সে সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। প্রবাসীদের সঙ্গে আলাপকালে ও মিডিয়া মাধ্যম মন্ত্রী সরাসরি বলেছিলেন আমিরাতের ভিসা চালু। কিন্তু বছর হওয়ার পথে এলেও এখনো ভিসা চালুর কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না।

আমিরাতের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আমিরাতের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পরও অজানা কারণে ৭ বছর থেকে ভিসা বন্ধ রয়েছে।

অনেকের মতে, প্রবাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ভিসা বন্ধ রয়েছে। প্রবাসীদের অপরাধের কারণে ভিসা বন্ধ না রেখে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতো।

আমিরাতের আইনের প্রয়োগ বিশ্বব্যাপী প্রশংসনীয়। আমিরাত সরকার অপরাধ বন্ধ করতে ভিসা স্থগিত বা বন্ধ রাখবে এমনটা মনে করার যৌক্তিকতা নেই। অপরাধজনিত কারণে ভিসা বন্ধ রেখেছে আমিরাত এ কথার মাধ্যমে আমিরাতের প্রশাসনিক ব্যর্থ প্রমাণ করানোর কোনো যুক্তি নেই।

ভিসা বন্ধ থাকলেও আমিরাতে গত ২ বছর থেকে ভ্রমণ বা ভিজিট ভিসা সহজ করা হয়েছে। ভিজিট ভিসা সহজ হওয়ায় দেশের বহুসংখ্যক যুবক আমিরাতে প্রবেশ করেছেন। ভিজিট ভিসায় এসে কেউ ইনভেস্টর বা ব্যবসায়িক ভিসায় বৈধ হচ্ছেন। অনেকে আবার ভিজিট ভিসার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবসায়িক ভিসা না লাগিয়ে অথবা দেশে ফেরত না গিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করা শুরু করেন।

এর মধ্যে গত বছর আমিরাত সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। তার পরিপ্রেক্ষিত বহুসংখ্যক অবৈধ প্রবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে আবারও ভিজিটে এসে কিছুসংখ্যক প্রবাসী অবৈধভাবে বসবাস করা শুরু করেছেন।

এদিকে দেশে অবস্থানরত যুবকদের ধারণা আমিরাতে যেহেতু ভিজিটে গিয়ে ভিসা লাগানো যাচ্ছে, সেহেতু কাজের অভাব হবে না।