খাদিজার পাশে কেউ থাকে না

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

খাদিজার পাশে কেউ থাকে না

খোলা কাগজ ডেস্ক ১০:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৯

print
খাদিজার পাশে কেউ থাকে না

লাভলী রহমান, আপনার হাইট ফোবিয়া আছে? আমার কিন্তু হাইট ফোবিয়া প্রবল। দুই তলা থেকে নিচে তাকালেই অস্থির লাগে। মাথা ঘুরতে শুরু করে। হাত-পা কাঁপে। ভয় কাটানোর জন্য একবার এক বড় ভাই প্রায় এক তলা সমান উঁচু এক জায়গা থেকে ফেলে দিয়েছিল।

সেবার আমার ভয় ভাঙেনি তবে পা ভেঙেছে। আপনিও কী বাড়ির মেয়েটির ভয় ভাঙানোর জন্য আমার অই বড় ভাইয়ের মতো ব্যবস্থা নিলেন? স্যরি, বাড়ির মেয়ে না, কাজের মেয়ে! দুটো দুই প্রজাতির তা জানিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। গৃহকর্মী খাদিজাকে দশ তলার বারান্দার গ্রিল খুলে বাইরে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন আপনি।

শুধু এটাই নয়, আবার গ্রিলে তালা মেরে দিয়ে হয়তো হিন্দি চ্যানেলের কোনো রিয়্যালিটি শোর মতোন কঠিন টাস্ক দিয়েছিলেন! কী পাশবিক আনন্দ! একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে মানুষের কল্যাণেই আপনার এগিয়ে আসার কথা তাই এই কাজের পেছনের উদ্দেশ্যটা বোঝার চেষ্টা করছি।

খাদিজা নিজের অবস্থান বুঝতে পেরেছে বলেই লোকজন যখন এই উঁচু জায়গায় যাওয়ার কারণ জানতে চাইল তখন ভয়ে মুখ খোলেনি।

খাদিজা জানে, সবাই চলে যাবে কিন্তু মানুষ না হওয়ার অপরাধে তাকে থেকে যেতে হবে লাভলী রহমানের বাসাতেই। লাভলী রহমান, জানি আপনারা ভালো থাকবেন আজীবন আর খাদিজা হবে নগরীর কনিষ্ঠ শামুক। কাজের লোক হওয়ার অপরাধে নিজের সব লজ্জা, বিষাদ, কষ্ট নিয়ে মুখ লুকাবে খোলসের ভিতর! বাইরে বের হওয়ার, মানুষের চোখে পড়ার চেষ্টা থাকবে না তার আর। খাদিজাকে দেখার জন্য পাশে কেউ নেই। থাকে না। মানুষও খাদিজাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

কিঙ্কর আহসান
কথাসাহিত্যিক