চিন্তার ছাপে তারুণ্য হাসে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

চিন্তার ছাপে তারুণ্য হাসে

এগারোজন ডেস্ক ১:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

print
চিন্তার ছাপে তারুণ্য হাসে

করোনার জন্য যখন ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেল তখন মোটামুটি সবার কপালে ভাঁজ পড়েছিল। ঘরে বসে কী করে কাটবে এ সময়! সিনেমা কিংবা টিভি সিরিজের ওপর ভর করে অনেকেই সময়টা পার করার চিন্তা করলেও তা খুব একটা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বিরক্তি এসে ভর করে নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন ব্যাপার। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন, একঘেমেয়িতায় অনেকে পিষ্ট হয়েছেন। তবে এর মাঝেও কিছু মানুষের চিন্তার ছাপে তারুণ্যের হাসোজ্জ্বল চেহারাটাও ফুটেছে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগারজন’র সদস্যরা জানাচ্ছিলেন কীভাবে তাদের সুন্দর চিন্তাগুলো একঘেমেয়িতার বিপক্ষে কাজ করেছে।

সব্যসাচী নিলয়
এই মহামারীর সময়টায় আমরা নিজেদের জন্য অনেক সময় পেয়েছি। আমি এই সময়ে নানান কাজের মাধ্যমে একঘেমেয়িতাকে দূরে রেখেছি। কখনো অনলাইন কোর্স করে দক্ষতা বাড়িয়েছি, আবার সাহিত্যচর্চা করে সময় কাটিয়েছি, তো আবার কখনো ছবি এঁকেছি। আর সিনেমা কিংবা টিভি সিরিজ দেখা তো ছিলই। কিছুদিন আগে আবার হঠাৎ ইচ্ছে হয়েছিল ফ্রিল্যান্সিং করার। আগে থেকে ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং পারার সে ইচ্ছাটাও পূরণ হয়। তবে এই সময়ে সবচেয়ে ব্যস্ত কিন্তু উপভোগ্য সময় পার করেছি সিলেট চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনে। প্রথমবারের মত অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সিলেট চলচ্চিত্র উৎসবের চতুর্থ আসর। সেখানে আমার সুযোগ হয়েছে দেশ-বিদেশের অনেক তারকা ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাথে আলোচনার। এখন আবার অনলাইন ক্লাস চলছে। তাই দেখতে দেখতে ছয় মাস কেটে গেছে।

সমন্বয়ক
এগারজন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

জয়নাল আবেদীন
এই মহামারীর সময়ে নিজের পরিবারকে নিয়ে সুস্থ থাকাটা এক বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও নিজের পরিবারের সবাইকে কিভাবে সচেতন থাকতে হবে তা জানিয়েছি, পাশাপাশি নিজ এলাকায় মাইকিংও করেছি সবাইকে সাবধানে চলাফেরার কথা বলেছি। আবার এই সময়ে চুরি ডাকাতির একটা প্রভাব ছিল বলে এ ব্যাপারেও এলাকার জনগণকে সচেতন করেছি। অনলাইনে আমাদের ক্লাস চলছে। এটিও আমাদের আবার সামান্য চাঙ্গা করে তুলেছে। এই সময়ে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস করার জন্য যে আর্থিক লোন এর ব্যবস্থা সরকার করেছে এটা একটি যথার্থ উদ্যোগ।

সভাপতি
এগারজন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

তৌফিক আহমেদ চৌধুরী
মহামারির এই সময়ে বিশেষ কোন দরকার ছাড়া সবাই বাসায় অবস্থান করছি। এইক্ষেত্রে বাসার সবার সাথে সম্পর্ক আরোও শক্ত হচ্ছে। আগে ছোটবেলায় আব্বু উনার কাজে বিজি থাকতো বলে তেমন পাওয়া যেত না। এখন অবসরে আমরা নিজেরা বিজি থাকি। যারা হলে থাকি তারা তো অনেক দূরে আর বাসায় থাকলেও কোনও না কাজে বাইরে থাকতে হয় সারাদিনই। তাই এই মহামারির সময়ে এই জিনিস টা উপভোগ করছি। আর কাজ বলতে অনলাইন ক্লাস চলছে, পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন জার্নাল পড়ছি যেহেতু সামনে আমাদের প্রজেক্ট আছে।

সহ-সভাপতি
এগারজন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

তাসনিমুল হক ইফতি
দুরন্ত গতিতে চলতে থাকা জীবন যে হঠাৎ থমকে দাঁড়াবে সেটি কে ভেবেছিল! জীবনের দুরন্তপনার মাঝে আমরা যেন ভুলতে বসেছিলাম জীবনের আসল মর্ম। এই মহামারী দুরন্ত গতিতে চলতে থাকা জীবন থমকে গেলেও আমাদেরকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে, সবাইকে জীবনটাকে উপভোগ করতে শিখিয়েছে, অজানাকে আরো জানার সুযোগ করে দিয়েছে, মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত ইচ্ছেগুলোকে ডানা মেলার সুযোগ করে দিয়েছি, আপন জনদের আরো আপন হবার সু্যােগ হয়েছে। হয়তো এই দীর্ঘ সময়টা অনেকের জন্য কষ্টের, অনেকের জন্য হতাশা। কিন্তু আমরা যারা এই দীর্ঘ সময় স্রষ্টার অশেষ রহমতে সুস্থ আছি, পরিবারের সবাই সুস্থ আছেন তারা আসলেই ভাগ্যবান।

সাংগাঠনিক সম্পাদক
এগারজন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়