দেখা হবে কবে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৩ কার্তিক ১৪২৭

দেখা হবে কবে

জসীম উদ্দিন ১:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

print
দেখা হবে কবে

দীর্ঘ ছয় মাস হতে চলল, করোনার জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ। সেই যে গত মার্চের ১৬ তারিখ বন্ধ হয়েছিল তারপর আর খোলা হয় নি। জানি না তবে কবে খোলা হবে আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস? এদিকে তোমাকে (ক্যাম্পাস) না দেখার ফলে অস্থিরতায় বিষন্ন, বিদগ্ধ হই, হচ্ছি আমি কিংবা আমরা প্রতিটি মুহূর্তে। তাতে হৃদয়ের ছোট্ট কুটিরে প্রতিনিয়তই আন্দোলিত হয় কিছু আজানা প্রশ্ন, কবে হবে দেখা হে প্রিয় ক্যাম্পাস? কেমন আছ তুমি? তুমি কি কখনো একাকিত্বের তীব্র যন্ত্রণায় হামাগুড়ি খাও? কিংবা কেমন আছে আমার প্রাণপ্রিয় বন্ধুরা?

মাঝে মাঝে আমার মনে হয় আমি কিংবা আমরা আছি এক মহাকাশ দূরত্বে যেটা অতিমাত্রায় কষ্টকর। আমাদের ভিন্ন দেহে এক প্রাণ (বন্ধুত্ব), তবে কেন ভিন্ন দেহগুলো এক মহাকাশ দূরত্বে, যেকারণে একাকিত্বের বিষাদানলে প্রতিনিয়তই দগ্ধ হচ্ছে আমাদের প্রাণ। তবে কি আমাদের প্রাণ এভাবেই জ্বলতে থাকবে নাকি শীঘ্রই দূরত্বটা সংকীর্ণ হয়ে দূর হবে আমাদের একাকিত্ব? আমরা সেই সোনালী দিনগুলো আবার কবে ফিরে পাব? চৈত্রে তোমাকে (ক্যাম্পাস) ছেড়ে এসেছিলাম, আমার বন্ধুরা সব দূরে যাওয়ার শেষ বিদায়টা তখন নিয়েছিল। তারপর বৈশাখের বৈশাখী ঝড় গেল, আষাঢ়ে গেল দক্ষিণা বাতাসের বেগে তুমুল বৃষ্টির ঝাপটানি, শ্রাবণে এল অঝোর ধারায় দিনভর বৃষ্টি। তবুও আমি না হতে পারলাম তোমার ঝড়ের সাথী, না হতে পারলাম রিমঝিম বৃষ্টি ভেজা তোমার শ্রাবণ বেলার সঙ্গী। কিংবা পারি নি দিতে বৃষ্টি ভেজা শ্রাবণের দিনে সব বন্ধুরা মিলে ধোঁয়া ওঠা চায়ে একসাথে চুমুক।

রাজু ভাস্কর্য, অপরাজেয় বাংলা, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা, স্বাধীনতার সংগ্রাম আজ নিরবধি একা একা। কোথাও কেউ নেই, নেই তাদের কোনো সঙ্গী। আছে জনশূন্য সবুজ প্রান্তর, নিরিবিলি পরিবেশ আর উদাসীন বিকেলের ঘনকালো মেঘের ডাকে হঠাৎ বৃষ্টির তীক্ষè ছোবল। প্রিয় ক্যাম্পাস, তোমার সাথে কবে আবার দেখা হবে?

টিএসসির অডিটোরিয়ামে চায়ের আড্ডা, ফুলার রোডে বিকালে হাটাহাটি, ভিসি চত্বরে বসে বাদাম খাওয়া, হাকিম চত্বরে ক্লাসের ফাঁকে খিচুড়ি কিংবা ড্রাই ফুডসের লাঞ্চ, ডাকসুতে বসে আমাদের চা পার্টি আজ অনেকদিন ধরে হচ্ছে না। এমনকি অনেকদিন ধরে দেখছি না কার্জনের বুকে কারো প্রিয়তমাকে দেওয়া কাঠগোলাপের প্রপোজাল।

শুনছি না সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সিঁড়ি থেকে কিংবা টিএসসির করিডোর থেকে চার/ছয় তারের গিটারের বাজনা বা কারো গলায় গানের সুর।

আজ ভাদ্রের তীব্র জোছনা যখন পৃথিবীর বুকে আচড়ে পড়ে তখন আমি প্রান্ত পথে একা বসে নিরিবিলি ভাবি, আজ আমার বন্ধুরা সব কই?

আমার আরো মনে পড়ে সেই সোনালী বিকেল, সন্ধ্যা, রাতের কথা।সন্ধ্যার আকাশে সূর্যের কিরণ যখন মৃদু-শান্ত হতো আমাদের আড্ডার প্রভাত তখন শুরু হতো। আহা! কত না আড্ডা, কত না সুখ।কত না রাত জাগা ল্যাম্প পোস্টের আঁচড়ে পড়া আলোতে নিস্তব্ধ ঢাকার বুকে আমাদের ঘুরাফেরা।

ডাইনিং টেবিলে বসে সিনিয়র জুনিয়র কিংবা বন্ধুরা মিলে কত না খোলামেলা গল্প। সিনিয়র ভাইরা কত না পরামর্শ দেয় যা জীবনে চলার পথে অনেক প্রয়োজন। আমরা জানি যে যতদূর হাটে সে ততটুকু দূরের খবরটা জানে। ভাইরা সে-রকমই সামনে এগিয়ে যেতে কোথায় বাধা আসতে পারে তার পূর্বজ্ঞান প্রদান করে।

আমার আজকের ক্লান্ত মন জানতে চাই, আমাদের আবার কবে সেই ডাইনিং টেবিলের এপাশ-ওপাশ বসা গল্পের ভাষ্যগুলো জীবন্ত হয়ে উঠবে? কবে আমাদের দেখা হবে? আশা করছি শীঘ্রই আমাদের দেখা হবে। বিষন্নতা, অবসাদ কাটিয়ে অতি দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়