তাদের প্রিয় বই

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

তাদের প্রিয় বই

অর্ক রায় সেতু ১:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

print
তাদের প্রিয় বই

বই মানুষকে দ্বিতীয় আরেকটি মানুষে রূপ দেয়। সেখানে মিশে থাকে ফুলের মতো অজস্র সৌন্দর্যের অনুভূতি। বই কি তবে নক্ষত্র তৈরি করে? শহরময় জীবনে প্রিয় মানুষটির লেখা প্রিয় বইয়ের আদলে জমা অনুভূতিগুলোর গল্প কেমন হয়? জানালেন অর্ক রায় সেতু

উইদারিং হাইটস্
Withering heights উপন্যাসটি নামের মতোই এক বিধ্বংসী ভালোবাসায় ভরা একটি কাহিনী। প্রথম প্রজন্মের ক্যাথরিন ও হীথক্লিফ এর অপরিণত ভালোবাসা হীথক্লিফকে প্রতিশোধ স্পৃহায় পূর্ণ করে তোলে। যার কারণে সে সকলের প্রতি অমার্জনীয় ব্যবহার করে এবং ক্যাথরিনের মৃত্যুর পর সকলের জীবন দুর্বিষহ হয়ে যায়। কিন্তু এরপরও দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্যাথরিন ও হ্যারেটন এর ভালোবাসার সার্থকতায় সমাপ্ত হয় এই উপন্যাসে। গল্পে লেখিকা হীথক্লিফকে একইসাথে নায়ক ও খলনায়কের চরিত্রে অবতারণ করেছেন। ভালোবাসার উত্থান-পতন, প্রতিশোধ, সামাজিক বৈষম্য এইসব মিলিয়ে বইটি এক অনবদ্য ছাপ রেখে যায় আমার মনে।

উপমা শর্মা
সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম


শেষ প্রশ্ন
প্রিয় বইয়ের তালিকা বা ভাবনার অবিধান বিশাল। তবে আমায় সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শেষ প্রশ্ন নামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী উপন্যাস। এই উপন্যাসের মূল চরিত্রে ছিল কমল। সে ভালোবেসে বিয়ে করে শিবনাথকে। তারপর মেয়েটিকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয় কমল। শিবনাথ বিয়ের পর মনোরমাকে ভালোবাসলেও কমল তার চোখের জল বা অনুতাপের মাধ্যমে আটকে রাখতে চায় নি তার ভালোবাসার মানুষকে। এই পুরুষশাসিত সমাজে একা পথ চলেছেন এবং প্রতি পথে প্রশ্ন তুলে আঘাত করেছেন সমাজকে। এই সকল কারণে এই প্রতিবাদী চরিত্রটি আমার পছন্দের।

তীর্ণা মজুমদার
সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম


সাতকাহন
বইটি পশ্চিমবঙ্গের লেখক সমরেশ মজুমদারের কোমল হাতে লেখা সাতকাহন পড়ে মনে হয়েছে লেখক তার সারাজীবনের অভিজ্ঞতা এই গল্পে সঞ্চয় করে রেখেছে। গল্পটিতে তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যে দীপাবলির কাছে একুশ শতকের নারীর ভাবচিহ্ন প্রতি পদে ফুটে উঠেছে। তার একটু উড়নচ-ী ভাব, ছেলেবন্ধুর সাথে মেশা, হাতির তাড়া খেয়ে দৌঁড়িয়ে পালিয়ে যাওয়া, ঠাকুরমার ঝাড়ি খেয়ে আবার ঠাকুরমার কোলে ঘুমানোর মতো চির-সতেজ রুপ দেখা গিয়েছে তার মাঝে। আবার ১১ বছরের সদ্য কিশোরীর স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবার কঠিন নিয়ম পালন করেছে সে। এই গল্পে দীপাবলি প্রমাণ করেছে নারীর জীবন শুধু সংসার জীবন নয়, চার দেয়ালের ভেতর নয় বা পুরুষকেন্দ্রিক নয়। একজন পুরুষের জীবন আর নারীর জীবনের কোনো পার্থক্য নেই। গল্পটি সমাজের সকল মেয়েদের উঠে দাঁড়ানোর জন্য উদ্ভুদ্ধ করে।

প্রমিলা বড়ুয়া
মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম


দ্বীপ
হুমায়ূন আহমেদ এর দ্বীপ উপন্যাসটি ছেলে ও তার মা-বাবাকে কেন্দ্র করে। এখনও দ্বীপের গন্ধ আমার পড়ার ঘরে ভেসে বেড়ায়। তাদের একমাত্র সন্তান শুভ্র। সে চোখে দেখতে পেতোনা। তাই চশমা পড়ে থাকে। চশমা ছাড়া আর চশমা দেওয়া অবস্থায় দুটি ভিন্ন দুনিয়ায় দেখতে পেত শুভ্র নিজেকে। তার মা তাকে শাসনের মধ্যে মানুষ করেছে। কিন্তু তিনি শুভ্র’র চশমা আনতে গিয়ে তার বিছানায় একটি ফিজিক্স রিলেটেড এবং একটি মেয়ে রিলেটেড বই দেখতে পেল। তখন তিনি বুঝতে পারলেন শুভ্র এখন বড় হয়ে গিয়েছে। তার বয়স এখন বাইশ। মা ভাবলেন এখন তার একটা চঞ্চল মেয়ে দরকার যার বয়স হবে ষোল যে কথায় কথায় রাগ করবে। যা তিনি পান নি তার বিবাহিত জীবনে। শুভ্র’র বাবা ইয়াজউদ্দীন কখনো তাকে কোনো মুহুর্ত উপহার দিতে পারেনি। এক কথা অনুভূতির পাহাড় পুরো গল্পে।

নবনীতা চৌধুরী
চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ, নাসিরাবাদ