সাগরদাঁড়িতে ভ্রমণ

ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ | ১১ কার্তিক ১৪২৭

সাগরদাঁড়িতে ভ্রমণ

শাহরিয়ার সজীব ১২:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

print
সাগরদাঁড়িতে ভ্রমণ

সাগরদাঁড়ি; সবুজের মায়ায় ঘেরা ছোট্ট একটা গ্রাম। কপোতাক্ষের তীর ঘেসে বহুকাল ধরে দাঁড়িয়ে আছে শ্যামল মায়ের গ্রাম সাগরদাঁড়ি। সনেট খ্যাত মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমি ছিলো এটি। এমন কোথাও যদি আপনি ঘুরতে যেতে চান যেখানে আপনার জন্য সৌন্দর্য্য, সাহিত্য এবং ইতিহাসের সমাহার থাকবে তাহলে সাঁগরদাড়ি গ্রাম থাকবে আপনার পছন্দের তালিকার একেবারে শীর্ষে।

এই গ্রামটি যশোর জেলার কেশবপুর থানার অন্তর্গত। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাবা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন তৎকালীন জমিদার। বিশাল জায়গা জুড়ে থাকা জমিদারবাড়িটি এখনো তার জৌলুসের জানান দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সাঁগরদাড়িতে অবস্থিত এই বাড়িতেই মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছেলেবেলা কাটে। বাড়ির পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বিখ্যাত কপোতাক্ষ নদ যার মন ভোলানো সৌন্দর্য্যে আপনি মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না। এই নদের কালোজলে যখন বিকালের সূর্যের স্নিগ্ধ আলো পড়ে তখন আপনার চোখ সেই দৃশ্যে বিমোহিত হয়ে উঠবে। কবির এই নদকে নিয়ে লেখা সনেট হয়েছিলো পৃথিবীখ্যাত।

ভ্রমনপিয়াসুরা এখানে এলে দেখতে পাবেন গ্রামের শুধুতেই একটা প্রাচীন মসজিদ অবস্থিত যেখানে মহাকবি আরবি, ফারসি এবং উর্দুসহ বেশকিছু বিদেশী ভাষা শিখেছেন। সেখান থেকে কিছুটা পথ পেরিয়ে এলেই পড়বে পদ্মপুকুরসহ জমিদারবাড়ি। এখন পুরো বাড়িটি ঘিরেই তৈরী করা হয়েছে পুরাতত্ত্বব জাদুঘর। এখানে আপনি দেখতে পাবেন কবির নিজ হাতে লেখা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ বিভিন্ন গুণীজনদের কাছে পাঠানো চিঠিপত্র এবং তৎকালীন জমিদারদের ব্যবহার্য দ্রব্যাদি যেগুলো প্রমাণ করে যে তারা তখন কতটা সমৃদ্ধ ছিলো।

বাড়ির ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটা দূর্গামন্দির। প্রতিবছর খুব জাঁকজমক করে দূর্গাপূজা করা হতো এখানে। বিশাল পদ্মপুকুরের পাশেই অবস্থিত কাছারিঘর। এখানে মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাবা রাজনারায়ণ দত্ত জমিদারি কার্য পরিচালনা করতেন। পরবর্তিতে এই কাছারিঘরকে লাইব্রেরিতে রূপান্তর করা হয়। এই লাইব্রেরিতে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা বেশকিছু বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে।

বাড়ির দক্ষিনপাশে মাইকেল গবেষকদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠেছে আরো একটি জাদুঘর যেখানে শোভা পেয়েছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনের দূর্লভ আলোকচিত্রসমূহ, নিজ হাতে লেখা ডায়েরীর খন্ডাংশ, অর্থ সাহায্য চেয়ে কবির লেখা চিঠি এবং কবির পরবর্তী প্রজন্মের ইতিহাস।

শাহরিয়ার সজীব
সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়