মা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মা

শাহিনুর ইসলাম ১:০৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

print
মা

‘মা’ শব্দটি কোনোরকম বিতর্ক ছাড়াই সন্তানের কাছে সবচেয়ে প্রিয়তম শব্দ। যে নামের মধ্যে রয়েছে হাজারো আবেগ, অনুভূতি, অপেক্ষা, নানা প্রতীক্ষা, জীবনের মানে, অপরিমাপযোগ্য ভালোবাসা, যা হয়তো কখনো পরিমাপ করা যাবে না, যাবে না কোনো তুলনা করা, এই শব্দের মাঝে লুকিয়ে আছে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি সূচনা, জীবনের সম্ভাবনা, চাওয়া-পাওয়া, জীবনে দুঃখ-কষ্ট, যা বিশ্লেষণ করে কখনো শেষ করা যাবে না, সেই একটি নাম, একটি অনুভূতির নাম, একটি ভালোবাসার নাম, গল্প স্মৃতিময় জীবনের নাম, ভালোবাসার অপর নাম ‘মা’।

এই ‘মা’ শব্দটি নিয়ে লিখলে হয়তো একটি কবিতা, একটি কাব্য, একটি গ্রন্থ, একটি বই, একটি বিদ্যাসাগর, একটি সমুদ্র নদীর গভীরতা, একটি পাঠাগার, জীবনের প্রতিটি ঘটে যাওয়া স্মৃতিময় কিছু কথা, হৃদয়কে নতুন করে স্পর্শ করা কিছু গল্প, যা লিখলে কখনো শেষ করা যাবে না এই শব্দের, নামের মাধুর্য যা, হয়তো কোনো বিশেষণ দিয়ে শেষ করা যাবে না।

‘মা’ ডাকটি যেন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সত্যিই ‘মা’ নামক এই শব্দটিকে কোন পরিমাপ করা যাবে না, যাবে না কোনো কারও সঙ্গে তুলনা করা। ভালোবাসার কোনো বিশেষ দিন, কোনো বিশেষ ক্ষণ, কোনো বিশেষ মুহূর্ত নেই, জীবনে প্রতিটি সময়, প্রতিটি রক্ত কণিকায়, প্রতিটি মুহূর্তে বিদ্যমান ভালোবাসা।

আর এই ভালোবাসার প্রতিটি মুহূর্ত জুডেই রয়েছে ‘মা’ নামক শব্দটি।

ভালোবাসি হারানো দিনের স্মৃতিকে, ভালোবাসি আগামীর দিনগুলোকে, ভালোবাসি প্রতিটি মুহূর্তকে, আমি ভালোবাসি ‘মা’কে।

আমরা হয়তো অনেকেই অনেক সময় মা-নামক শব্দটিকে সোশ্যাল মিডিয়া, আর বাহ্যিক, কাব্যিক নানান জীবন ধারায় আলোকপাত করি! সেখানে তেমন নেই কোনো পূর্ণতা, ঠিক তেমনি পাই না মায়ের বিশালতা, কারণ যে নামটা জড়িয়ে থাকবে হৃদয় জুড়ে, হৃদয়ের প্রতিটি বিন্দু কণা, প্রতিটি আবেগে, প্রতিটি মুহূর্তে, জীবনের প্রতিটি ধাপে শুধুই প্রিয় সেই নাম ‘মা’।

‘মা’ শব্দটি নিয়ে ইতিহাসের কিছু কথা- আমেরিকার গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময় এক মায়ের সন্তান অন্য মায়ের সন্তানকে হত্যা করেছিল অবলীলায়। ঠিক সে দিনকে উপেক্ষা করে ১৮৭০ সালে ‘জুলিয়া ওয়ার্ড হাউ’ নামে এক গীতিকার ‘মা’ দিবস পালনের প্রস্তাব দেন এবং সেই সঙ্গে ১৬ শতকে ইংল্যান্ডে মা দিবস পালন করা হতো।

অর্থাৎ ‘মা’ নামক প্রিয় শব্দটি যেমনটি রয়েছে হৃদয়ে ঠিক তেমনি হয়েছে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে। ‘মা’ বা নারীর মূল চরিত্র হিসেবে অথবা শিরোনাম করে রচিত হয়েছে অনেক সাহিত্য যেমন, পল্লী কবি জসিমউদ্দীনের মা যে জননী কান্দে, জহির রায়হানের শেষ বিকেলের মেয়ে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বড় দিদি ইত্যাদি।
মায়ের ভালোবাসা আর স্নেহের আঁচলে সন্তান ভুলে যায় সব কষ্ট আর ব্যথা, তেমনি তার সব আনন্দের পরিপূর্ণতা পায় মায়ের আনন্দে। এভাবেই বেঁচে থাকুক প্রতিটি মা ও সন্তানের ভালোবাসা, যার নেই কোনো অবক্ষয়, নেই কোনো হারানোর ভয়, যা কখনো হয় না ক্ষণ্ন-বিক্ষণ্ন আর এই ভালোবাসাটা রয়েছে সৃষ্টিকর্তার মূলে। তাই আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি এবং আমি নির্দ্বিধায় বলতে চাই, এই ‘মা’ হচ্ছে নারীর আরেকটি রূপ।

সহসভাপতি, এগারজন
রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী।