ধাঁধার চরে বনভোজন

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ধাঁধার চরে বনভোজন

শামীম শিকদার ১২:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৯

print
ধাঁধার চরে বনভোজন

আমাদের ঘুরাঘুরির অভ্যাসটা অনেকটা পুরনো। আমাদের বলতে আমার বেশ কয়েকজন বন্ধুরাও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে। ঘুরাঘুরির জায়গার মধ্যে অশ্যই তা নতুন ও আকর্ষণীয় হওয়া চাই। এক জায়গায় বার বার যেতে তেমন ভালো লাগে না। তবে তা মনোরম আকর্ষণীয় পরিবেশ হলে ভিন্ন কথা। দূরে কোথায়ও না যেতে পারলেও বাড়ির আশপাশের অঞ্চলগুলোতে প্রতিদিন বিকালে যাওয়া হয়। তাতে কতটা তৃপ্তি কাজ করে তা না বুঝলেও এটা ঠিক বুঝতে পারি একেবারে মন্দ লাগে না। ঘোরাঘুরির অভ্যাসকে কেন্দ্র করেই একদিন হঠাৎ করে চলে গেলাম বন্ধুর বরই বাগানে, সাথে অরেক বন্ধু হালিম।

বরই বাগান বলতে, তার বাবা ব্যবসায় করে বলে বাড়ি থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে একটি চরের মধ্যে বরই বাগান কিনে রেখেছে। চার পাশে পানি আর পানি মধ্যে চর জেগে উঠেছে সেখানে আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, বরইসহ নানান ধরনের সবজির চাষ হয়।

চরটির লম্বায় প্রায় ৩ কিলোমিটারের উপরে। সেখানে যাওয়ার জন্য তেমন কোনো সড়ক না থাকলেও ছোট বা বড় নৌকা দিয়ে খুব সহজে যাওয়া যায়। দূর থেকে কেউ দেখলে মনে করবে একটি ট্রাইটানিক জাহাজ ভেসে আছে আর তার বুকে সবুজে সবুজে খেলা করছে। এই চরটির নাম দিয়েছে মাঝের চর বা মাইঝ্যার চর আবার কেউ কেউ ধাঁধার চর বলেও জানে।

চরের দুপাশ দিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেত। মধ্য দিয়ে রয়েছে কলাবাগান, লেবুবাগান, পেয়ারা বাগান, বরই বাগানসহ নানান ধরনের গাছ। প্রকৃতিকে ভালোবাসে এমন মানসিকতা যাদের মাঝে রয়েছে তাদের ঘুরার জন্য ধাঁধার চর হচ্ছে একটি উপযোগী জায়গা। বরই বাগান থেকে নিজের হাতে বরই ছিড়ে খাওয়ার মজাই আলাদা। ছোট ছোট বরই গাছ, মাটিতে দাঁড়িয়েই নিজের ইচ্ছামতো বরই ছেঁড়া যায়।

খোলা কাগজ এগারজনের সদস্য হালিম খান, কাউছার, জুয়েল, আলমগীর, মাসুদ, মুকদাদুল, জাহিদুলসহ আমরা প্রায় ১৫ জন বনভোজনের জন্য যাত্রা শুরু করলাম।
নদীর তীরে পৌঁছে কাউছারের ছোট নৌকা দিয়ে দুবারে আমরা নদী পার হলাম।

সবাই দল বেঁধে হাঁটছি আর আশপাশের সব পেয়ারা গাছের দিকে তাকিয়ে আছি। যখনই চোখে পেয়ারা পড়ছে তখন সকলে লাফিয়ে গাছে উঠে পেয়ারা ছিঁড়ে আনছে আবার কেউ কেউ নিচ থেকেই ঢিল ছুড়ে মারছে। এভাবেই পুরে চর ঘুরার পর যখন বিকাল ঘনিয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো তখন আমরা সবাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা শুরু করলাম।

সভাপতি, এগারজন
কাপাসিয়া, গাজীপুর