অপরূপ সৌন্দর্যের খৈয়াছড়া ঝরনা

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অপরূপ সৌন্দর্যের খৈয়াছড়া ঝরনা

আজহার মাহমুদ ১২:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৯

print
অপরূপ সৌন্দর্যের খৈয়াছড়া ঝরনা

ছুটির দিন। কার না মন চায় বেড়াতে? তাই বন্ধুরা ঠিক করলাম খৈয়াছড়া ঝরনা দেখতে যাব। যে-ই ভাবা সেই কাজ। সবাই মিলে গাড়ি ঠিক করলাম। চট্টগ্রামের একে খান থেকে একটি বাসে উঠলাম।

যেখানে গাড়ি নামিয়ে দিয়েছে সেখান থেকে খাবারের হোটেল পর্যন্ত পৌঁছাতে আরও পাঁচ মিনিট হাঁটতে হবে। এরপর এসব হোটেলে দুপুরের খাবার অর্ডার করে যেতে হয়। মোবাইল, ব্যাগ সবকিছু হোটেলের লকারে জমা রেখে যেতে পারবেন। আমরাও তাই করেছি। এরপর শুরু হলো মূলপর্ব। হোটেলের লোকজনকে জিজ্ঞেস করলাম এখান থেকে ঝরনার কাছাকাছি যেতে কতক্ষণ লাগবে? ওনারা বলেন, দ্রুত গেলে আধা ঘণ্টা লাগবে। এরপর আমরাও দ্রুত ছুটতে লাগলাম।

যত যাচ্ছি তত কঠিন পথ। তবে প্রথম ঝরনাটা নিচে বলে সবাই একটু কষ্ট করলেই দেখতে পারে। এরপরের ঝরনাগুলো দেখতে হলে অনেকটা ঝুঁকি নিতে হবে। কারণ দ্বিতীয় ঝরনা থেকে সবগুলো পাহাড়ের ওপর। যত উঁচুতে যাবেন তত ঝরনা। বৃষ্টির দিন সবকিছু পিচ্ছিল। প্রথম ঝরনায় প্রচুর মানুষ। কারণ এতটুকুই আসে বেশির ভাগ মানুষ। পর্যটকদের ৯৫ শতাংশ এখান থেকেই তৃপ্তি নিয়ে ফিরে যায়। তবে প্রথম ঝরনাটা দেখতে বেশ। আকারেও বড় মনে হচ্ছে। ঝরনার পানির গতি প্রচুর। মানুষও অনেক। বেশ উৎসব উৎসব মনে হচ্ছে। আমার সঙ্গে এসেছে দশজন। যার মধ্যে চারজন সিদ্ধান্ত নিলাম বাকি ঝরনাগুলো দেখব। অন্যরা সাহস করতে পারছে না। কয়েকজন পাহাড়ের অর্ধেক উঠে আবার ফেরত গিয়েছে।

যাই হোক ওখান থেকে আমাদের খৈয়াছড়া ঝরনার মূল ট্র্যাকিং শুরু করতে হলো। পাহাড়ের গাছগুলোর সঙ্গে মোটা মোটা রশি বাঁধা রয়েছে। রশিগুলো দেখে বোঝা যাচ্ছিল অনেক পুরনো। নিচ থেকে সেই রশিগুলো ধরে ধরে উঠতে থাকলাম উপরে। কিছুপথ উঠে দেখি আর রশি নেই। এরপর বাঁশ আর গাছ ধরে ধরে উঠতে থাকলাম। উঠতে উঠতে হাঁফিয়ে গেলাম। মাঝপথে একটু জিরিয়ে নিলাম। এরপর আরও উপরে উঠলাম। মানুষের হাঁটার চিহ্ন দেখে বুঝতে পারলাম ঝরনা আশপাশেই আছে। একটু পর ঝরনার পানির শব্দ। খুশিতে লাফাচ্ছি। ঝরনার কাছে গেলাম। পানিতে ভিজলাম। প্রকৃতিটাও বেশ সুন্দর। পাহাড়ের অনেক উপরে। এখানেও দেখলাম ৫/৬ জন ছেলে। ওরা এসেছে কুমিল্লা থেকে। ওদের জিজ্ঞেস করলাম, এটা কয় নম্বর ঝরনা? ওরা বলল, পাঁচ নম্বর ঝরনা। আমরা তখন অবাক। তাহলে বাকিগুলো কি ফেলে এলাম! এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আর উপরে যাব না। নিচে নেমে পরের ঝরনাগুলো উপভোগ করে বাড়ি ফিরব। নিচে নেমে পেলাম চতুর্থ ঝরনা। এখানে অনেকটা সময় ছবি তুলেছি। তবে চারপাশে বেশ অন্ধকার অন্ধকার। একা থাকলে যে কেউ ভয় পাবে দিনের বেলায়ও।

চতুর্থ ঝরনা থেকে তৃতীয় ঝরনায় নামতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। নামার অবস্থা নেই বললেই চলে। আর পাহাড়ের মাটিগুলো মাটি না বলে পাথর ভললেও ভুল হবে না। খুব কষ্টে তৃতীয় ঝরনায় আসলাম। এখানকার প্রকৃতি উপভোগ করলাম। তবে এ ঝরনার পানিগুলো বেশ ঠা-া। চারপাশের দৃশ্য ছিল অসাধারণ। পাহাড়ের ওপর থেকে পুরো শহরটা কত সুন্দর লাগছে সেটা বলে বোঝানো যাবে না। এরপর নিচে নামতেই পেলাম দ্বিতীয় ঝরনা। দেখেই মন জুড়ালো। দ্বিতীয় ঝরনায় বেশ কয়েকটি ছবি তুলে নেমে এলাম সেই প্রথম ঝরনায়। যেখানে সবাই রয়েছে। নিচে নেমে ভাবছি, সৃষ্টির্কতার কি সুন্দর সৃষ্টি। কি অদ্ভুত! আমাদের চারপাশে কত সুন্দর স্থান রয়েছে। আমরা চাইলেও যা উপভোগ করতে পারি না। এরপর সবাই মিলে হোটেলে এলাম। বিকাল ৫টায় আমরা দুপুরের খাবার খেতে বসলাম। খাওয়া শেষ করে আবার সেই আগের কায়দায় বাড়ি ফিরে এলাম।

সভাপতি, এগারজন
ওমরগনি এমইএস কলেজ, চট্টগ্রাম