বজরা শাহী মসজিদ পরিদর্শনে এগারজন

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বজরা শাহী মসজিদ পরিদর্শনে এগারজন

আজহার মাহমুদ ১:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

print
বজরা শাহী মসজিদ পরিদর্শনে এগারজন

নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলাধীন বজরা ইউনিয়নে ১৮শ’ শতাব্দীতে বজরা শাহী মসজিদ নির্মিত হয়েছে। এটি মাইজদীর চারপাশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি। সম্প্রতি ওমরগণি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা এগারোজন ইতিহাস ঐতিহ্যের এই মসজিদটি ঘুরে দেখেন।

মোগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের রাজত্বকালে ১৭৪১-৪২ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি আমান উল্লাহ কর্তৃক নির্মিত হয়। ১৯১১ থেকে ১৯২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে বজরা জমিদার খান বাহাদুর আলী আহমদ ও খান বাহাদুর মুজির উদ্দিন আহমদ মসজিদটি ব্যাপকভাবে মেরামত করেছিলেন এবং সিরামিকের মোজাইক দিয়ে সজ্জিত করেছিলেন।

নোয়াখালীসহ সমগ্র বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচারে রয়েছে এর ঐতিহাসিক অবদান। দিল্লির মোগল সম্রাটরা অবিভক্ত ভারতবর্ষে ৩০০ বছরের অধিকাল রাজত্ব করেন। এ দীর্ঘ সময়কালে মোগল সম্রাটরা এবং তাদের উচ্চপদস্থ আমলারা বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ইমারত, মসজিদ নির্মাণ করেন, যা আজও স্থাপত্য শিল্পের বিরল ও উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে বিরাজমান। ২৯ নভেম্বর ১৯৯৮ থেকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বজরা শাহী মসজিদের ঐতিহ্য রক্ষা এবং দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য কাজ করছে। মসজিদটি বর্তমানে ভালো অবস্থায় সংরক্ষিত এবং এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সুরক্ষিত স্থানগুলোর তালিকাতে রয়েছে। আমাদের দেশের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এ মসজিদে এলেই দর্শনার্থীদের মন জুড়িয়ে যায়।

বাজরা শাহী মসজিদে ঢোকার পথ, মসজিদের মতোই এটি মোজাইক দিয়ে সজ্জিত করা। মসজিদের পূর্ব দিকে তিনটি দরজা রয়েছে, প্রতিটির ওপর অর্ধগম্বুজাকৃতির ভল্টের এবং মাঝে সরু মিনার রয়েছে। তিনটি দরজা বরাবরে কিবলা দেয়াল রয়েছে, যার অভ্যন্তরে তিনটি মেহরাব রয়েছে। মাঝের মেহরাবটি অন্য দুটির চেয়ে অপেক্ষাকৃত বড়।
এ ছাড়া উত্তরে ও দক্ষিণে একটি করে মোট ৫টি দরজা রয়েছে মসজিদে। এ মসজিদের অভ্যন্তরে বহু-শিখরের খিলান দ্বারা তিনটি ভাগে ভাগ করা। মসজিদের অভ্যন্তরীণ দুটি কক্ষ আছে, যা বহুখাঁজবিশিষ্ট আড়াআড়ি খিলান দ্বারা তিন ভাগে বিভক্ত। ছাদের ওপর তিনটি কন্দাকৃতির গম্বুজ আছে, যা অষ্টকোণাকার। এগুলোর শীর্ষ পদ্ম ও কলস চূড়া দ্বারা সজ্জিত। মসজিদটি আয়তাকার (১৬ মি. ৭.৩২ মি.), মসজিদটি উত্তর দক্ষিণে লম্বা। বাইরের চার কোনায় অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ রয়েছে। দরজা বাইরের দিকে অভিক্ষিপ্ত এবং দরজার উভয় পাশে সরু মিনার রয়েছে।

সভাপতি, এগারোজন
ওমরগণি এমইএস বিশ^বিদ্যালয় কলেজ।