ভয়ঙ্কর পাহাড়ে

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

ভয়ঙ্কর পাহাড়ে

শামীম শিকদার ১:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৩, ২০১৯

print
ভয়ঙ্কর পাহাড়ে

টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে। আগ্রহ খুব একটা নেই। পরিকল্পনাটা অনেক আগের তাই বের হতে হবে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে রাত সাড়ে ৮টায় আমরা ছয়জন জয়দেবপুর রেলস্টেশনে হাজির।

উদ্দেশ্য আমাদের পাহাড়, সমুদ্র ও উপত্যকায় ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে প্রাচ্যের রানী হিসেবে বিখ্যাত চট্টগ্রাম শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা। সকলের মন খুব উৎফুল্ল। পরীক্ষার আগে একটি ট্যুর হয়ে গেলে মন্দ কি? সবার মুখে যেন আনন্দের হাসি। হঠাৎ করেই সে হাসি থেমে গেল। ট্রেন মিস। আবার কখন ট্রেন আসবে স্টেশন মাস্টার বলতে পারে না। পরিকল্পনার পরিবর্তন। ট্রেন নয়, বাস-অটো ও সিএনজি দিয়ে ঢাকা বিমানবন্দরে গিয়ে চট্টগ্রামের ট্রেন ধরব। তড়িঘড়ি করতে করতে রাত ১০টায় চলে আসল ঢাকার উদ্দেশে একটি ট্রেন। কোনো সাত পাঁচ না ভেবেই আমরা দ্রুত ট্রেনে উঠে পড়লাম। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার সময় গল্প করতে করতে আমরা ক্লান্ত; তাই এখন ট্রেনে দাঁড়িয়ে আমরা খুব শান্ত। রাত বারোটায় এয়ারপোর্ট থেকে চট্টগ্রামের যাওয়ার জন্য আমরা ট্রেনে উঠি। ট্রেন জুড়ে তরুণদের উপস্থিতি। অনেকের সঙ্গে কথা হলো। আগামীকাল শুক্রবার। বেশির ভাগ মানুষই চট্টগ্রাম যাবে। ট্রেন সীতাকুণ্ডে ঢোকার সঙ্গে সারা রাতের ক্লান্তির কথা ভুলে উঁচু পাহাড়ের ওপর সবুজ প্রকৃতি দেখায় ব্যস্ত সবাই। ট্রেন থেকে নেমে প্রথমে আমরা উঠি সীতাকুগণ্ড পাহাড়ে।

সঙ্গে ব্যাগ ভর্তি পানি ও স্যালাইন। হাতে একটি লাঠি। পাহাড়ের পথ বেয়ে অর্ধেক ওঠার পর ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে মাটিতে বসে পড়ি আমরা। অবশেষে আমরা ছয়জনই মাটি থেকে ১২০০ ফুট উপরে পাহাড়ের মাথায় উঠি। ঢকঢক করে এক বোতল পানি খেয়ে নিলাম। পাহাড়ে ওঠা খুব কষ্ট। এক প্রকার ভয়ঙ্কর রকমের আনন্দও রয়েছে। চারপাশের সবুজের সমারোহ। সবুজের ভিতর দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ। আরেকটু উপরে উঠলেই মনে হচ্ছে মেঘগুলো ধরতে পারব। শত ক্লান্তির মাঝেও সবার হই-হুল্লোড়। এমন সময় খবর এলো একদল ডাকাত ৪০ জন পর্যটকের কাছ থেকে সব ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা সবাই আতঙ্কে। এক প্রকার ভয়ঙ্কর রকমের আনন্দ নিয়েই খাড়া সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলাম।

উদ্দেশ্য এখন খৈয়াছড়া ঝরনা। কাদামাখা পিচ্ছিল পথ দিয়ে লাঠির ওপর ভরসা করে ধীরে ধীরে আমরা এগুতে থাকলাম। সামনের দিকে যত এগুচ্ছি আনন্দটা তত বাড়ছে। অবশেষে দেখা মিলল কাক্সিক্ষত ঝরনার। এখন সবাই ব্যস্ত ঝরনার ঠাণ্ডা পানিতে শরীর ভেজানো নিয়ে। দীর্ঘ সময় শরীর ভেজানোর পর আমরা চলে গেলাম গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে। আবারও কাদা ও পিচ্ছিল পথ। পড়ে যাওয়ার ভয় কাজ করে। তবু সমুদ্র দেখার পিপাসায় সামনের দিকে এগুতে থাকলাম। ঝরনার স্বচ্ছ পানির পর এবার নামা হলো সমুদ্রের পানিতে। তখন পড়ন্ত বিকেল। আমরা সবাই ব্যস্ত আমাদের ব্যাগ গোছানো নিয়ে। চট্টগ্রাম থেকে বাস ঢাকার উদ্দেশে। ঘুমে ব্যস্ত সব ভ্রমণপিপাসু সৈনিক। এই অভিযানে অংশগ্রহণ করে এগারজন সভাপতি শামীম শিকদার, প্রচার সম্পাদক নাঈম সরদার, সদস্য আরফান শেখ, শামীম হাসান, তানজিদ, মেহেদী হাসান।

সভাপতি, এগারজন
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর।