দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই বদলে যাবে জীবন

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই বদলে যাবে জীবন

শাহিনুর ইসলাম ৩:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

print
দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই বদলে যাবে জীবন

পৃথিবীতে স্বপ্ন দেখে না, এমন কোন মানুষ নেই, বলতে গেলে একটি শিশু মায়ের গর্ভ থেকে স্বপ্ন দেখা শুরু করে, ঠিক তেমনি অপরদিকে একজন বৃদ্ধ তার মৃতু্যুর পূর্ব সময় অবধি স্বপ্ন দেখে, কারণ প্রত্যেকেই তার জীবনকে পৃথিবীর মাঝে ফুটিয়ে তুলতে চায়। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে যে স্বপ্নগুলো দেখি কিন্তু বাস্তবে কতজন-ই বা তার যথাযথ রূপ দিতে পারি!

এমন মানুষ খুব কম রয়েছে যারা তাদের স্বপ্নগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। কারণ আমাদের চিন্তাভাবনা সব সময় নেতিবাচক মনোভাব কাজ করে, আমরা মনে করি আমাকে দিয়ে কিছু হবে না, আমি কিছু পারবো না, লোকে কি বলবে, আমি মনে হয় সবার কাছে অপ্রিয়, বাস্তব অর্থে এগুলো কথা জীবনে কোন অর্থবহন করে না, আমাদের চিন্তা ভাবনাগুলোকে আমাদের নিজেদের মতো করে ভাবা উচিত, যেমনটি একজন ‘মা’ তার সন্তানকে নিয়ে ভাবেন, মা তার সন্তানকে শত মন্দ, খারাপ অনুভূতিগুলোকে ভালো হিসেবে গ্রহণ করেন, ঠিক তেমনি আমাদেরও প্রয়োজন সব কিছুকে জীবনের ভালোভাবে গ্রহণ করা, পজিটিভ ভাবনায় নিজেকে তৈরি করা, তাহলে খুঁজে পাওয়া যাবে জীবনের অর্থবহ পূর্ণতা।

জীবন আপনার, তাই জীবনেকে আপনার মতো করে-ই ভাবতে শিখুন, অন্যের সাথে নিজের স্বপ্নকে তুলনা না করে নিজের স্বপ্নের সাম্রাজ্যকে বাস্তবে ফুটিয়ে তুলুন, সে জীবনে খুঁজে পাবেন আপনার হাসি মাখা মায়ের ভালোবাসার ছোঁয়া, খুঁজে পাবেন আপনার স্বপ্নের সাথে জীবনের বাস্তব রূপকথা।

উদাহরণ স্বরূপ, গ্রামীণ পরিবেশে থেকে বেড়ে উঠে আসা শিক্ষার্থীর কথা বলতে চাই, গ্রাম ও শহরের পার্থক্যটা আমরা যেভাবে প্রথমত উপলব্ধি করি, আমরা মনে করি একজন শিক্ষার্থী যখন গ্রাম থেকে শহরগামী হয়, অর্থাৎ গ্রাম থেকে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থী যখন প্রথমে শহরে আসে, তাকে সাধারণত বোকা মনে করা হয়, মনে করা হয়, সে তো অজপাড়াগাঁ থেকে এসেছে তাকে দিয়ে কি হবে! কিন্তু সময়ের সাথে সেই শিক্ষার্থী নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলে, যা শহরের মানুষের ভাবনাগুলো পিছনে ফেলে সামনে জীবন যুদ্ধে নিজেকে তৈরি করে। কারণ ছেলেটির ভাবনা ছিল ইতিবাচক, সে কখনো তার জীবনকে অন্যের মতো করে দেখেননি, দেখেছেন তার মত করে, নিজস্ব ভাবনায়, ইতিবাচক অর্থে। এভাবেই হাজারো গ্রামীণ জনপদের শিক্ষার্থীদের গল্প থেকে তৈরি হয়েছে হাজারো স্বপ্নের সূতিকাগার। যার মূল কারণটা হচ্ছে পজিটিভ ভাবনা।

এছাড়া আমরা যদি লক্ষ্য করি, বাংলাদেশের ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যার মধ্যে অন্যতম একজন- ড. আতিউর রহমান, যিনি রাখাল বালক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের (সাবেক) গভর্নর।

দিয়েছেন পান-বিড়ির দোকান। তিনি মনে করেন বড় হতে ধন নয়, লোকবলও নয়, বরং দরকার চেষ্টা-সাধনা আর একটা সুন্দর স্বপ্ন।

এছাড়াও ভারতের নরেন্দ্র মোদি যিনি রেলস্টেশনে চা বিক্রেতা থেকে হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের ইতিহাসে এমন হাজারো মহান ব্যক্তি রয়েছেন, যারা সংগ্রামী জীবনের মধ্যে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলেছেন।

শুধু তাই নয়! নিজেকে নিজের মতো করে তৈরি করুন এবং মানুষকে ভালবাসতে শিখুন- একদিন দেখবেন আপনি নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন, কারণ আপনার ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা যেমনটা আপনার জীবনকে পরিবর্তন করবে, ঠিক তেমনি আপনার দ্বারা পরিবর্তিত হবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম, সমাজ, সমগ্র দেশ তথা আমাদের আগামীর এই পৃথিবী।

আমি মনে করি নিজেকে কখনো কারো সাথে তুলনা করো না, আপনি যেমন কারো মতো হতে পারবেন না, ঠিক তেমনি একইভাবে কেউ আপনার মতো হতে পারবে না, কারণ আপনি তো শুধুই আপনি। তাই আপনার/আমাদের অবস্থান যাই হোক না কেন, আমরা যদি নিজেকে নিজে গ্রহণ করতে পারি, সারা পৃথিবী আমাদের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হবে, যার শুরুটা করতে হবে একেবারে নিজের ভেতর থেকে...যা আমার, আপনার, স্বচ্ছতা, উদ্যমী, সাহসিকতা, সৃজনশীল চিন্তা শক্তির মাধ্যমে।

সুতরাং আমাদের সকলের ভাবনাটা সব সময় পজিটিভ হওয়া উচিত, কথায় একটি প্রবাদ রয়েছে ‘চেঞ্জ মাইন্ড চেঞ্জ লাইফ’ অর্থাৎ দৃষ্টিভঙ্গি বদলান বদলে যাবে জীবন।

সহ-সভাপতি, এগারজন
রাজশাহী কলেজ।