মেরুদণ্ডহীন শিক্ষা

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

মেরুদণ্ডহীন শিক্ষা

আজগর আলী ২:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

print
মেরুদণ্ডহীন শিক্ষা

ছোটবেলা থেকে আমরা একটা কথা শুনে এসেছি শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। একটা জাতিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে হলে সেই জাতিকে শিক্ষিত হতে হবে। কিন্তু আসলেই কি শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড?

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তো সুশিক্ষার উপযুক্ত নয়। এরপর আমি হয়ে যায় সমাজের জন্য বোঝা। সমাজের কারো কাছে আমার গুরুত্ব থাকে না। একদিকে মনের মতো চাকরি পাই না অন্যদিকে নিম্নমানের কাজ করতে আমার বিবেক বাধা দেয়, কারণ আমি তো শিক্ষিত। জীবিকার তাগিদে চলে যায় অন্ধকার জগতে। আমার শিক্ষা তখন আমার কাছে সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে যায়। সুশিক্ষার অভাবে চুরি, ডাকাতি, মারামারি, খুন, অন্যায়, ধর্ষণ, নির্যাতন, শোষণ ইত্যাদিতে লিপ্ত হয়।

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড-এ কথাটা বাংলাদেশ ব্যতীত বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের জন্য সঠিক। বাংলাদেশের জন্য এ প্রবাদটা সঠিক নয়। আজ আমাদের দেশে যে দিকে তাকাবেন সে দিক থেকেই হতাশ হতে হবে আপনাকে। কি হচ্ছে এই দেশে? আমাদের দেশে এখনো ভালো মানুষ আছে, কিন্তু তার সংখ্যা তো খুবই কম তারা তো খারাপদের সাথে টিকে থাকতে পারছে না। অনার্স মাস্টার্স শেষ করেও যখন চাকরি হয় না, তখন বিদেশ গিয়ে কারিগরি জ্ঞানের অভাবে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছে। আবার যারা বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা নিয়েও দেশে মূল্যায়ন পাচ্ছে না তারাও চলে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে।

যখন স্কুলে পড়তাম, পড়া না পারলে কোন কোন শিক্ষক শাস্তি দিত। তবুও উনার পড়া শিখা হতো না। কিন্তু কোন এক শিক্ষক আছে পড়া না শিখলে যিনি মাথায় হাত বুলিয়ে বলতো পড়া শিখনি কেন বাবা? বাবা এভাবে পড়া না শিখলে তুমি তো জীবনে ভালো কিছু করতে পারবে না। তুমিই তো একদিন এই দেশ চালাবে, তুমি যদি পড়া ফাঁকি দাও তাহলে তো তোমার দ্বারা সে কাজ হবে না। তোমার বাবা মা তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে এরকম আরও অনেক কথা বলে বুঝাতো। তখন মন মানসিকতার হয়ে যেত পরিবর্তন। পড়তে বসলে ঐ শিক্ষকের পড়াই আগে শিখা হতো।

এটা বলার কারণ হচ্ছে আমাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। আর একজন মানুষের মনমানসিকতা পরিবর্তন হতে পারে নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে। শুধু শাস্তি দিয়ে অন্যায়কে প্রতিহত করতে পারবেন না। আপনি একজন মানুষকে নৈতিক শিক্ষা দেন তার ভিতর মূল্যবোধের সৃষ্টি করেন দেখবেন তার জন্য অন্যায়ের দরজা তালা মারা।

নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সচেতনতা, সামাজিক দায়বদ্বতা এগুলো আসে পরিবার তথা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এগুলো কতটুকু সংযুক্ত আছে তা দেখলে অবাক হতে হয়। বর্তমানে যতটুকু যুক্ত তা যথেষ্ট নয়।

আরো বহু গুণে এই ধরনের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে অন্যান্য বিষয়ের সাথে নৈতিক শিক্ষা নামে আলাদা বিষয় যুক্ত করতে হবে। অন্যায় দেখলেও প্রতিহত করে না। আচার-ব্যবহার হয় অশিক্ষিত লোকের মতো। আজকাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নতি তো এদের উপর নির্ভর করে। কিন্তু এরা কিভাবে দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে? পত্রিকা খুললেই প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে ধর্ষণের খবর। স্কুল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের হাতে ছাত্রী ধর্ষণ হয়। যে শিক্ষক পিতামাতার সমতুল্য সেই শিক্ষকের কাছে এখন ছাত্রীরা নিরাপদ না। কারণ ঐসব শিক্ষক শিক্ষিত কিন্তু সুশিক্ষিত নয়। সুতরাং শিক্ষা নয়, সুশিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সে জাতিকে অবশ্যই সুশিক্ষিত হতে হবে।

সাংগঠনিক সম্পাদক, এগারজন
সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম।