ডেঙ্গু মতিন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

ডেঙ্গু মতিন

ছাদির হুসাইন ছাদি ৩:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

print
ডেঙ্গু মতিন

মতিন ওরফে ডেঙ্গু মতিন, যদিও নামটা শুনতে একটু হাস্যকর বা বিষাক্ত সে কিন্তু তার কোনোটাই নেই। তার নামকরণের কারণ হচ্ছে, ছোট একটি গল্প। যেমন মতিনের বয়স ২১ বছর লেখাপড়া শেষ করে কোনো চাকরিও করছে না, একদম বেকার। একদিন মতিন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়, যাওয়ার সময় একটি মন্দির আছে সেই মন্দিরের পাশে কয়েকটি দোকানপাটও রয়েছে। একটি দোকান থেকে মতিন তার মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড দিয়ে যাওয়ার সময় দেখে একটি মেয়ে মন্দিরের সামনে একা-একাই দাঁড়িয়ে কি যেন দেখছে। সেই সময় হঠাৎ মতিন গিয়ে হাজির। মেয়েটির পিছন থেকে মতিন বলছে, হায়....হায়....হায়। কিরে মেয়েটা কথা বলছে না কেন। এই-যে আপনি কী আমার কথা শুনছেন না।

নাকি শুনেও না শোনার ভান করছ। মেয়েটা বলে জি আপনার কথা আমি একদম ক্লিয়ার শুনতে পারছি, কি হয়েছে বলুন? আপনি এই ভরদুপুরে এই মন্দিরে একা-একা কী করছেন? আপনার কী খুবই ইচ্ছে হচ্ছে শুনতে, যে আমি এখানে কী করছি? জি অবশ্যই। তাহলে শুনুন, আমি ভাবছি এই মন্দিরটা ভেঙে একটি পাগলা গারদ বানাবো। কেন?

এই কারণে বানাবো যে আপনার মতো কিছু পাগল আছে এই অত্র এলাকায় ওদের কে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন, আমি হবো সব পাগলের ডাক্তার। এবার বুঝতে পারছ কেন আমি এখানে একা-একা বসে আছি? জি বুঝতে পারছি। কিন্তু পাগল তো আমি না, আসল পাগল তো তুমি! মেয়েটা বলে, ও আচ্ছা তা কেন আপনার কাছে এমনটা মনে হলো? তুমি একটি তরতাজা মন্দির ভেঙে পাগলা গারদ তৈরি করবে চিন্তা করতেছ, আবার বলছো আমি না-কী পাগল। এই মেয়ে এই তোমার মতলবটা কী বলো তো? কোথায় থেকে আসছো তুমি বলো? এই কথার বলার সাথে সাথে হঠাৎ দেখা গেলো ৫-৭ জন লোক মন্দিরের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে। এসে বলছে, কিরে শাপলা কী হয়েছে? উনি কে? শাপলা বলছে না কিছু হয় নাই, আর উনি হচ্ছেন একজন পাগল।

মতিন খুব রেগে গিয়ে বলছে, দেখুন আপনি কিন্তু আমাকে প্রথম থেকেই অপমান করে আসছেন। শাপলা বলছে ঠিক আছে জনাব আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত, আর আপনাকে পাগল বলবো না, এবার আসুন আমরা আমাদের পরিচয়টা যেনে নেই। মতিন বলছে ঠিক আছে আর পরিচয় লাগবে না, এবার আমি আসি। শাপলা বলছে শুনুন প্লিজ আপনি রাগ করবেন না, আমি আপনাকে নিয়ে এমনিতেই একটু মজা করছিলাম। মতিন বলছে শাপলাকে, আপনি কী করেন? শাপলা বল্লো আমি সত্যিকারেই একজন পাগলের ডাক্তার, আপনি কী করেন? মতিন বল্লো আমি লেখাপড়া শেষ করে এখনও কোনো কাজে লাগিনি তবে আশা করি আগামীতে কিছু একটা করবো। এই বলে সবাই উঠে পড়লো। মতিন শাপলা ও শাপলার সাথের সবার কাছ থেকে বিদায় নিলো। তারপর প্রায় ২ মাস পর যা হলো। হঠাৎ করে মতিন অসুস্থ হয়ে পড়লো, প্রায় ৬/৭ দিন যাবত কিছুই খেতে পারছে না। মতিন কে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গেলো তার এক বন্ধু, তুহিন। ডাক্তারের রিপোর্টে প্রকাশ হলো মতিনের ডেঙ্গু হয়েছে।

ডেঙ্গু জ্বরের তেমন একটা চিকিৎসাও করা হয়নি, কিছু ওষুধ নিয়ে চলে এলো বাড়িতে। মতিন রাতে ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়লো, সকালে ঘুম থেকে উঠে, হঠাৎ মতিনের পাগলামি শুরু করলো, ঘরের জিনিসপত্র ভাংচুর করছে, যাকে পাচ্ছে থাকেই মারধর করতেছে। সবাই মতিন কে ধরে বেঁধে ফেলে, তারপর ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়, আর সেই ডাক্তার হচ্ছে শাপলা, শাপলা মতিনকে দেখে হঠাৎ দিশেহারা হয়ে গেলো, কী হয়েছে উনার? মতিনের সাথের লোকজন বলছে, কিছুদিন আগে ডেঙ্গু জ্বর হয়েছিল, গতকাল রাতে ওষুধ খেয়ে ঘুমালো সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু করলো পাগলামি। তারপর যা হলো। মতিনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে কিন্তু কোনো ভালো ফলাফল আসছে না। এভাবেই মতিনের চিকিৎসা প্রায় ৩ মাস যাবত একটানা চলছে, তিন মাস পর ডাক্তার শাপলাসহ আরো যারা ছিলেন, তারা সবাই মতিনের আত্মীয়দের ডেকে বলছেন, মতিনের আর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, আপনারা রোগীকে নিয়ে যান। মতিন এখন সারা দিন গ্রামের এপাশ থেকে ওপাশে দৌড়াদৌড়ি করে। এলাকার লোকজন তাকে ডেঙ্গু মতিন বলেই ডাকে।