দু’মুখো মানুষ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

চারাগল্প

দু’মুখো মানুষ

জেলী আক্তার ২:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

print
দু’মুখো মানুষ

-হ্যালো অর্না?
কে বলছেন?
-তার খুব পরিচিত একজন।
বলুন কি বলবেন আমি অর্না। তোর বান্ধবী বলছি।
-কি রে আমাকে চিনতে পারিসনি আমি নীলা বলছি কয়েক মাসের ব্যবধানে ফোন নাম্বারটাও ডিলিট করে দিয়েছিস।
আসলে আমি এখন অফিশিয়াল কাজে ব্যস্ত আপনি একটু পরে ফোন করুন।
এই বলে ফোনটা কেটে দিল।

অথচ কয়েক মাস আগেও এত পরিবর্তন ছিল না তবে অর্না কয়েক মাস আগে সরকারি চাকরি পেয়েছে স্যালারি ভাল, নামি দামি পদ সব মিলিয়ে রাজকীয়ভাবে চলছে সব।

একটু পর আবার ফোন দিলাম,
-কি রে এখন সময় আছে?
হ্যাঁ বলেন।
-আগামী মাসে আমার বিয়ে তুই অবশ্যই তিন দিন আগে আসবি?
শোনেন আমার কি কোন কাজ নেই আপনার বিয়ে বলে আমি আদা জল খেয়ে উঠে পরে নাচবো নাকি? আজব তো।
-ওহ দুঃখিত ভালো থাকবেন।

তারপর ফোনটা কেটে দিলাম তার পর থেকে চোখে এত পরিমাণ জল ঝরছে যেন বিখ্যাত জলপ্রপাত নায়াগ্রা ঝরছে।
কারণ যে মেয়েটা বলতো বিয়ের এতদিন আগে যাবো এটা দেবো ওটা দেবো এটা করবো ওটা করবো আজ তার মুখে এত তেতো কথা। আজ সম্পর্কটা আজ আপনিতে পরিণত হলো, যেখানে জোর খাটে না।
এই তো সেদিন বলেছিল,
ঘরের কোণায় কোণায় মাকড়সার জাল।
ইশ এত অগোছালো কেন তুই?
-আরে মাকড়সা মশা খাবে তখন কয়েলের বিষাক্ত ধোঁয়া তখন নিতে হবে না বুঝলি।
হইছে আর বলতে হবে না এমন করে চললে তোর স্বামীর বাড়ি থেকে প্রতিদিন অভিযোগ আসবে এই আমি বলে দিলাম দেখিস। আর সব অভিযোগ আমি মিটিয়ে দেবো চিন্তা নেই। আরে রাখ ওসব কথা এখন কি খাবি বল?

তেমন কিছু না এক কাপ চা করে আন লেবু চা। দেখি কেমন পারিস। আচ্ছা অপেক্ষা কর পাঁচ মিনিটে আসছি, এই বলে বসিয়ে রেখে রান্না ঘরে চলে গেলাম। আকাশে কালো মেঘ জমেছে, হালকা হাওয়া বইছিল ভেতরে প্রিয় মানুষ অপেক্ষা করে আসে সব মিলিয়ে মনের ভেতর অন্যরকম অনুভূতি খেলা করছিল সেদিন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এত পরিবর্তন যেন আজকাল প্রিয়জনকেও মনে হয় দুমুখো মানুষ।

সদস্য, এগারজন
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, কুড়িগ্রাম।