মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

আলগী তারিনী ভূইয়াবাড়িতে এগারজন

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান

মাধবদী

খন্দকার শাহিন ১২:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

print
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান

নরসিংদীর মাধবদীতে পুরনো ঐতিহ্য আখড়ে ধরে রাখতে আলগী তারিনী বাবুর ভূইয়া বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচর্যা, জমির পরিমাণ সংরক্ষিত করে প্রাচীর নির্মাণ অতি জরুরি। সেই সাথে একটি মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার পাঠক ফোরাম ‘এগারজন’ মাধবদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা কমিটি। গত মঙ্গলবার বিকালে, মাধবদী থানা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও খোলা কাগজের জেলা প্রতিনিধি খন্দকার শাহিন, এগারজন সংগঠনের মাধবদী কলেজ শাখার সভাপতি আহামাদুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন সাদ্দাম পরিদর্শন করেন। সঙ্গে ছিলেন সহ-সভাপতি কাউছার আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য ইয়ানুর, ফাহাদ বাদশা, এস এ সিফাত, আরফি, জয়, শুক্কুর আলী প্রমুখ।

বিভিন্ন বই পুস্তক থেকে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় পাঁচশত বছর পূর্বে বর্তমান নরসিংদী সদর উপজেলার নুরালাপুর ইউনিয়নের আলগী গ্রামকে কেন্দ্র করে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ও আশপাশে বসতি গড়ে উঠে। এ এলাকায় মহেশ্বরদী পরগনার অধীনে ছিল-যা দীর্ঘদিন ঈশা খাঁ ও মোগলরা রাজত্ব করতেন। ওই সময় আলগী গ্রামে বসতি গড়ে তোলেন তারিনী বাবুর পূর্ব-পুরুষ যার একজনের সম্ভবত নাম বানেশ্বর। তারিনী বাবু ভূইয়ারা তিন ভাই ছিলেন আশ্বিনী কুমার ভূইয়া ও সতীশ ভূইয়া। ১৯৫০ সালে পূর্বে তৎকালীন সময়ে প্রচুর ধনদৌলত ও জমি-জমার মালিক ছিলেন তারা। তাই নামের শেষে তালুকদার ও ভূইয়া নাম সংযুক্ত থাকতো।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধকালীন পরিত্যক্ত বাড়িতে ছিল মুক্তি বাহিনীর আস্তানা। যুদ্ধ চলাকালীন ১৬ অক্টোবর পাক হানাদার বাহিনী আলগী গ্রামে তারিনী বাবুর ভূইয়াবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সেখানে অবস্থানরত ছয় মুক্তিযোদ্ধাকে একটি কাঁঠাল গাছে বেঁধে গুলি করে ও বেয়নেটের আঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এলাকাবাসীর দাবি তারিনী বাবু ভূইয়াবাড়ির প্রাচীর নির্মাণ করে দৃষ্টিনন্দন ও একটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর করতে হবে।