নামহীন অস্তিত্ব

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নামহীন অস্তিত্ব

তানিয়া ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০১৯

print
নামহীন অস্তিত্ব

একটা ক্লাসের মধ্যে কতটা কোলাহল থাকে ধারণা করা যায়? এই কোলাহলের মাঝামাঝি জায়গায় একটা মেয়ে বসে থাকে, কোলাহল তাকে স্পর্শ করে না, চোখ বন্ধ করে যখন সে স্থির হয়ে বসে তখন তার দুচোখ বেয়ে পানি পড়ে, থমকে দাঁড়ায় গালের ওপর আবার পড়ে। তখন একজন প্রিয় মানুষ তার পাশে এসে বসে, মাথায় হাত রাখে, মেয়েটা আস্তে করে মাথা এলিয়ে দেয় তার কাঁধে। সব যন্ত্রণা একটু একটু করে যখন চলে যায়, তখন সে মাথা তুলে বসে, স্যার আসে ক্লাসে, মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করে মেয়েটি।

সন্ধ্যেবেলা আলো আঁধারের মাঝামাঝি সময়টা, যখন পাখিরা ঘরে ফেরে দলবেঁধে, জানালা দিয়ে আকাশ দেখে নীরা। এই সময়টা তার খুব ভালোলাগে। কিন্তু অন্ধকার হয়ে এলে জানালা বন্ধ করে দেয় সে, অন্ধকার খুব অপছন্দ তার। আলো জ্বেলে শাড়ির কুচিগুলোকে ঠিক করে আয়না নিয়ে বসে, একটা টিপ পরে কপালে, একটা ফুল গুঁজে দেয় খোঁপায়, চোখে খানিকটা কাজল। আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকে সে, নিজের প্রতিবিম্বের সঙ্গে অনেক কথা হয় তার। সহসা চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রু, ফুঁপিয়ে কাঁদে নীরা। চোখের কাজল মাখা কালো জল কপোল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে, নিঃশব্দে পাশে এসে বসে প্রিয় মানুষটি, আলতো করে ছুঁয়ে দেয় নীরার মুখ, প্রিয় মানুষটিকে জাপটে ধরে অবিরাম কাঁদে নীরা, ভিজে যায় শার্ট, ধীরে ধীরে কান্না থেমে আসে, শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে আয়নায় তাকায় আবার, হয়তো একটুখানি হাসিও ফুটে ওঠে ঠোঁটের কোণে।

রাত্রি দ্বিপ্রহরে যখন ঘুম আসে না নীরার, কলম নিয়ে বসে, লেখার মাঝেই আচমকা চলে আসে তার লেখার চরিত্র, ডায়রি থেকে উঠে এসে আলো নিভিয়ে পাশে বসে, তার মৌনতার মধ্যেই আদেশ থাকে- এখন সবাই ঘুমুচ্ছে নীরা, তোমাকেও ঘুমাতে হবে। চুপচাপ শুয়ে পড়ে নীরা, মাথায় অনুভব করে বিশ্বস্ত হাতের স্পর্শ, এলোচুলে বিচরণ করে অবাধ্য আঙ্গুল।

বৃষ্টি নীরার খুব পছন্দ, ঝুম বৃষ্টি নামলেই ভিজতে নামে নীরা, দুহাত ভরে জল নিয়ে শূন্যে ছুড়ে দেয়, চাঁদনী রাতের বৃষ্টির ফোঁটাগুলো অদ্ভুত হয়, সাদা শাড়িতে খালি পায়ে নীরা উঠোনজুড়ে হাটে। শাড়ির আঁচল লুটোপুটি করে মাটিতে, আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে নীরা। বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা অবিরাম ঝরে তার শরীর জুড়ে। চোখ বন্ধ করেও পরিষ্কার দেখতে পায় নীরা ধীর পায়ে সামনে এসে দাঁড়ানো তার প্রিয় মানুষ, বৃষ্টির ফোঁটার মত একটুখানি স্পর্শ রেখে যায় তার কপালে। কল্পনার প্রিয় মানুষ সাধারণত সুন্দর নামের অধিকারী হয়। নাম সুন্দর না হলেও কল্পবালিকার খুব প্রিয় হয় সে নাম, নীরার কল্পনার প্রিয় মানুষের কোনো নাম নেই। নীরার মনে হয় বাস্তবের কোনো মানুষের সঙ্গে এই কল্পনার চরিত্র গুলিয়ে ফেলায় কোনো পাপ নেই, তপু নামের মানুষটার সঙ্গে তার কল্পনার মানুষটার খুব মিল, কল্পনার মানুষটার চেহারা স্পষ্ট দেখা যায় না, কিন্তু নীরার খুব মনে হয় তারা দুজন এক। আচ্ছা নীরা যদি বাস্তবের এই মানুষটাকেই ভেবে নেয়, সেটা কি তার অপরাধ হবে? একটা নাম তো খুব দরকার ; তাই না?

সদস্য
এগারজন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।