ফিরছি

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

ফিরছি

হাবীব আযাদ ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০১৯

print
ফিরছি

বেশ ক’দিন যাবৎ অপেক্ষায় আছি। ক্যাম্পাস ছুটি হচ্ছে কবে! ঐ দিকে মা অপেক্ষায় ছেলে বাড়ি ফিরছে! অপেক্ষমাণ আরও অনেকেই। তাদের সঙ্গে বাবা তো আছেনই। বেশ কিছুদিন হলো ছুটি কাটিয়ে শহরে ফিরেছি। এরপর আর যাওয়া হয়নি বাড়িতে। মা-বাবা, ভাই-বোনসহ প্রায় সবাই গ্রামেই থাকে। হাজারও স্মৃতি রয়েছে পুরো গ্রামজুড়ে।

শহরের ব্যস্ত জীবনের মাঝে ও এসবের মায়া বেশ টানে। তবুও সবসময় সুযোগ হয়ে ওঠে না। বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে রয়েছি, তবুও সবার সঙ্গে যোগাযোগ হয় ঠিকঠাক। পরিবার জানতে চায় আমার সম্পর্কে, আর আমি তাদের সম্পর্কে। মায়ের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে মায়ের আকুতি, কবে ফিরবি বাবা? বাড়ি ফেরার আগ পর্যন্ত এ যেন মায়ের নিয়মিত রুটিন। বাড়ি থেকে শহরে ফেরার দিন কয়েক যেতে না যেতে তার কাছে মনে হয়, অনেক দিন হচ্ছে যেন বাড়ি ফিরছি না। শত অজুহাত, তবুও মায়ের মনকে বুঝানো দায়। এমনটা হবে নাই বা কেন, প্রথম প্রথম অল্প ব্যবধানে বাড়ি যাওয়া হতো।

তবে সে অল্প ব্যবধানটুকু এখন হয়ে গেল যেন অনেক দূরত্ব। বিশেষ কোনো প্রয়োজন কিংবা উপলক্ষ ছাড়া তেমন যাওয়াও হয় না গ্রামে। এতে কি আর মায়ের মন ভরে! তাই তো সবার চেয়ে তার অপেক্ষা কিছুটা বেশি। অবশেষে আবারও এলো গ্রামে ফেরার পালা। উপলক্ষ ঈদুল আজহা। ঈদের বাকি অল্প ক’দিন। ক্যাম্পাসও ছুটি হয়েছে। সব অজুহাত কিংবা ব্যস্ততা পেরিয়ে যেতে হবে গ্রামের বাড়ি। সবার অপেক্ষা প্রিয়জন ফিরবে বলে। এদিকে আমার অপেক্ষা মা-বাবার সঙ্গে ভালোবাসার আলিঙ্গন হচ্ছে কবে! ঈদের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। যতদ্রুত সম্ভব বাড়ি ফিরতে চায়। ঈদের দিনগুলোও বেশ জমে ওঠে গ্রামে। নিজ প্রয়োজনে যে যেখানেই থাকুক না কেন, দিনগুলোতে একে একে সবাই এসে ঘরভর্তি করে। সবার মুখে ভিন্ন ভিন্ন অভিব্যক্তি, অনেকদিনের জমানো কথা, সঙ্গে আগত দিন নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ইত্যাদি।

এসবের টানে মন যে আর মানতে চাইছে না। অপেক্ষার প্রহর যেন শেষই হতে চাইছে না। অপেক্ষমাণ মিনিটগুলো মনে হচ্ছে যেন এক একটা দিনের সমান। এই তো শিগগিরই ফিরছি মা তোমার তরে।

সাংগঠনিক সম্পাদক
এগারজন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।