হারিয়ে যাচ্ছে মানবতা!

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

হারিয়ে যাচ্ছে মানবতা!

নাজনীন সুরভী ৭:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০১, ২০১৯

print
হারিয়ে যাচ্ছে মানবতা!

‘মানুষ যদিবা না হয় মানুষ,
দানব কখনো হয় না মানুষ।’
মাথার মগজ নাক অবধি গড়িয়ে এসেছে, বুকের হাড় ভেঙ্গে হৃৎপিণ্ড ঢুকে গেছে -সমস্ত অনুভূতি হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন একজন মা। কেবলই সন্দেহের বশবর্তীর শিকার হয়ে।

আমার ভারী অদ্ভূত লাগে পৃথিবীতে বিকৃত মস্তিষ্ক নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলোকে দেখলে। কখনো সে মগজ ঘুণে খেয়েছে কিংবা কখনো মগজ হয়েছে বিগলিত। ফলস্বরুপ সন্তান হারাচ্ছে জননীকে। সে সন্তান হয়তো শিক্ষা, মনুষত্ব, মেরুদণ্ড -এই শব্দগুলো শুনলেই কেঁপে উঠবে একদিন। শিক্ষার ভিত্তি দিতে গিয়েই তার মাকে প্রাণ দিতে হয়। শুধু একটা শব্দের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে- ‘সন্দেহ’!

ছেলেধরারা যদি থেকে থাকে নিঃসন্দেহে তারা সমাজে অপরাধী। কিন্তু তার চাইতেও বড় বড় চিহ্নিত অপরাধীরা সর্বত্র, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ন্যূনতম আঁচড় ওদের গায়ে কেউ কাটছে না। অথচ কোনো প্রমাণ ছাড়াই কেবল সন্দেহ করে পিটিয়ে মারা হয়েছে একজন মাকে। কি আশ্চর্য! তার চাইতেও আশ্চর্যের কথা এই কলিযুগে সর্বত্রই সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হচ্ছে শিশুরা। না, সময়টাকে কোনো দৈত্য-দানব কেড়ে নেয়নি, নিয়েছে মানুষরূপী অমানুষরা। হুমায়ুন আজাদ স্যার যথার্থই বলেছিলেন, সবকিছু একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে এবং যাচ্ছেও।

আমরা তলিয়ে যাচ্ছি কোনো অতল গহ্বরে সমস্ত বোধ-বুদ্ধি হারিয়ে। কোনো একদিন মানুষের সংখ্যাটা দাঁড়াবে বিলুপ্তপ্রায় শকুনের সংখ্যার সমান। আমরা অন্ধ হয়ে যাচ্ছি, বধির হয়ে যাচ্ছি। আমরা ক্ষেপে গিয়ে বাংলায় চিৎকার করতে ভুলে যাচ্ছি। আমাদের বিবেকের দরজার কড়া নড়ছে না। কিংবা কাঠগড়ায় কেউ দাঁড় করাচ্ছে না। চেতনা, বোধবুদ্ধি সবকিছু বিবেকের দরজার ওপাশে। বুদ্ধিভিত্তিক চিন্তাধারা ক্রমে লোপ পাচ্ছে। সমস্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বে গিয়ে ওরা আজ অমানুষ! কেবলই ঘৃণা, ধিক্কার! আমাদের বুকের ব্যথাটুকু আমাদের বুকেই রয়ে যায়।

সহ-সভাপতি
এগারজন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।