শহীদ মীর কাইয়ুমের অবদান জাতীয় পুরষ্কারের দাবি রাখে: অধ্যাপক বসাক

ঢাকা, রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

শহীদ মীর কাইয়ুমের অবদান জাতীয় পুরষ্কারের দাবি রাখে: অধ্যাপক বসাক

রাবি প্রতিনিধি
🕐 ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২১

শহীদ মীর কাইয়ুমের অবদান জাতীয় পুরষ্কারের দাবি রাখে: অধ্যাপক বসাক

ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক বলেছেন, 'শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুমের দেশের প্রতি আত্মবিসর্জনের মহান অবদান জাতীয় পুরস্কারের দাবী রাখে।'

শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুমের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত এক স্মরণসভায় এ কথা বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

স্মরণসভায় মূল আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক বলেন, সব শিশু জন্মগ্রহণ করেই কাঁদে, এটাই স্বাভাবিক। শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুম জন্মেছিলেন বিশেষ এক ব্রত নিয়ে, মানবতার সেবা দিতে। মনোবিজ্ঞান পড়েছিলেন ভালভাবে বোঝাপড়া করতে। মনকে শক্ত করতে বাংলাদেশের চরম সন্ধিক্ষণে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতাকামী কয়েক কোটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। কাইয়ূম ভাইও প্রগতিশীল চেতনায় শাণিত হয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার প্রত্যয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিদীপ্ত তৎপরতা অব্যাহত রাখেন।'

অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক আরও বলেন, শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ূম এক মানবতার প্রতীক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে মীর আব্দুল কাইয়ূমের মহান আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তুকে স্মরণীয় করার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ূম ডরমিটরি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শহীদ কাইয়ূম জ্ঞানত অবধারিত মৃত্যুকে অবজ্ঞা করে, অকৃপণ মনকে প্রসারিত করে মুক্তিযুদ্ধের কর্মধারায় যোগ দিয়েছিলেন। আমার মতে শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুমের দেশের প্রতি কর্তব্যের টানে আত্মত্মবিসর্জ্জনের মহান অবদান জাতীয় পুরস্কারের দাবী রাখে।

স্মরণসভায় মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবা কাজিজ কেয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্যদ্বয় অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম।

উল্লেখ্য, মীর আবদুল কাইয়ুম একজন মনোবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৬৬ সালে মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর কাইয়ুমকে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী তাঁর বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং জীবন্ত কবর দেয়।

 
Electronic Paper