অর্থসংকটে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১ | ৩ কার্তিক ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

অর্থসংকটে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

জিয়াউল গনি সেলিম, রাজশাহী
🕐 ১২:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১

অর্থসংকটে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

করোনায় অর্থসংকটে পড়া রাজশাহীর অনেক প্রাইভেট স্কুল-কলেজই শিক্ষা কার্যক্রমে আর ফিরতে পারেনি। বরং অনেকে ঘোষণা দিয়েই গুটিয়ে নিয়েছেন। এতে বেকার হয়েছেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীরাও হয়েছে ছন্নছাড়া। তবে কোনোরকমে টিকে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

রাজশাহী নগরীর পার্ক এলাকার স্যাপলিং হলি চাইল্ড স্কুল নামের কিন্ডারগার্টেনটি চলছে প্রায় ২০ বছর ধরে।

করোনায় দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে এখন স্কুল চালু হলেও আর তেমন শিক্ষার্থী নেই। কারণ দেড় বছর ধরে কোনো যোগাযোগই করা যায়নি শিশুদের সঙ্গে। বড়রা অনলাইনে ক্লাস করলেও ছোটদের ক্ষেত্রে তা করা যায়নি। নগরীর রায়পাড়ায় কয়েক বছর ধরে ইকরা স্কুল অ্যান্ড কলেজটি চলছিল ভালোই। কিন্তু করোনায় সবকিছুই হয়ে গেছে এলোমেলো। এখন এই ভবনে পড়ানো হয় প্রাইভেট। একই অবস্থা দেখা গেল কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার বরেণ্য স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ২০২০ সালে মার্চে করোনা পরিস্থিতিতে ছুটি দেওয়া হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর পর সারা দেশে স্কুল-কলেজ খুললেও এই প্রতিষ্ঠান আর চালু করা যায়নি। এভাবেই শিক্ষানগরীতে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই।

বরেণ্য স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক মিজানুর রহমান মিলন বন্ধ হয়ে যাওয়া কলেজের ভবনটি ঘুরে দেখান। এই ভবনের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে বসার বেঞ্চগুলো গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাতে বাসা বেঁধেছে মাকড়সার দল। ধুলোবালির আস্তরণ পড়েছে রেখে যাওয়া বই-খাতায়। শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে এখনো শোভা পাচ্ছে শিশু-শিক্ষার্থীদের জন্য আঁকা নানা ছবি ও অক্ষর। শ্রেণিকক্ষগুলোতে শুধু শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নেই।

মিজানুর রহমান মিলন বলছিলেন, ‘আশা করেছিলাম করোনা পরিস্থিতি হয়তো চলতি বছরের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের বিতরণের জন্য বইগুলো এনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু স্কুল আর খোলা যায়নি। বইগুলো পড়ে আছে। শিক্ষকরাও উপায় না পেয়ে জীবিকার তাগিদে পেশা বদল করেছেন। ভবন ভাড়া বাকি পড়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন কে কোথায় কারো খোঁজ নেই আর।

স্যাপলিং হলি চাইল্ড স্কুলের পরিচালক এম রেজাউল করিম জানান, করোনা দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বেতন নেওয়া হয়নি।

প্রতিষ্ঠানের আয় একেবারেই বন্ধ। ফলে কিস্তি করে ভবন ভাড়া পরিশোধ করেও এখনো বাকি পড়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। জানুয়ারির মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করতে না পারলে ভবন ছেড়ে দিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে না পারছি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে, না পারছি চালু রাখতে! কেবল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফি’র ওপর নির্ভরশীল থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই বিপাকে পড়েছে বলে জানান কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

রাজশাহী কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন বলেন, কেবল শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরশীল থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি বিপদে পড়েছে। করোনাকালে শিক্ষার্থী বিভিন্ন ফি ও বেতন নেওয়া যায়নি। এ কারণে করোনার পর বিভিন্ন স্তরের অর্ধশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন করে পাঠদানে আর ফিরতে পারেনি।

 
Electronic Paper